ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

১৬ জানুয়ারিতেও পাহারায় থাকব: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি দেখলে মনে হয় খালি কলসি বেশি বাজে। আমরা ঢাকা শহরে তাদের গণঅবস্থান কর্মসূচিতে যেমন সতর্ক পাহারায় ছিলাম, তেমনি ১৬ জানুয়ারিতেও রাস্তায় থাকব।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষ সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ঢাকা শহরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বাস্তবতা হচ্ছে তাদের সমাবেশে নেতাকর্মীরাও সবাই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন নাই। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এনেছেন, তারপরও নয়াপল্টনে আশানুরূপ লোক হয় নাই। বিএনপি আবার ১৬ জানুয়ারি কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা যেমন গতকাল সতর্ক পাহাড়ায় ছিলাম সারা ঢাকা শহরে। ১৬ তারিখেও আমরা ঢাকা শহরে সতর্ক পাহাড়ায় থাকবো। তারা যদি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটা প্রতিহত করা হবে। দেশে কাউকে শান্তি, স্থিতি, শৃঙ্খলা ও জনজীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না।

তথ্যমন্ত্রী অনেকটা পরিহাস করে বলেন, জেল থেকে বেরিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটার আভাস দিচ্ছেন। তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আশা করছি, তারা করোনার চতুর্থ ডোজ দেবেন। কারণ তাদের আরও আন্দোলন করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মির্জা আব্বাস ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেল থেকে বের হওয়ার পর গণতন্ত্রের কথা বলছেন। বুধবার (১১ জানুয়ারি) মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চাই না। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় দিতে চাই। আমরাও সেটা বলি আপনারা নির্বাচনে আসুন, আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। জনগণ যদি চায় তাহলে আমরা দেশ পরিচালনা করবো। জনগণ যাদের চাইবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে। এটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার রীতি নীতি। বিএনপি গণতন্ত্রের পথেই হাঁটবে আমরা সেটাই আশা করি।

আওয়ামী লীগ চায়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসুক সেটাই চায় আওয়ামী লীগ। জেল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপি নেতারাও কথাবার্তায় নমনীয় ভাব প্রকাশ করছেন। তারা নির্বাচনের কথা বলছেন। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের রীতিনীতি।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা একটি দল। জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল। সব মিলিয়ে ৭টি আসন পেয়েছে। এতে তারা তাদের জনপ্রিয়তা বুঝতে পেড়েছেন। আমরা জনগণের শক্তিতে বলিয়ান, অন্য কোনো কিছুর শক্তিতে আমরা বলিয়ান না। আর বিএনপি বিদেশিদের পদলেহন করেন, জনগণের শক্তিতে তারা বলিয়ান না হওয়ায়, জনগণকে বিশ্বাস করেন না। যেহেতু তাদের উৎপত্তি জনগণ থেকে হয়নি। এজন্য তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে বিদেশিদের পদলেহন করেন, এতেও তাদের লাভ হয়নি।

বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন কি? জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বুধবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করেছি, সেটা কোনো রাস্তার মধ্যে করিনি। আর বিএনপি বরাবরই প্রধান সড়ক বন্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে সভা সমাবেশ করে। রাজনীতি জনদুর্ভোগের জন্য নয়। তারা তো একটি মাঠ বেছে নিতে পারতো। এটিই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির বড় একটি দুর্বলতা।

বিএনপির গণঅভ্যুত্থানের আগের দিন মির্জা ফখরুল ও আব্বাস মুক্তির বিষয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন মির্জা ফখরুল ও আব্বাস মুক্তির পেয়েছেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতেই প্রমাণিত হয় দেশের আইন আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিন্তু বিরোধিতা করা হয়েছিল। এরপরও তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বিএনপি বার বার আইন আদালত নিয়ে প্রশ্ন তুলে, এতেই প্রমাণিত হয় সেটি মিথ্যা। এতে প্রমাণিত হয় আইন-আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

