ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাজশাহীতে ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিকড়া পূজামণ্ডপ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
নিহাল খান,রাজশাহী ব্যুরো : আগামী মাসেই কাতারে বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর শিরোপার জন্য লড়বে ৩২টি দেশ। কার হাতে ট্রফি উঠবে তা সময়ই নির্ধারণ করে দেবে। কিন্তু তার আগেই যেন বিশ্বকাপ ট্রফি চলে এসেছে রাজশাহীতে! এ বছর বিশ্বকাপ খেলা,তাই শারদীয় দুর্গাপূজায় ফুটবল বিশ্বকাপের থিমেই রাজশাহী নগরীর একটি পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে।
প্রতি বছরই রাজশাহীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
বরাবরের মতো এবারেও রাজশাহীতে ভিন্নধর্মী থিম নিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছে আয়োজকরা।তার মধ্যে রানিবাজার এলাকার ‘টাইগার সংঘ’ প্রতিবারই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।তাদের  মন্ডপ তৈরি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে থাকে বাড়তি আগ্রহ।
তারই ধারাবাহিকতায় এবছর ভিন্ন আয়োজনের অংশ হিসেবে আসন্ন কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফির আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে তাক লাগিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এবার টাইগার সংঘের ৪০ বছর ধরে পুজার আয়োজন করে আসছে আমাদের সংগঠন।গত বছর করোনার সচেতনতায় করোনা ও মাস্ক দিয়ে থিম করা হয়েছিল। এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুকে স্মরণ করে রুপালি গিটারে সেজেছিল মণ্ডপ। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বাহুবলী, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখের অবয়ব দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে প্রশংসা কুড়ায় ‘টাইগার সংঘ’।
এবার টাইগার সংঘের পূজামণ্ডপটি সাজানো হয়েছে দুইভাবে।প্রতিমা ও মঞ্চ উভয়ই পৃথক অর্থ বুঝাবে।
এ মণ্ডপটি ২৬ ফুটের একটি বিশ্বকাপ ট্রফির আদল।সঙ্গে আছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের জাতীয় পতাকা। বিশ্বের ৩২টি দেশের পতাকা থাকলেও ঠিক মাঝখানে বাংলাদেশের পতাকা।পাশেই আছে একতাবদ্ধের প্রতীক।
এ বিষয়ে টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন,প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন আর ব্যতিক্রমী সাজে মণ্ডপ সাজিয়ে থাকে টাইগার সংঘ।রাজশাহীবাসীও টাইগার সংঘের কাছে নতুন কিছু আশা করে থাকে।এবার আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে ২৬ ফুটের একটি ট্রফি ও বিভিন্ন দেশের পতাকা এবং বিশ্বকাপ লোগো দিয়েই থিম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, থিমের সাইজ ৪২ ফুট ও ৩০ ফুট। মূল ট্রফিটি ২৬ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া।এটি ৪০ ফিট করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রযুক্তি না থাকায় কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ৩২টি দেশের পতাকাও আছে। আমাদের প্রতিমাও এবার রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড়।এটি লম্বায় হবে ১২ ফুট
তিনি আর বলেন,এবার মণ্ডপের প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে ফিফার অফিশিয়াল চারটি রঙে। সামনে থাকবে ১২ জন প্লেয়ারের হাতে ফুটবল। যা ফুটবলের ১২টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্যান্ডেলে থাকবে কাতার বিশ্বকাপের মাসকাট ও বিশ্বকাপের লোগো।এই মণ্ডপের বাজেট আট লাখ টাকা। যা মূলত নিজেদের সংঘের মাধ্যমে এবং প্রবাসী কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান থাকে।
গতকাল মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সঞ্জিত দাস।তিনি বলেন, ‘আমরা সব পূজা মণ্ডপেই যাই।তবে টাইগার সংঘ ঘিরে আলাদা প্রত্যাশা থাকে।তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে এসসছি।’
উল্লেখ্য,রাজশাহীতে এবার ৪৫২টি মণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসব। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৭৫টি ও জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৭৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
৯টি উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ীতে ৩৯টি, তানোরে ৬০টি, পবায় ১৮টি, মোহনপুরে ২২টি, পুঠিয়ায় ৫১টি, দুর্গাপুরে ১৭টি, চারঘাটে ৪১টি, বাঘায় ৪৬টি, বাগমারায় ৮৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফির আদলে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিকড়া পূজামণ্ডপ 

