ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হিজাববিরোধী বিক্ষোভ ইরানে সন্ত্রাসী হামলার পথ তৈরি করেছে : রাইসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৫৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা দেশে ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পথ প্রশস্ত করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজে শিয়া মতাবলম্বীদের এক মাজারে বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জনের প্রাণহানির পর বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) তিনি এই মন্তব্য করেন।

হিজাব না পরার কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি জিম্মায় মারা যাওয়া মাহসা আমিনির মৃত্যু দেশটিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে। বুধবার মাহসা আমিনির নিজ শহরে তার প্রতি হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সময় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজে রক্তাক্ত ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই দুই ঘটনার যোগসূত্র টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, শত্রুদের উদ্দেশ্য দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত এবং পরে এসব দাঙ্গাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা।

মাগরিবের নামাজের সময় শিয়া মুসলিম শাহ চেরাঘের মাজারে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে লোকজনকে হত্যার ঘটনায় কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। শিরাজ শহরের ওই মাজারে হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি চরমপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশ ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি হেফাজত থেকে কোমায় নেওয়া হয় এই তরুণীকে। এর তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহসা আমিনি।

পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে হিজাববিরোধী আন্দোলন করেন ইরানের নারীরা। তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি ছাড়াও ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফরাসি অভিনেত্রী জুলিয়েট বিনোচি এবং ইসাবেলা হাপার্টও চুল কেটেছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বিপ্লবের পর এবারই প্রথম ইরানের হিজাববিরোধী আন্দোলনকারী নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ হয়েছে।

ইরানের সংখ্যালঘু কুর্দিদের আবাসস্থল দেশটির পশ্চিমাঞ্চল। মাহসা আমিনিও কুর্দি অধ্যুষিত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর পর ওই অঞ্চলে প্রথম ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে দেশটির অন্যান্য সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৪০ দিন ধরে দেশটিতে হিজাববিরোধী আন্দোলন চলছে। সূত্র: এএফপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

হিজাববিরোধী বিক্ষোভ ইরানে সন্ত্রাসী হামলার পথ তৈরি করেছে : রাইসি

আপডেট সময় : ০৭:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেন, মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা দেশে ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পথ প্রশস্ত করেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজে শিয়া মতাবলম্বীদের এক মাজারে বন্দুকধারীর হামলায় ১৫ জনের প্রাণহানির পর বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) তিনি এই মন্তব্য করেন।

হিজাব না পরার কারণে গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশি জিম্মায় মারা যাওয়া মাহসা আমিনির মৃত্যু দেশটিতে নজিরবিহীন বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে। বুধবার মাহসা আমিনির নিজ শহরে তার প্রতি হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সময় দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শিরাজে রক্তাক্ত ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) দেশটির অতি-রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এই দুই ঘটনার যোগসূত্র টানার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, শত্রুদের উদ্দেশ্য দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত এবং পরে এসব দাঙ্গাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা।

মাগরিবের নামাজের সময় শিয়া মুসলিম শাহ চেরাঘের মাজারে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে লোকজনকে হত্যার ঘটনায় কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। শিরাজ শহরের ওই মাজারে হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি চরমপন্থী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশ ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি হেফাজত থেকে কোমায় নেওয়া হয় এই তরুণীকে। এর তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহসা আমিনি।

পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে হিজাববিরোধী আন্দোলন করেন ইরানের নারীরা। তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি ছাড়াও ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফরাসি অভিনেত্রী জুলিয়েট বিনোচি এবং ইসাবেলা হাপার্টও চুল কেটেছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বিপ্লবের পর এবারই প্রথম ইরানের হিজাববিরোধী আন্দোলনকারী নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ হয়েছে।

ইরানের সংখ্যালঘু কুর্দিদের আবাসস্থল দেশটির পশ্চিমাঞ্চল। মাহসা আমিনিও কুর্দি অধ্যুষিত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর পর ওই অঞ্চলে প্রথম ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে দেশটির অন্যান্য সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৪০ দিন ধরে দেশটিতে হিজাববিরোধী আন্দোলন চলছে। সূত্র: এএফপি।