ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হামরা ভাত চাই না, ত্রাণ চাই না : চাই শুধু বেঁড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা (খুলনা) থেকে
  • আপডেট সময় : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
  • / ৪৪৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হামরা (আমরা) ভাত চাই না,ত্রাণ চাই না, চাই শুধু বেঁড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান। বেড়ি না অইলে(হলে) আমাগো জীবন বাঁচানো কষ্টের অবে(হবে)।যে কোন সময় আমরা তলাইয়া জামু(যাব)। এহন(এখন) বাঁচানোর জন্নে(জন্য) আগে লাগবে বেঁড়ি। তাই আশ্বাস নয় বাস্তবায়ন চাই। ভিটেমাটি নিয়ে বাঁচতে চাই। এই আক্ষেপে ভারী হয়েছে কপোতাক্ষ পাড়ের এলাকার বাসিন্দাদের।

দৈনিক খুলনাকে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদীর তীরবর্তী দশালিয়া গ্রামের রহিমা বেগম।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে সরেজমিনে কপোতাক্ষ নদীর তীরে দশালিয়া গ্রামে দেখা যায় ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রেমেলের জলোচ্ছাসে দশালিয়ার দুই পয়েন্টে ১৫০ মিটার বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে তা এখন খালে পরিনত হয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি এসে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙা বেঁড়িবাধের কারনে গত রবিবার থেকে চরম দূর্ভোগে আছেন ওই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার। জোয়ারের পানিতে গ্রামটি ডুবে। আর ভাটার সময় তাদের মুখে হাসি ফোটে।

দশালিয়া গ্রামের আঃ আলিম বলেন, প্রতিবেদককে বলেন, ১৫ বছন ধরে ওই ভাঙা বাঁধ আমাদের গ্রামবাসীদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের পানি এলাকায় ঢুকে বাড়িঘর তলিয়ে যেত। এক বছর আগে নতুন বেঁড়িবাঁধ নির্মান করা হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমেলে সে বাঁধটি ভেঙে গ্রাম সহ ৭০০ বিঘার মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। আমার ৭০ বিঘার ঘের ছিল তা সব তলিয়ে গেছে। এবং আমার ২০ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের আগের দিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন কে আমি দুটো পা ধওে বলেছি, এই জায়গায় টা নিচু হয়ে গেছে, বালির বস্তা সওে গেছে।বাঁধটি ঝুকিপূর্ণ তাই ঝড়ের আগে সংস্কারের জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তারা এড়িয়ে গেছে। আপনার পা ধরি এখানে একটু মেরামতের ব্যবস্থা করেন, সে বলে আমরা করতে পারব না বরাদ্ধ নেই, পারলে তোমরা কর। সোলায়মান গিয়ে ছবি তুলে চলে আগে কাজ করা হল না। ঠিক সেই জায়গা দিয়ে ভেঙে গেছে। অথচ বাঁধ ভাঙলে বারবার ভুক্তভুগি মানুষকেই তা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হয়।

৭৫ বছরের বৃদ্ধ আছেররোদ্দি মোড়ল আমি আমি ৩০ বছর ধরে দেখছি দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ ভাঙছে। আমার কয়েক বিঘা সহ তিন চার বার বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। কেদে কেদে বলেন, আর কত এখন শুধু বসত ভিটা টুকু আছে সেটা গেলে আর বসবাস হবে না। কোথায় যাব কি করব বুঝতে পারছি না বয়স হয়েছে এখন তোর কাজ করতে পারি না। একমাত্র এই পানি উন্য়ন বোর্ডের কারনে প্রতি বছর শতশত পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সহায়-সম্বল ও বসত বাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবসীর দাবি আমরা প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন কিছু চাই না। কপোতাক্ষ নদীর ভাঙনের হাত থেকে বাচতে স্থায়ী বেঁড়িবাঁধের সমাধান চাই।

একই এলাকার বৃদ্ধ কলিমুদ্দিন বলেন , এত কষ্ট করি, ঘেরের রাস্তা করি, মাছ ছাড়ি, ফসল আবাদ করি, তা সা নদী ভাসে নিয়া যায়। হামাক একট ডিঙি নৌকা ছিল সেটাও ভ্যাঙি ভেঙ্গে) দু’ভাগ হয়ে গেছে। হামাকগুলোক দয়া করি নদীটা বান্দি দিলে হয়। তাহলে হামারগুলোর কষ্ট থাকে না। হামাকগুলোক একমাত্র নদী ফকির বানইছে।