আপডেট সময় : ০৪:৫১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২
নিহাল খান,রাজশাহী ব্যুরো : আগামী মাসেই কাতারে বসতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের এবারের আসর শিরোপার জন্য লড়বে ৩২টি দেশ। কার হাতে ট্রফি উঠবে তা সময়ই নির্ধারণ করে দেবে। কিন্তু তার আগেই যেন বিশ্বকাপ ট্রফি চলে এসেছে রাজশাহীতে! এ বছর বিশ্বকাপ খেলা,তাই শারদীয় দুর্গাপূজায় ফুটবল বিশ্বকাপের থিমেই রাজশাহী নগরীর একটি পূজামণ্ডপ সাজানো হয়েছে।
প্রতি বছরই রাজশাহীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
বরাবরের মতো এবারেও রাজশাহীতে ভিন্নধর্মী থিম নিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছে আয়োজকরা।তার মধ্যে রানিবাজার এলাকার ‘টাইগার সংঘ’ প্রতিবারই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।তাদের  মন্ডপ তৈরি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে থাকে বাড়তি আগ্রহ।
তারই ধারাবাহিকতায় এবছর ভিন্ন আয়োজনের অংশ হিসেবে আসন্ন কাতার ফুটবল বিশ্বকাপের ট্রফির আদলে মণ্ডপ সাজিয়ে তাক লাগিয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এবার টাইগার সংঘের ৪০ বছর ধরে পুজার আয়োজন করে আসছে আমাদের সংগঠন।গত বছর করোনার সচেতনতায় করোনা ও মাস্ক দিয়ে থিম করা হয়েছিল। এর আগে আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুকে স্মরণ করে রুপালি গিটারে সেজেছিল মণ্ডপ। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, বাহুবলী, ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখের অবয়ব দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করে প্রশংসা কুড়ায় ‘টাইগার সংঘ’।
এবার টাইগার সংঘের পূজামণ্ডপটি সাজানো হয়েছে দুইভাবে।প্রতিমা ও মঞ্চ উভয়ই পৃথক অর্থ বুঝাবে।
এ মণ্ডপটি ২৬ ফুটের একটি বিশ্বকাপ ট্রফির আদল।সঙ্গে আছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দেশের জাতীয় পতাকা। বিশ্বের ৩২টি দেশের পতাকা থাকলেও ঠিক মাঝখানে বাংলাদেশের পতাকা।পাশেই আছে একতাবদ্ধের প্রতীক।
এ বিষয়ে টাইগার সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ পাল চৌধুরী বলেন,প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবে নতুন আর ব্যতিক্রমী সাজে মণ্ডপ সাজিয়ে থাকে টাইগার সংঘ।রাজশাহীবাসীও টাইগার সংঘের কাছে নতুন কিছু আশা করে থাকে।এবার আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনার কথা মাথায় রেখে ২৬ ফুটের একটি ট্রফি ও বিভিন্ন দেশের পতাকা এবং বিশ্বকাপ লোগো দিয়েই থিম করা হয়েছে।
তিনি বলেন, থিমের সাইজ ৪২ ফুট ও ৩০ ফুট। মূল ট্রফিটি ২৬ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া।এটি ৪০ ফিট করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রযুক্তি না থাকায় কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া ৩২টি দেশের পতাকাও আছে। আমাদের প্রতিমাও এবার রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড়।এটি লম্বায় হবে ১২ ফুট
তিনি আর বলেন,এবার মণ্ডপের প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে ফিফার অফিশিয়াল চারটি রঙে। সামনে থাকবে ১২ জন প্লেয়ারের হাতে ফুটবল। যা ফুটবলের ১২টি দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। প্যান্ডেলে থাকবে কাতার বিশ্বকাপের মাসকাট ও বিশ্বকাপের লোগো।এই মণ্ডপের বাজেট আট লাখ টাকা। যা মূলত নিজেদের সংঘের মাধ্যমে এবং প্রবাসী কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতার মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারি অনুদান থাকে।
গতকাল মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সঞ্জিত দাস।তিনি বলেন, ‘আমরা সব পূজা মণ্ডপেই যাই।তবে টাইগার সংঘ ঘিরে আলাদা প্রত্যাশা থাকে।তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখতে এসসছি।’
উল্লেখ্য,রাজশাহীতে এবার ৪৫২টি মণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসব। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৭৫টি ও জেলার ৯টি উপজেলায় ৩৭৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
৯টি উপজেলার মধ্যে গোদাগাড়ীতে ৩৯টি, তানোরে ৬০টি, পবায় ১৮টি, মোহনপুরে ২২টি, পুঠিয়ায় ৫১টি, দুর্গাপুরে ১৭টি, চারঘাটে ৪১টি, বাঘায় ৪৬টি, বাগমারায় ৮৩টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।