ঢাকা ০৬:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

৫ দিন জলমগ্ন কবে ফিরবো জানি না শোবার ঘর, রান্দাঘর সব জল, না খেয়ে না ঘুমিয়ে কাটছে দিন

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪
  • / ৪৪০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দশালিয়া গ্রামের তপতী মন্ডল বলেন, ঘুর্ণিঝড় শুরুর কিছু সময় পর শোঁ শোঁ শব্দ করে উডানে পানি ডুকছে। দেকতে দেকতে সেই যে জল ডুকল শোবার ঘর রান্দা ঘর। আর আজ ৫ দিন জলমগ্ন আছে। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে দিনে রাতে দু’বার জল ঢোকে। না খেয়ে না ঘুমিয়ে কেমমায় বাঁচপ। বাড়ী জলে ডুবে গেছে। মানষের বাড়ীতে গে রাত কাটাতে হোচ্ছে। বাচ্চাদেও নিয়ে বিপদে আছি। খাবরের সমস্যা কি যে বলব , ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম তারিক উজ জামান বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টার দিকে ভাঙা বাধের স্থান পরিদর্শন করেন। এবং জলবন্দী মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা য্য়া, ৫ দিন ধরে কপোতাক্ষের জোয়ারে পানিতে জলমগ্ন হয়ে ভাসছে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকা। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে কয়েকশত ঘরবাড়ী। পানি বন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। বিছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। যথা সময়ে বেঁড়িবাঁধের মাটির কাজ শেষ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বেঁড়িবাঁধের অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে শতশত ঘরবাড়ী প্লাবিত হয়েছে। বারবার ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছাসে জানমাল হারানো দেখেছি, অনেক শনেছি, অনেক আশ্বাসও পেয়েছি। দুর্নীতি অনিয়ম ছাড়া বাঁধ নির্মাণ হয়নি। ঝড় জলোচ্ছাসে পানিতে ভেসে যায় বাঁধ। এভাবে আর কতদিন। ছেড়ে দিয়েছি বাঁধ নির্মাণের আশা। এভাবে যতদিন থাকা যায় পানির সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হবে আমাদের। বৃহস্পতিবার দশালিয়া এলাকার মানুষ এমনটাই অভিযোগ করে এসব ভাঙা বাঁধ মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদ গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে নদীতে পানি বাড়ায় বাঁধ ভেঙে আমাদের এলাকায় কত জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর হারাবার কিছু নেই। আছে শুধু এই বসত ভিটাটুকু। তা মনে হয় সেটুকুতে মাথা গোঁজার ঠাই আর হবে না। থাকতে হচ্ছে রাস্তায়। রাতে মহিলা ও বাচ্ছাদের রেখে আসছি অন্যের বাড়ীতে। শেষ সম্বল বসত ভিটা টুকু ছেড়ে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু না খেয়ে কয়দিন বাঁচব। আজ দুপুরে কারা যেন খিচুড়ি নিয়ে আসছিল নদীর ধারে নৌকা করে। বাচ্চারা সেই খাবার আনতে গিয়েছিল কিন্তু আমরা তো আর ওই নদীর ধারে গিয়ে হাত পেতে খাবিার নিতে পারব না। ওদিকে ঘরে রান্নার কোন ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে ধান কেটে ১৬ মন ধান আনছিলাম তা ও জোয়ারে ভেসে গেছে। আমাদের এই এলাকায় সবাই এসে প্রতিশ্রুতি দেন বাধের , কিন্তু বাঁধ হয় না। তারপরও আমরা খাবার চাই না। চাই শক্ত বেঁড়িবাঁধের। রাজধানির বড় বড় মানুষের জন্য টানেল হয়, মেট্রোরেল হয়। আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে কি উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ হয় না।

একই গ্রামের বাসিন্দা জয়নুদ্দীন বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের এলাকায় ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সে ৮ বিঘা জমি হারিতে নিয়েছিল ৬৪ হাজার টাকা দিয়ে, তাতে মাছ ছেড়েছিল এক লক্ষ টাকার । কেবল এক গোন মাছ ধরেছি। সে ঘের এখন নদীর মত। মনে হয়েছিল বাচব না। আমাদের বাঁচাতে হলে এই বাধ মেরামত করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব মোল্লা বলেন, ৫ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে পুরো গ্রাম। আমাদের বাড়ী ঘর ডুবে গেছে, বাড়ির কারো পক্ষে রান্নাবান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না।অনেক কষ্ট করে জীবনযাপন করেছি। এ অবস্থায় দ্রুত বাঁধ মেরামত ও সংস্কার না করা হলে এই এলাকা মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বাঁধের পাশে কারও না পেয়ে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, আমি ভাঙা বেঁড়িবাধ পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নির্দেশ দিয়েছি দ্রæত বাঁধ দিতে পানি আটকাতে হবে।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

৫ দিন জলমগ্ন কবে ফিরবো জানি না শোবার ঘর, রান্দাঘর সব জল, না খেয়ে না ঘুমিয়ে কাটছে দিন

