ঢাকা ০১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলনে মায়ের উপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন ছেলে 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
  • / ৪৯৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক রোজিনা খাতুন (৩৯) নামক এক মহিলা ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে মারপিট করার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৪ মার্চ (শুক্রবার) বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম লোকজন নিয়ে পিয়ারাখালির পিয়ারপুর মধ্যপাড়ায় রোজিনার বাড়ির সামনে সরকারী রাস্তার জায়গা দখল করে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর সময় বাধা দিলে মা ও ছেলেকে মারপিট করেন।  এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার চারদিন পার হলেও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। উল্টো কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ও তার সঙ্গপাঙ্গের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটি।
গত সোমবার রাতে আহত রোজিনার ছেলে পাবনা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল শাখার ৭ম সেমিষ্টারের ছাত্র সজিব হোসেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সজিব হোসেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক তার মায়ের উপর নির্যাতনের বিচার দাবী করে বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে সরকারী রাস্তার কিছু পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। যেখানে আমরা সবজি চাষ করতাম। ব্যবসার জন্য সম্প্রতি সেখানে দুটি পাকা দোকানের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার দিন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় মোঃ মিজান, মোঃ জাফর ইকবাল, সাইদুল ইসলাম, আসিফ, কামাল প্রামানিক, আরশাদ মালিথাসহ বেশ কয়েকজন আমার বাড়ির সামনের দোকানের সামনের জায়গা দখল করে বাঁশ খুটি পুতে মানবতা স্পোটিং ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার মা রোজিনা খাতুন বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে কাউন্সিলরকে সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে বাঁধা দেন। তখন কাউন্সিলর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মায়ের চুলের মুঠি ধরে কানে মুখে চড় থাপ্পর মারেন। মায়ের চিৎকার শুনে আমি এগিয়ে গেলে কাউন্সিলর ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমাকেও মারপিট করেন। এই সময় কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ভাষা খারাপ করে তার লোকজনকে হুকুম দিয়ে বলেন, মার…। যত টাকা লাগে আমি খরচ করবো। কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ঈশ্বরদী সাব রেজিষ্টি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকায় তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ করেন সজিব।
সজিব হোসেন আরও জানান, আমার মা বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কানে মুখে মারপিট করার কারণে আমার মা বর্তমানে কানে শুনতে পারছেন না। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু চারদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে যাননি। পদক্ষেপও গ্রহন করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সজিব হোসেনের বাবা সহিদুর রহমান সহিদ, প্রতিবেশি কাওছার আহমেদ, তন্ময় মাহমুদ, ইমন হোসেন মবিন, প্রার্থ প্রাং, ইমরান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একজন অফিসারকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে গিয়ে মা ও ছেলেকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। গত এক বছর আগে স্থানীয় ছেলেরা মাদক বিরোধী মানবতা স্পোটিং ক্লাব নির্মাণ করেন। ঘটনার দিন সাইনবোর্ডটি টাঙ্গানোর জন্য ক্লাবের ছেলেরা আমাকে শুধু ডেকেছিলো। কিন্তু রোজিনা ও তার ছেলে সজিব সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে বাঁধা দিলে  তাদের সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয়েছে। এর বেশি কিছু নয় বলে দাবী করেছেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।
বা/খ: জই

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলনে মায়ের উপর নির্যাতনের বিচার চাইলেন ছেলে 

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :
ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক রোজিনা খাতুন (৩৯) নামক এক মহিলা ও তার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে মারপিট করার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৪ মার্চ (শুক্রবার) বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম লোকজন নিয়ে পিয়ারাখালির পিয়ারপুর মধ্যপাড়ায় রোজিনার বাড়ির সামনে সরকারী রাস্তার জায়গা দখল করে সাইনবোর্ড টাঙ্গানোর সময় বাধা দিলে মা ও ছেলেকে মারপিট করেন।  এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার চারদিন পার হলেও পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। উল্টো কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ও তার সঙ্গপাঙ্গের হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পরিবারটি।
গত সোমবার রাতে আহত রোজিনার ছেলে পাবনা পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল শাখার ৭ম সেমিষ্টারের ছাত্র সজিব হোসেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সজিব হোসেন, কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম কর্তৃক তার মায়ের উপর নির্যাতনের বিচার দাবী করে বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে সরকারী রাস্তার কিছু পরিত্যক্ত জায়গা রয়েছে। যেখানে আমরা সবজি চাষ করতাম। ব্যবসার জন্য সম্প্রতি সেখানে দুটি পাকা দোকানের কাজ শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার দিন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে স্থানীয় মোঃ মিজান, মোঃ জাফর ইকবাল, সাইদুল ইসলাম, আসিফ, কামাল প্রামানিক, আরশাদ মালিথাসহ বেশ কয়েকজন আমার বাড়ির সামনের দোকানের সামনের জায়গা দখল করে বাঁশ খুটি পুতে মানবতা স্পোটিং ক্লাবের সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমার মা রোজিনা খাতুন বাড়ির ভিতর থেকে বের হয়ে কাউন্সিলরকে সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে বাঁধা দেন। তখন কাউন্সিলর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মায়ের চুলের মুঠি ধরে কানে মুখে চড় থাপ্পর মারেন। মায়ের চিৎকার শুনে আমি এগিয়ে গেলে কাউন্সিলর ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আমাকেও মারপিট করেন। এই সময় কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ভাষা খারাপ করে তার লোকজনকে হুকুম দিয়ে বলেন, মার…। যত টাকা লাগে আমি খরচ করবো। কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম ঈশ্বরদী সাব রেজিষ্টি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এলাকায় তিনি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলেও অভিযোগ করেন সজিব।
সজিব হোসেন আরও জানান, আমার মা বর্তমানে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কানে মুখে মারপিট করার কারণে আমার মা বর্তমানে কানে শুনতে পারছেন না। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু চারদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে যাননি। পদক্ষেপও গ্রহন করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সজিব হোসেনের বাবা সহিদুর রহমান সহিদ, প্রতিবেশি কাওছার আহমেদ, তন্ময় মাহমুদ, ইমন হোসেন মবিন, প্রার্থ প্রাং, ইমরান হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। একজন অফিসারকে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে গিয়ে মা ও ছেলেকে মারপিটের কোন ঘটনা ঘটেনি। গত এক বছর আগে স্থানীয় ছেলেরা মাদক বিরোধী মানবতা স্পোটিং ক্লাব নির্মাণ করেন। ঘটনার দিন সাইনবোর্ডটি টাঙ্গানোর জন্য ক্লাবের ছেলেরা আমাকে শুধু ডেকেছিলো। কিন্তু রোজিনা ও তার ছেলে সজিব সাইনবোর্ড টাঙ্গাতে বাঁধা দিলে  তাদের সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয়েছে। এর বেশি কিছু নয় বলে দাবী করেছেন কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।
বা/খ: জই