ঢাকা ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে উন্নতি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪
  • / ৪৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আজ শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, ওই তিন জেলায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় সাময়িক বন্যা হতে পারে। এছাড়া তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে।

এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। তবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও ৬টি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রামের বেশকিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পড়েছে কৃষিজমি ও আমন ধানের বীজতলা। ফসলি জমির ধানের বীজতলা, বাদাম, পাট, ভুট্টার খেত বন্যার পানিতে তলিয়ে পচন ধরেছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এদিকে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে বেড়েছে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়ার পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিস্তা ও ধরলা নদীর পানিতে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া, ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান নদীর পানি বেড়েছে। এতে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

এদিকে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। গতকালও যেখানে সিলেট নগরের তালতলা, জামতলা, মাছুদিঘীরপাড়, উপশহর, যতরপুর, সোবাহানীঘাট, মীরাবাজার, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, তোপখানা, বেতেরবাজার এলাকার রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি ছিল, এখন পানি নেমেছে পা পর্যন্ত।

তবে, নিচু এলাকার বাড়িঘর এখনও জলমগ্ন। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢোকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমলেও গোয়াইনঘাট এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সুনামগঞ্জে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও জেলায় এখোনো পানিবন্দী প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ। সবগুলো নদ-নদী বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। তবে কিছু এলাকা থেকে পানি নামলেও তলিয়ে আছে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা।

সকালে সিলেট নগরীর ক্বীনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পানি পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। সিলেট-সুনামগঞ্জকে বন্যা থেকে রক্ষা করতে রিজার্ভার করার কথা বলেন তিনি। ২০টি নদী নের পরিকল্পনার কথাও জানান।

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ভাটির জেলার মানুষের মনে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিতদের। পানিবন্দি হয়ে এখনও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা।

আশ্রয়কেন্দ্র আসা মানুষের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুরসহ সাত উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে গ্রাম ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। এমনকি পানিবন্দি হয়ে এখনও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দারা। বন্যায় প্লাবিত হয়ে ভেসে যায় ঘরে থাকা ধান-চাল, গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র। তলিয়ে গেছে পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি। ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুরসহ কয়েকটি উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনও বিছিন্ন রয়েছে।

প্রস্ঙত,ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে উজানের পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। তাই সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

তবে পাহাড়ি ঢল কম নামায় এরই মধ্যে পৌর শহরের তেঘরিয়া, আরপিন নগর, বড়পাড়া, ওয়েজখালি, মল্লিকপুর, ষোলঘর, নতুন পাড়া, মধ্য বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার হাঁটুসমান পানি থাকলেও বর্তমানে তা স্বাবাভিক হচ্ছে। তবে এখনো এক থেকে দুই ইঞ্চি রয়েছে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে পৌর শহর থেকেও পানি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক হচ্ছে যানবাহন চলাচল।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে উন্নতি

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪

উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। আজ শুক্রবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, ওই তিন জেলায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় সাময়িক বন্যা হতে পারে। এছাড়া তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে।

এদিকে, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে নামতে শুরু করেছে পানি। তবে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমলেও ৬টি পয়েন্টের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।

গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রামের বেশকিছু পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পড়েছে কৃষিজমি ও আমন ধানের বীজতলা। ফসলি জমির ধানের বীজতলা, বাদাম, পাট, ভুট্টার খেত বন্যার পানিতে তলিয়ে পচন ধরেছে। এতে কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

এদিকে, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে বেড়েছে গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়ার পানি এখনো বিপদসীমার নিচ দিয়ে বইলেও, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড।

তিস্তা ও ধরলা নদীর পানিতে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া, ভারী বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান নদীর পানি বেড়েছে। এতে লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী এলাকা এবং চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে গেছে।

এদিকে, সিলেট নগরীর বিভিন্ন সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। গতকালও যেখানে সিলেট নগরের তালতলা, জামতলা, মাছুদিঘীরপাড়, উপশহর, যতরপুর, সোবাহানীঘাট, মীরাবাজার, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, তোপখানা, বেতেরবাজার এলাকার রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি ছিল, এখন পানি নেমেছে পা পর্যন্ত।

তবে, নিচু এলাকার বাড়িঘর এখনও জলমগ্ন। কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও জকিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ঢোকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। দুর্গত এলাকায় সুপেয় পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমলেও গোয়াইনঘাট এখনো যোগাযোগবিচ্ছিন্ন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সুনামগঞ্জে বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও জেলায় এখোনো পানিবন্দী প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ। সবগুলো নদ-নদী বইছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। তবে কিছু এলাকা থেকে পানি নামলেও তলিয়ে আছে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা।

সকালে সিলেট নগরীর ক্বীনব্রিজ এলাকায় সুরমা নদীর পানি পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। সিলেট-সুনামগঞ্জকে বন্যা থেকে রক্ষা করতে রিজার্ভার করার কথা বলেন তিনি। ২০টি নদী নের পরিকল্পনার কথাও জানান।

সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে ভাটির জেলার মানুষের মনে। তবে দুর্ভোগ কমেনি বন্যাকবলিতদের। পানিবন্দি হয়ে এখনও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা।

আশ্রয়কেন্দ্র আসা মানুষের বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুরসহ সাত উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে গ্রাম ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়। এমনকি পানিবন্দি হয়ে এখনও চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন জেলার কয়েক লাখ মানুষ।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে সেসব এলাকার বাসিন্দারা। বন্যায় প্লাবিত হয়ে ভেসে যায় ঘরে থাকা ধান-চাল, গৃহপালিত পশু ও আসবাবপত্র। তলিয়ে গেছে পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি। ছাতক, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুরসহ কয়েকটি উপজেলার বেশির ভাগ গ্রামের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনও বিছিন্ন রয়েছে।

প্রস্ঙত,ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাতে বৃষ্টি কম হয়েছে। ফলে উজানের পাহাড়ি ঢল নেমেছে কম। তাই সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

তবে পাহাড়ি ঢল কম নামায় এরই মধ্যে পৌর শহরের তেঘরিয়া, আরপিন নগর, বড়পাড়া, ওয়েজখালি, মল্লিকপুর, ষোলঘর, নতুন পাড়া, মধ্য বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার হাঁটুসমান পানি থাকলেও বর্তমানে তা স্বাবাভিক হচ্ছে। তবে এখনো এক থেকে দুই ইঞ্চি রয়েছে। অর্থাৎ ধীরে ধীরে পৌর শহর থেকেও পানি কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক হচ্ছে যানবাহন চলাচল।