আপডেট সময় : ১২:৩৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪

দশালিয়া গ্রামের তপতী মন্ডল বলেন, ঘুর্ণিঝড় শুরুর কিছু সময় পর শোঁ শোঁ শব্দ করে উডানে পানি ডুকছে। দেকতে দেকতে সেই যে জল ডুকল শোবার ঘর রান্দা ঘর। আর আজ ৫ দিন জলমগ্ন আছে। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে দিনে রাতে দু’বার জল ঢোকে। না খেয়ে না ঘুমিয়ে কেমমায় বাঁচপ। বাড়ী জলে ডুবে গেছে। মানষের বাড়ীতে গে রাত কাটাতে হোচ্ছে। বাচ্চাদেও নিয়ে বিপদে আছি। খাবরের সমস্যা কি যে বলব , ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিএম তারিক উজ জামান বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টার দিকে ভাঙা বাধের স্থান পরিদর্শন করেন। এবং জলবন্দী মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাউল বিতরণ করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা য্য়া, ৫ দিন ধরে কপোতাক্ষের জোয়ারে পানিতে জলমগ্ন হয়ে ভাসছে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকা। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে কয়েকশত ঘরবাড়ী। পানি বন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। বিছিন্ন রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থাও। যথা সময়ে বেঁড়িবাঁধের মাটির কাজ শেষ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ভেঙে যাওয়া বেঁড়িবাঁধের অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে শতশত ঘরবাড়ী প্লাবিত হয়েছে। বারবার ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছাসে জানমাল হারানো দেখেছি, অনেক শনেছি, অনেক আশ্বাসও পেয়েছি। দুর্নীতি অনিয়ম ছাড়া বাঁধ নির্মাণ হয়নি। ঝড় জলোচ্ছাসে পানিতে ভেসে যায় বাঁধ। এভাবে আর কতদিন। ছেড়ে দিয়েছি বাঁধ নির্মাণের আশা। এভাবে যতদিন থাকা যায় পানির সাথে যুদ্ধ করে বাঁচতে হবে আমাদের। বৃহস্পতিবার দশালিয়া এলাকার মানুষ এমনটাই অভিযোগ করে এসব ভাঙা বাঁধ মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদ গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে নদীতে পানি বাড়ায় বাঁধ ভেঙে আমাদের এলাকায় কত জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর হারাবার কিছু নেই। আছে শুধু এই বসত ভিটাটুকু। তা মনে হয় সেটুকুতে মাথা গোঁজার ঠাই আর হবে না। থাকতে হচ্ছে রাস্তায়। রাতে মহিলা ও বাচ্ছাদের রেখে আসছি অন্যের বাড়ীতে। শেষ সম্বল বসত ভিটা টুকু ছেড়ে যেতে মন চাইছে না। কিন্তু না খেয়ে কয়দিন বাঁচব। আজ দুপুরে কারা যেন খিচুড়ি নিয়ে আসছিল নদীর ধারে নৌকা করে। বাচ্চারা সেই খাবার আনতে গিয়েছিল কিন্তু আমরা তো আর ওই নদীর ধারে গিয়ে হাত পেতে খাবিার নিতে পারব না। ওদিকে ঘরে রান্নার কোন ব্যবস্থা নেই। বাইরে থেকে ধান কেটে ১৬ মন ধান আনছিলাম তা ও জোয়ারে ভেসে গেছে। আমাদের এই এলাকায় সবাই এসে প্রতিশ্রুতি দেন বাধের , কিন্তু বাঁধ হয় না। তারপরও আমরা খাবার চাই না। চাই শক্ত বেঁড়িবাঁধের। রাজধানির বড় বড় মানুষের জন্য টানেল হয়, মেট্রোরেল হয়। আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে কি উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ হয় না।

একই গ্রামের বাসিন্দা জয়নুদ্দীন বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর আমাদের এলাকায় ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। সে ৮ বিঘা জমি হারিতে নিয়েছিল ৬৪ হাজার টাকা দিয়ে, তাতে মাছ ছেড়েছিল এক লক্ষ টাকার । কেবল এক গোন মাছ ধরেছি। সে ঘের এখন নদীর মত। মনে হয়েছিল বাচব না। আমাদের বাঁচাতে হলে এই বাধ মেরামত করা দরকার।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুব মোল্লা বলেন, ৫ দিন ধরে জোয়ারের পানিতে ভাসছে পুরো গ্রাম। আমাদের বাড়ী ঘর ডুবে গেছে, বাড়ির কারো পক্ষে রান্নাবান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না।অনেক কষ্ট করে জীবনযাপন করেছি। এ অবস্থায় দ্রুত বাঁধ মেরামত ও সংস্কার না করা হলে এই এলাকা মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বাঁধের পাশে কারও না পেয়ে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করলে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বিএম তারিক-উজ-জামান বলেন, আমি ভাঙা বেঁড়িবাধ পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে নির্দেশ দিয়েছি দ্রæত বাঁধ দিতে পানি আটকাতে হবে।

 

বাখ//আর