১৬ জানুয়ারিতেও পাহারায় থাকব: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:১৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির কর্মসূচি দেখলে মনে হয় খালি কলসি বেশি বাজে। আমরা ঢাকা শহরে তাদের গণঅবস্থান কর্মসূচিতে যেমন সতর্ক পাহারায় ছিলাম, তেমনি ১৬ জানুয়ারিতেও রাস্তায় থাকব।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় সভাকক্ষ সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপি ও সমমনা দলগুলো ঢাকা শহরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে বক্তব্য রেখেছেন, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বাস্তবতা হচ্ছে তাদের সমাবেশে নেতাকর্মীরাও সবাই অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন নাই। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এনেছেন, তারপরও নয়াপল্টনে আশানুরূপ লোক হয় নাই। বিএনপি আবার ১৬ জানুয়ারি কর্মসূচি দিয়েছে। আমরা যেমন গতকাল সতর্ক পাহাড়ায় ছিলাম সারা ঢাকা শহরে। ১৬ তারিখেও আমরা ঢাকা শহরে সতর্ক পাহাড়ায় থাকবো। তারা যদি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায় তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেটা প্রতিহত করা হবে। দেশে কাউকে শান্তি, স্থিতি, শৃঙ্খলা ও জনজীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না।

তথ্যমন্ত্রী অনেকটা পরিহাস করে বলেন, জেল থেকে বেরিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটার আভাস দিচ্ছেন। তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আশা করছি, তারা করোনার চতুর্থ ডোজ দেবেন। কারণ তাদের আরও আন্দোলন করতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, মির্জা আব্বাস ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জেল থেকে বের হওয়ার পর গণতন্ত্রের কথা বলছেন। বুধবার (১১ জানুয়ারি) মির্জা আব্বাস বলেছেন, সরকারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে চাই না। আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় দিতে চাই। আমরাও সেটা বলি আপনারা নির্বাচনে আসুন, আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। জনগণ যদি চায় তাহলে আমরা দেশ পরিচালনা করবো। জনগণ যাদের চাইবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে। এটাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার রীতি নীতি। বিএনপি গণতন্ত্রের পথেই হাঁটবে আমরা সেটাই আশা করি।

আওয়ামী লীগ চায়, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসুক সেটাই চায় আওয়ামী লীগ। জেল থেকে বের হওয়ার পর বিএনপি নেতারাও কথাবার্তায় নমনীয় ভাব প্রকাশ করছেন। তারা নির্বাচনের কথা বলছেন। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের রীতিনীতি।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের মধ্য থেকে উঠে আসা একটি দল। জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল। সব মিলিয়ে ৭টি আসন পেয়েছে। এতে তারা তাদের জনপ্রিয়তা বুঝতে পেড়েছেন। আমরা জনগণের শক্তিতে বলিয়ান, অন্য কোনো কিছুর শক্তিতে আমরা বলিয়ান না। আর বিএনপি বিদেশিদের পদলেহন করেন, জনগণের শক্তিতে তারা বলিয়ান না হওয়ায়, জনগণকে বিশ্বাস করেন না। যেহেতু তাদের উৎপত্তি জনগণ থেকে হয়নি। এজন্য তারা ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে বিদেশিদের পদলেহন করেন, এতেও তাদের লাভ হয়নি।

বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন কি? জানতে চাইলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা বুধবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা শহরে বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করেছি, সেটা কোনো রাস্তার মধ্যে করিনি। আর বিএনপি বরাবরই প্রধান সড়ক বন্ধ করে জনদুর্ভোগ তৈরি করে সভা সমাবেশ করে। রাজনীতি জনদুর্ভোগের জন্য নয়। তারা তো একটি মাঠ বেছে নিতে পারতো। এটিই হচ্ছে বিএনপির রাজনীতির বড় একটি দুর্বলতা।

বিএনপির গণঅভ্যুত্থানের আগের দিন মির্জা ফখরুল ও আব্বাস মুক্তির বিষয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন মির্জা ফখরুল ও আব্বাস মুক্তির পেয়েছেন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এতেই প্রমাণিত হয় দেশের আইন আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে কিন্তু বিরোধিতা করা হয়েছিল। এরপরও তারা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বিএনপি বার বার আইন আদালত নিয়ে প্রশ্ন তুলে, এতেই প্রমাণিত হয় সেটি মিথ্যা। এতে প্রমাণিত হয় আইন-আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে।