ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নওগাঁয় দুই ভিক্ষুককে ভ্যানের দোকান উপহার দিলো সমাজসেবা অফিস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নওগাঁ প্রতিনিধি :

নওগাঁয় ভিক্ষুক পূণর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় দুই ভিক্ষুককে ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় নওগাঁ সরকারি শিশু পরিবারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভ্যানের দোকান হস্তান্তর করেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

এসময় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুর মোহাম্মদ, সহকারি পরিচালক মোহতাছিম বিল্লাহ, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্ববধায়ক সাইদুর রহমান ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্রুহানী সুলতান গামা, নওগাঁ পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) সারোয়ার তানজিদ সম্রাট ও ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহসান হাবিব রাজন সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

সুবিধাভোগী নওগাঁ পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের বরুনকান্দি মহল্লার বৃদ্ধ কাজেম উদ্দিন মন্ডল এবং ৭নম্বর ওয়ার্ডের পার-নওগাঁ শান্তিনগর মহল্লার বৃদ্ধ ফজলু হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় কর্মসংস্থানের জন্য ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান হস্তান্তর করা হয়।

সবুজ রঙের ভ্যানে লাল টিনের ছাউনি। মনে হবে যেন এক লাল-সবুজের বাংলাদেশ। আর ছাউনির ওপর সোলার প্যানেল। এটি একটি ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান। এ দোকানটিতে বিভিন্ন বিস্কুট, চিপস, চকলেট ও ভাজা, চায়ের জন্য গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারসহ প্রায় শতাধিক উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়। দিনশেষে ভ্যানের বাক্সের ভেতরে মালামালগুলো যতœসহকারে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ভ্যানের এ দোকানের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা। দুইটি ভ্যান ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রি দিয়ে সাজানোতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ভ্যানের এ দোকানটি হস্তান্তরের সময় এ দুই পরিবারকে নগদ ২ হাজার করে টাকাও দেওয়া হয়। দোকান নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ফজলু হকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। তাদের বিয়ে হওয়ায় আলাদা সংসার হয়েছে। তারাও গরীব হওয়ায় আমাদের সহযোগীতা করতে পারে না। স্বামী যুবক বয়সে কাজকর্ম করে সংসার চালাতো। বয়স হওয়ায় এখন পরিশ্রম করতে না পেরে প্রায় ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করছিল। প্রতিবেশীর কাছে হাত পাততে হতো। বিভিন্ন কথা শুনতে হতো। সরকার থেকে দোকান পেয়ে সুবিধা হয়েছে। এখন থেকে আর ভিক্ষা করতে হবে না। বেচাকেনা ভাল হলে আয় থেকে সংসার চলবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক দোয়া রইল। আল্লাহ যেনো তাকে সুস্থসবল রাখেন।

নওগাঁ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা দেশে কোন ভিক্ষাবৃত্তি থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় আমরা দুইজন ভিক্ষুককে কর্মসংস্থানের জন্য ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান প্রদান করা হয়েছে। যেখানে ভ্যানের ওপর সোলার প্যানেল, চায়ের জন্য গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার, বিভিন্ন ধরণের বিস্কুট ও চিপসসহ প্রায় শতাধিক উপকরণ দিয়ে দোকান সাজানো হয়। যা থেকে তার জীবন জীবিকা চলবে। আশা করছি তারা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দূরে থাকবে এবং সরকারের যে উদ্দেশ্য তা সফল ও বাস্তবায়ন হবে।

 

বা/খ:জই

নিউজটি শেয়ার করুন

নওগাঁয় দুই ভিক্ষুককে ভ্যানের দোকান উপহার দিলো সমাজসেবা অফিস

আপডেট সময় : ০৬:০০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

নওগাঁ প্রতিনিধি :

নওগাঁয় ভিক্ষুক পূণর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় দুই ভিক্ষুককে ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় নওগাঁ সরকারি শিশু পরিবারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভ্যানের দোকান হস্তান্তর করেন-অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

এসময় জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুর মোহাম্মদ, সহকারি পরিচালক মোহতাছিম বিল্লাহ, সরকারি শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্ববধায়ক সাইদুর রহমান ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্রুহানী সুলতান গামা, নওগাঁ পৌরসভার ৭নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর (প্যানেল মেয়র) সারোয়ার তানজিদ সম্রাট ও ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আহসান হাবিব রাজন সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় এসব বিতরণ করা হয়।

সুবিধাভোগী নওগাঁ পৌরসভার ১নম্বর ওয়ার্ডের বরুনকান্দি মহল্লার বৃদ্ধ কাজেম উদ্দিন মন্ডল এবং ৭নম্বর ওয়ার্ডের পার-নওগাঁ শান্তিনগর মহল্লার বৃদ্ধ ফজলু হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় কর্মসংস্থানের জন্য ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান হস্তান্তর করা হয়।

সবুজ রঙের ভ্যানে লাল টিনের ছাউনি। মনে হবে যেন এক লাল-সবুজের বাংলাদেশ। আর ছাউনির ওপর সোলার প্যানেল। এটি একটি ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান। এ দোকানটিতে বিভিন্ন বিস্কুট, চিপস, চকলেট ও ভাজা, চায়ের জন্য গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারসহ প্রায় শতাধিক উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়। দিনশেষে ভ্যানের বাক্সের ভেতরে মালামালগুলো যতœসহকারে রেখে তালাবদ্ধ করে রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। ভ্যানের এ দোকানের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা। দুইটি ভ্যান ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রি দিয়ে সাজানোতে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ভ্যানের এ দোকানটি হস্তান্তরের সময় এ দুই পরিবারকে নগদ ২ হাজার করে টাকাও দেওয়া হয়। দোকান নিয়মিত তদারকি করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

ফজলু হকের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। তাদের বিয়ে হওয়ায় আলাদা সংসার হয়েছে। তারাও গরীব হওয়ায় আমাদের সহযোগীতা করতে পারে না। স্বামী যুবক বয়সে কাজকর্ম করে সংসার চালাতো। বয়স হওয়ায় এখন পরিশ্রম করতে না পেরে প্রায় ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করছিল। প্রতিবেশীর কাছে হাত পাততে হতো। বিভিন্ন কথা শুনতে হতো। সরকার থেকে দোকান পেয়ে সুবিধা হয়েছে। এখন থেকে আর ভিক্ষা করতে হবে না। বেচাকেনা ভাল হলে আয় থেকে সংসার চলবে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক দোয়া রইল। আল্লাহ যেনো তাকে সুস্থসবল রাখেন।

নওগাঁ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুর মোহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা দেশে কোন ভিক্ষাবৃত্তি থাকবে না। তারই ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় আমরা দুইজন ভিক্ষুককে কর্মসংস্থানের জন্য ভ্রাম্যমান ভ্যানের দোকান প্রদান করা হয়েছে। যেখানে ভ্যানের ওপর সোলার প্যানেল, চায়ের জন্য গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার, বিভিন্ন ধরণের বিস্কুট ও চিপসসহ প্রায় শতাধিক উপকরণ দিয়ে দোকান সাজানো হয়। যা থেকে তার জীবন জীবিকা চলবে। আশা করছি তারা ভিক্ষাবৃত্তি থেকে দূরে থাকবে এবং সরকারের যে উদ্দেশ্য তা সফল ও বাস্তবায়ন হবে।

 

বা/খ:জই