ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ইরানে শিয়াদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, নিহত ১৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শিয়াদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানান।

ইরানে একটি মাজারে বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বুধবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ ইরানের শিরাজ শহরে শিয়া ওই ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পর হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্থা আইআরএনএ’র বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার প্রথম দিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ শহরের শাহ চেরাগ মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত তিনজন সশস্ত্র লোক মাজারে প্রবেশ করার পরই সেখানে হামলা হয়।

হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে, তবে একজন এখনও পলাতক রয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস) নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকলেও বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, আমরা নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় বন্দুকের গুলি করার শব্দ শুনতে পাই। তখন গুলির শব্দ শুনে আমরা অন্য দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এমন সময় দেখি আমার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না কারা গুলি করছে রাস্তা থেকে (গুলিবর্ষণ) শুরু হয়েছিল এবং তারপর তারা মাজারের দিকে আসে এবং তারা যাকে দেখে তাকেই গুলি করে। আমি কয়েকজনকে আহত ও নিহত অবস্থায় দেখেছি, কিন্তু হামলাকারীদের দেখতে পাইনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীদ রাইসি এ হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর আমাদের শত্রুপক্ষ সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিচ্ছে। এসব শয়তানদের অবশ্যই কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তেহরান ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেন, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য ছিল ‘উপাসকদের ওপর হামলা’। তিনি বলেন, এটি একটি আইএসআইএস ট্রেডমার্ক – তারা মসজিদে হামলা করে, তারা মাজারে হামলা করে।

আল জাজিরার ডোরসা জাব্বারি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বলেন, শিরাজ শহরের এই মাজারটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

উল্লেখ্য, ইরানের শিরাজ শহর হলো তীর্থযাত্রা ও পর্যটনের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এর আগে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে এই ধরনের সর্বশেষ হামলা হয়েছিল। সেসময় একটি মসজিদে পেতে রাখা বোমায় ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরানে শিয়াদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, নিহত ১৫

আপডেট সময় : ১০:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শিয়াদের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪০ জন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা এ তথ্য জানান।

ইরানে একটি মাজারে বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বুধবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ ইরানের শিরাজ শহরে শিয়া ওই ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পর হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্থা আইআরএনএ’র বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার প্রথম দিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ শহরের শাহ চেরাগ মাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মূলত তিনজন সশস্ত্র লোক মাজারে প্রবেশ করার পরই সেখানে হামলা হয়।

হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে, তবে একজন এখনও পলাতক রয়েছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএল (আইএসআইএস) নিজেদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকলেও বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি আল-জাজিরাকে বলেন, আমরা নামাজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় বন্দুকের গুলি করার শব্দ শুনতে পাই। তখন গুলির শব্দ শুনে আমরা অন্য দিক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এমন সময় দেখি আমার শরীর থেকে রক্ত ঝড়ে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না কারা গুলি করছে রাস্তা থেকে (গুলিবর্ষণ) শুরু হয়েছিল এবং তারপর তারা মাজারের দিকে আসে এবং তারা যাকে দেখে তাকেই গুলি করে। আমি কয়েকজনকে আহত ও নিহত অবস্থায় দেখেছি, কিন্তু হামলাকারীদের দেখতে পাইনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীদ রাইসি এ হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর আমাদের শত্রুপক্ষ সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ নিচ্ছে। এসব শয়তানদের অবশ্যই কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তেহরান ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেন, গুলি চালানোর উদ্দেশ্য ছিল ‘উপাসকদের ওপর হামলা’। তিনি বলেন, এটি একটি আইএসআইএস ট্রেডমার্ক – তারা মসজিদে হামলা করে, তারা মাজারে হামলা করে।

আল জাজিরার ডোরসা জাব্বারি ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে বলেন, শিরাজ শহরের এই মাজারটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

উল্লেখ্য, ইরানের শিরাজ শহর হলো তীর্থযাত্রা ও পর্যটনের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য। এর আগে ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে এই ধরনের সর্বশেষ হামলা হয়েছিল। সেসময় একটি মসজিদে পেতে রাখা বোমায় ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন।