ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

১০০ বছরেও মরিচা ধরবে না বঙ্গবন্ধু রেল সেতুতে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ ঘিরে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। সর্বোত্তম প্রযুক্তির লোহা আর কংক্রিটের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এই সেতুর নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক ১টি স্প্যানও বসছে সেতুটিতে। এখন এগিয়ে চলছে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘একেবারেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সেতুটিতে আলাদা করে আর রং করার প্রয়োজন হবে না। এই প্রক্রিয়াটিই অনেক টেকসই। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগামী ১০০ বছরেও সেতুর কাঠামোতে কোনরকম মরিচা ধরবে না। এমনকি আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে বদলাবে গার্ডারের রং।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলে যমুনার দুই পাড়ে দুইটি প্যাকেজে চলছে এই সেতুর নির্মাণকাজ। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও দক্ষ কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাতদিন সমান তালে চলছে পাইলিং এবং সুপার স্ট্রাকচারের কাজ। এরইমধ্যে সেতুর ৪৭ এবং ৪৮ নম্বর পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ অত্যাধুনিক স্প্যান।

প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (টাঙ্গাইল অংশ) আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা উন্নতমানের বিশেষ রকমের বড় বড় স্টিলের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যানগুলো। ইতোমধ্যে প্রথম স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। এখন চলছে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ।

এই প্রকল্পের নিরাপত্তা কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, এখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাতদিন কঠোর নজরদারি এগিয়ে চলছে সেতুর কাজ।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সূর্য সাংবাদিকদের বলেন, উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন আশার আলো দেখছি। কেননা ট্রেনে করে মালামাল বহন করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী। সেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৩৮টি ট্রেনই চলাচল করতে পারে।  তবে নতুন করে যে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু নির্মাণ হচ্ছে তা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেতুটিতে মোট ৫০টি পিলার থাকবে এবং ৪৯টি স্প্যান বসানো হবে। এটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

১০০ বছরেও মরিচা ধরবে না বঙ্গবন্ধু রেল সেতুতে

আপডেট সময় : ১০:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ ঘিরে চলছে মহা কর্মযজ্ঞ। সর্বোত্তম প্রযুক্তির লোহা আর কংক্রিটের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এই সেতুর নির্মাণ কাজ। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক ১টি স্প্যানও বসছে সেতুটিতে। এখন এগিয়ে চলছে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘একেবারেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সেতুটিতে আলাদা করে আর রং করার প্রয়োজন হবে না। এই প্রক্রিয়াটিই অনেক টেকসই। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগামী ১০০ বছরেও সেতুর কাঠামোতে কোনরকম মরিচা ধরবে না। এমনকি আবহাওয়া বদলের সাথে সাথে বদলাবে গার্ডারের রং।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইলে যমুনার দুই পাড়ে দুইটি প্যাকেজে চলছে এই সেতুর নির্মাণকাজ। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও দক্ষ কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাতদিন সমান তালে চলছে পাইলিং এবং সুপার স্ট্রাকচারের কাজ। এরইমধ্যে সেতুর ৪৭ এবং ৪৮ নম্বর পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ অত্যাধুনিক স্প্যান।

প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (টাঙ্গাইল অংশ) আব্দুল খালেক সাংবাদিকদের বলেন, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা উন্নতমানের বিশেষ রকমের বড় বড় স্টিলের কাঠামো দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে স্প্যানগুলো। ইতোমধ্যে প্রথম স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে। এখন চলছে দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর কাজ।

এই প্রকল্পের নিরাপত্তা কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, এখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাতদিন কঠোর নজরদারি এগিয়ে চলছে সেতুর কাজ।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সূর্য সাংবাদিকদের বলেন, উত্তাল যমুনার বুকে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু নির্মাণের মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন আশার আলো দেখছি। কেননা ট্রেনে করে মালামাল বহন করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী। সেতুটি নির্মাণ হওয়ার পর সিরাজগঞ্জ তথা উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীরা আরও বেশি লাভবান হবেন।

বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে প্রতিদিন মাত্র ৩৮টি ট্রেনই চলাচল করতে পারে।  তবে নতুন করে যে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু নির্মাণ হচ্ছে তা দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ৮৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সেতুটিতে মোট ৫০টি পিলার থাকবে এবং ৪৯টি স্প্যান বসানো হবে। এটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।