ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হুমকি-ধমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না : ফখরুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবারো জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাড়াবাড়ি তো সরকার করছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। এসব হুমকি-ধমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে তারা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ণ। তারা যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি এই ধরনের উক্তি করেছেন।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। হুমকি-ধমকি দিয়ে দমানো যাবে না। যদি মনে করে থাকেন হুমকি-ধমকি দিয়ে দমানো যাবে, তাহলে ঠিক জায়গায় বাস করছেন না।

বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে ফিরতে হবে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বাড়াবাড়ির কথা বলেছেন। বাড়াবাড়ি বলতে উনি কী বলছেন তার ব্যাখ্যা উনিই দেবেন। আমরা ফাঁদে পা দেবো না। জনগণের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি এ ধরনের কথা বলছেন। জনগণ এগিয়ে যাবে। একটাই লক্ষ্য আমাদের।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন উনার হুমকি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যাহত করবে, দমন করবে তাহলে তিনি সঠিক জায়গায় বাস করছেন না। যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা কেউ দমাতে সক্ষম হবে না। কোনো হুমকি-ধামকিতে কাজ হবে না।

তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি আমরা করছি না। বাড়াবাড়ি করছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকার। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মানুষের যে সাংবিধানিক অধিকার সভা-সমাবেশে হামলা চালাচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সাংবিধানিক অধিকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তারা বাধা দিচ্ছে। কোনো সভ্য দেশে দেখেছেন সরকার হরতাল দিয়ে দেয়। এরা হরতাল দিচ্ছে। বরিশালে আমাদের সমাবেশের পাঁচ দিন আগে থেকে বলে পরিবহন বন্ধ থাকবে। হঠাৎ করে নৌপরিবহনও বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি পটুয়াখালী থেকে বরিশাল আসার স্পিডবোটও বন্ধ করে দিয়েছে। এটাকে আপনার কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন। তারাই তো সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ তারা সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করছেন। এসব ভোঁতা যুক্তি দিয়ে লাভ নেই। জনগণ জেগে উঠেছে। তারা আবার যেন তেন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে, যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। জনগণের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। আমরা বিশ্বাস করি, গণঅভ্যুত্থানের কারণে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উক্তি (বিএনপির বাড়াবাড়ি) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তারা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ণ। তারা যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা যে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না সেটাও প্রমাণিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ধরনের উক্তি করা হয়েছে। আর এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী এমন উক্তি করেছেন যখন দেশে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে, যখন মানুষ তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে।

বিএনপি তার সিদ্ধান্তে অটল ও অবিচল— উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, ডাল, তেলের দাম বাড়ছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আবার চিনির দাম কেজিতে ১৪ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। সবমিলিয়ে দেশে যখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে ঠিক এমন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ভীত হয়ে বিএনপির প্রতিটি গণসমাবেশের আগে গণপরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে’- অভিযোগ করেন তিনি।

সময় থাকতে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, না হলে পালানোরও সুযোগ পাবেন না।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে পদে পদে তারা দুর্নীতি করছে এবং আজকেও পত্রিকায় বেরিয়েছে, গত ১০ বছরে কানাডাতে যারা অভিবাসী হয়েছে তাদের তিনভাগের একভাগ বাংলাদেশি। অথচ বিদেশে আমাদের শ্রমিক সংখ্যা না কমলেও রেমিট্যান্স কিন্তু কমছে। রেমিট্যান্স এখন বিদেশ থেকেই বিদেশে পাচার হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে জড়িতরা তা করছেন।

সরকার বিএনপিকে ভয় পেয়ে আবারও খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো কথা বলছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার শুধু বিএনপি নয়, গণ-জমায়েতে মানুষ দেখলেই ভয় পায়। কারণ জনগণ এবার জেগে উঠেছে। তারা কোনো কিছুতে পেছনে ফিরে যাবে না।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টনে আমাদের সমাবেশ ছিল। সেখান থেকে নাকি হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজে একটি টেলিভিশনে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা স্ববিরোধী, এক সময় বলছেন পুলিশ ছিল সামনে, আবার বলছেন কেউ ছিল না। এ ধরনের একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে আমাদের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং রিমান্ডে নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টনে আমাদের সমাবেশ ছিল। সেখান থেকে নাকি হামলা হয়েছেকিন্তু তিনি নিজে একটি টেলিভিশনে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা স্ববিরোধী, এক সময় বলছেন পুলিশ ছিল সামনে, আবার বলছেন কেউ ছিল না। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১১ জন রিমান্ডে আছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হুমকি-ধমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না : ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ নভেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবারো জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাড়াবাড়ি তো সরকার করছে। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। এসব হুমকি-ধমকি দিয়ে জনগণের আন্দোলন দমানো যাবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে তারা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ণ। তারা যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি এই ধরনের উক্তি করেছেন।

শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। হুমকি-ধমকি দিয়ে দমানো যাবে না। যদি মনে করে থাকেন হুমকি-ধমকি দিয়ে দমানো যাবে, তাহলে ঠিক জায়গায় বাস করছেন না।

বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার কারাগারে ফিরতে হবে’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, উনি (প্রধানমন্ত্রী) বাড়াবাড়ির কথা বলেছেন। বাড়াবাড়ি বলতে উনি কী বলছেন তার ব্যাখ্যা উনিই দেবেন। আমরা ফাঁদে পা দেবো না। জনগণের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি এ ধরনের কথা বলছেন। জনগণ এগিয়ে যাবে। একটাই লক্ষ্য আমাদের।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন উনার হুমকি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যাহত করবে, দমন করবে তাহলে তিনি সঠিক জায়গায় বাস করছেন না। যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা কেউ দমাতে সক্ষম হবে না। কোনো হুমকি-ধামকিতে কাজ হবে না।

তিনি বলেন, বাড়াবাড়ি আমরা করছি না। বাড়াবাড়ি করছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকার। তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে মানুষের যে সাংবিধানিক অধিকার সভা-সমাবেশে হামলা চালাচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে সাংবিধানিক অধিকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তারা বাধা দিচ্ছে। কোনো সভ্য দেশে দেখেছেন সরকার হরতাল দিয়ে দেয়। এরা হরতাল দিচ্ছে। বরিশালে আমাদের সমাবেশের পাঁচ দিন আগে থেকে বলে পরিবহন বন্ধ থাকবে। হঠাৎ করে নৌপরিবহনও বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি পটুয়াখালী থেকে বরিশাল আসার স্পিডবোটও বন্ধ করে দিয়েছে। এটাকে আপনার কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন। তারাই তো সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ তারা সব জায়গায় নিয়ন্ত্রণ করছেন। এসব ভোঁতা যুক্তি দিয়ে লাভ নেই। জনগণ জেগে উঠেছে। তারা আবার যেন তেন নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে চায়।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, জনগণ জেগে উঠেছে, যে কোনো ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। জনগণের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হবে। আমরা বিশ্বাস করি, গণঅভ্যুত্থানের কারণে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ উক্তি (বিএনপির বাড়াবাড়ি) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তারা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ণ। তারা যে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না তারা যে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না সেটাও প্রমাণিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ধরনের উক্তি করা হয়েছে। আর এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রী এমন উক্তি করেছেন যখন দেশে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে, যখন মানুষ তাদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে।

বিএনপি তার সিদ্ধান্তে অটল ও অবিচল— উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, ডাল, তেলের দাম বাড়ছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) আবার চিনির দাম কেজিতে ১৪ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। সবমিলিয়ে দেশে যখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে ঠিক এমন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

সরকার ভীত হয়ে বিএনপির প্রতিটি গণসমাবেশের আগে গণপরিবহন বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে’- অভিযোগ করেন তিনি।

সময় থাকতে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, না হলে পালানোরও সুযোগ পাবেন না।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে পদে পদে তারা দুর্নীতি করছে এবং আজকেও পত্রিকায় বেরিয়েছে, গত ১০ বছরে কানাডাতে যারা অভিবাসী হয়েছে তাদের তিনভাগের একভাগ বাংলাদেশি। অথচ বিদেশে আমাদের শ্রমিক সংখ্যা না কমলেও রেমিট্যান্স কিন্তু কমছে। রেমিট্যান্স এখন বিদেশ থেকেই বিদেশে পাচার হচ্ছে। সরকারের সঙ্গে জড়িতরা তা করছেন।

সরকার বিএনপিকে ভয় পেয়ে আবারও খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানো কথা বলছে কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার শুধু বিএনপি নয়, গণ-জমায়েতে মানুষ দেখলেই ভয় পায়। কারণ জনগণ এবার জেগে উঠেছে। তারা কোনো কিছুতে পেছনে ফিরে যাবে না।

আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টনে আমাদের সমাবেশ ছিল। সেখান থেকে নাকি হামলা হয়েছে। কিন্তু তিনি নিজে একটি টেলিভিশনে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা স্ববিরোধী, এক সময় বলছেন পুলিশ ছিল সামনে, আবার বলছেন কেউ ছিল না। এ ধরনের একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতে আমাদের ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং রিমান্ডে নিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে নয়াপল্টনে আমাদের সমাবেশ ছিল। সেখান থেকে নাকি হামলা হয়েছেকিন্তু তিনি নিজে একটি টেলিভিশনে যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা স্ববিরোধী, এক সময় বলছেন পুলিশ ছিল সামনে, আবার বলছেন কেউ ছিল না। অথচ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই রাতেই আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১১ জন রিমান্ডে আছে।