ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

১৪ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এক দিনে, বিপাকে ১০ লাখ চাকরিপ্রার্থী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে এদিন চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার দিন। কারণ পূর্বঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কাল সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট ও অধিদফতরসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে নয় লাখ। ফলে একই দিন কাছাকাছি সময়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা পড়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রার্থীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রার্থী ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৯ জন।

নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবই সরকারি। বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানভেদে শুক্রবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে এসব পরীক্ষা হবে। কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সকালে একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, বিকেলে আরেকটি। কারো আবার দুটি পরীক্ষার কেন্দ্র দুই শহরে। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নিলে অন্যটি দেওয়া সম্ভব নয়।

যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। কেউ কেউ এ দিনকে ‘পরীক্ষা দিবস’ হিসেবেও অভিহিত করেন। ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

জানা গেছে, কাল সকাল, দুপুর ও বিকালে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া কথা। একই দিনে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা হওয়ায় কোনো কোনো প্রার্থীর ৩ থেকে ৪টি পরীক্ষা পড়েছে। এর মধ্যে সমাজসেবার অধিদফতরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের পরীক্ষা পড়েছে একই সময়ে।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সমাজসেবার অধিদফতরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে। ৬৪ জেলায় একযোগে কাল সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পদে আবেদন করেছেন ছয় লাখ ৬২ হাজার ২৭০ জন। শূন্য পদের হিসেবে প্রতিটি পদের জন্য লড়বেন এক হাজার ৪৩০ জন। এর পরই রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরিপ্রত্যাশীদের সংখ্যা। এ পদে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ২৯২ জন। কাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৩টি পদে ৩২ হাজার ৩৮৬ জন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে এক হাজার ২৯০ জন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কণ্ঠশিল্পী পদে ১০০ জন, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩টি পদে ১২৬ জন, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের ২টি পদে ৬৪১ জন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এক হাজার ৩৭০ জন, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ১টি পদে তিন হাজার ৮৭৭ জন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩টি পদে ছয় হাজার ৫৩০ জন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে ২৫৮ জন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের ২টি পদে মৌখিক পরীক্ষায় ২২ জন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষে চার হাজার ৭৩৭ জন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে পরীক্ষা হবে শুক্রবার। তবে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যায়নি।

গত বছরও একই দিনে ১৫ থেকে ১৬টি চাকরির পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে বিধিনিষেধ থাকায় নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকা পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে। সে কারণেই এক সঙ্গে পরীক্ষার সূচি পড়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

১৪ প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এক দিনে, বিপাকে ১০ লাখ চাকরিপ্রার্থী

আপডেট সময় : ১০:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। তবে এদিন চাকরিপ্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার দিন। কারণ পূর্বঘোষিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কাল সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট ও অধিদফতরসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে নয় লাখ। ফলে একই দিন কাছাকাছি সময়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা পড়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রার্থীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরিপ্রার্থী ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৮৯৯ জন।

নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় সবই সরকারি। বেশ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানভেদে শুক্রবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে এসব পরীক্ষা হবে। কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সকালে একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, বিকেলে আরেকটি। কারো আবার দুটি পরীক্ষার কেন্দ্র দুই শহরে। অর্থাৎ একটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় অংশ নিলে অন্যটি দেওয়া সম্ভব নয়।

যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। কেউ কেউ এ দিনকে ‘পরীক্ষা দিবস’ হিসেবেও অভিহিত করেন। ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

জানা গেছে, কাল সকাল, দুপুর ও বিকালে এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া কথা। একই দিনে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা হওয়ায় কোনো কোনো প্রার্থীর ৩ থেকে ৪টি পরীক্ষা পড়েছে। এর মধ্যে সমাজসেবার অধিদফতরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের পরীক্ষা পড়েছে একই সময়ে।

সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সমাজসেবার অধিদফতরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে। ৬৪ জেলায় একযোগে কাল সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ পদে আবেদন করেছেন ছয় লাখ ৬২ হাজার ২৭০ জন। শূন্য পদের হিসেবে প্রতিটি পদের জন্য লড়বেন এক হাজার ৪৩০ জন। এর পরই রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে চাকরিপ্রত্যাশীদের সংখ্যা। এ পদে আবেদন করেছেন দুই লাখ ৫৫ হাজার ২৯২ জন। কাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে ৩টি পদে ৩২ হাজার ৩৮৬ জন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে এক হাজার ২৯০ জন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কণ্ঠশিল্পী পদে ১০০ জন, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩টি পদে ১২৬ জন, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের ২টি পদে ৬৪১ জন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এক হাজার ৩৭০ জন, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ১টি পদে তিন হাজার ৮৭৭ জন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩টি পদে ছয় হাজার ৫৩০ জন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে ২৫৮ জন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের ২টি পদে মৌখিক পরীক্ষায় ২২ জন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষে চার হাজার ৭৩৭ জন। এ ছাড়া বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে পরীক্ষা হবে শুক্রবার। তবে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যায়নি।

গত বছরও একই দিনে ১৫ থেকে ১৬টি চাকরির পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, করোনা ভাইরাসের কারণে বিধিনিষেধ থাকায় নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ ছিল। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকা পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে। সে কারণেই এক সঙ্গে পরীক্ষার সূচি পড়েছে।