স্বপন কুমার বলেন, একদিন আয় না করলে চলে না। তবুও বাচার তাগিদে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতি হচ্ছে। আমরা না করলি এ বাঁধ বানতি অনেক দেরি হবে। তখন এলাকার বসবাস করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। বাঁধ মেরামতের দায়িত্বেও মধ্যি পড়ে, তারা কেউ সময় থাকতি এগোয় না। যত মরণ আমাদের মতো খাইটে খাওয়া মানুষের। এ জন্য এবার হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিদাররা আসলে ওদের মারব না হয় আমরা মরব।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমেলের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে সোমবার ভোরের দিকে কয়রার মহারাজপুর, মহেশ^রীপুর, কয়রা সদর, বাগালী, আমাদী, উত্তরবেদকাশি , দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ১৭ টি স্থানে পানি উন্নয়ন রোর্ডের বেঁড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সকালে নদীতে জোয়ার শেষ হলে স্থানীয় রোকজন সেচ্ছাশ্রমে সেসব স্থানে মেরামতের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। বাঁধের উপর কাদামটি ভর্তি বস্তা দিয়ে উচু করলেও দুপুরের জোয়ারে ও তীব্র ঝড়ো বতাস আর ভারি বৃষ্টিতে কয়েকটি জায়গায় পুনরায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে মহেশ^রীপুর ইউনিয়নের অনেক ক্ষতির পরও সিংহের চর বাঁধ আটকানো সম্ভব হলেও সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে দশালিয়ার বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে উপচে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দিয়ে যাতে পুনরায় লোকালয়ে পানি না ঢোকে এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সেচ্ছাশ্রমে কাজ করলেও, পাউবোর পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকজনকে বস্তা, বাশ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। শুধু মাত্র দশালিয়ার বেঁড়িবাধ ভেঙে গেছে তবে আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি দ্রæত ব্যবস্থা করব। বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হামরা ভাত চাই না, ত্রাণ চাই না : চাই শুধু বেঁড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান

আপডেট সময় : ১০:১১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪

হামরা (আমরা) ভাত চাই না,ত্রাণ চাই না, চাই শুধু বেঁড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান। বেড়ি না অইলে(হলে) আমাগো জীবন বাঁচানো কষ্টের অবে(হবে)।যে কোন সময় আমরা তলাইয়া জামু(যাব)। এহন(এখন) বাঁচানোর জন্নে(জন্য) আগে লাগবে বেঁড়ি। তাই আশ্বাস নয় বাস্তবায়ন চাই। ভিটেমাটি নিয়ে বাঁচতে চাই। এই আক্ষেপে ভারী হয়েছে কপোতাক্ষ পাড়ের এলাকার বাসিন্দাদের।

দৈনিক খুলনাকে এভাবে কথাগুলো বলছিলেন, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদীর তীরবর্তী দশালিয়া গ্রামের রহিমা বেগম।

মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেলে সরেজমিনে কপোতাক্ষ নদীর তীরে দশালিয়া গ্রামে দেখা যায় ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রেমেলের জলোচ্ছাসে দশালিয়ার দুই পয়েন্টে ১৫০ মিটার বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে তা এখন খালে পরিনত হয়েছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি এসে প্লাবিত হচ্ছে গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙা বেঁড়িবাধের কারনে গত রবিবার থেকে চরম দূর্ভোগে আছেন ওই গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার। জোয়ারের পানিতে গ্রামটি ডুবে। আর ভাটার সময় তাদের মুখে হাসি ফোটে।

দশালিয়া গ্রামের আঃ আলিম বলেন, প্রতিবেদককে বলেন, ১৫ বছন ধরে ওই ভাঙা বাঁধ আমাদের গ্রামবাসীদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জোয়ারের পানি এলাকায় ঢুকে বাড়িঘর তলিয়ে যেত। এক বছর আগে নতুন বেঁড়িবাঁধ নির্মান করা হয়। ঘূর্ণিঝড় রেমেলে সে বাঁধটি ভেঙে গ্রাম সহ ৭০০ বিঘার মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। আমার ৭০ বিঘার ঘের ছিল তা সব তলিয়ে গেছে। এবং আমার ২০ লক্ষ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঝড়ের আগের দিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন কে আমি দুটো পা ধওে বলেছি, এই জায়গায় টা নিচু হয়ে গেছে, বালির বস্তা সওে গেছে।বাঁধটি ঝুকিপূর্ণ তাই ঝড়ের আগে সংস্কারের জন্য বারবার তাগিদ দেয়া হলেও তারা এড়িয়ে গেছে। আপনার পা ধরি এখানে একটু মেরামতের ব্যবস্থা করেন, সে বলে আমরা করতে পারব না বরাদ্ধ নেই, পারলে তোমরা কর। সোলায়মান গিয়ে ছবি তুলে চলে আগে কাজ করা হল না। ঠিক সেই জায়গা দিয়ে ভেঙে গেছে। অথচ বাঁধ ভাঙলে বারবার ভুক্তভুগি মানুষকেই তা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হয়।

৭৫ বছরের বৃদ্ধ আছেররোদ্দি মোড়ল আমি আমি ৩০ বছর ধরে দেখছি দশালিয়া বেঁড়িবাঁধ ভাঙছে। আমার কয়েক বিঘা সহ তিন চার বার বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। কেদে কেদে বলেন, আর কত এখন শুধু বসত ভিটা টুকু আছে সেটা গেলে আর বসবাস হবে না। কোথায় যাব কি করব বুঝতে পারছি না বয়স হয়েছে এখন তোর কাজ করতে পারি না। একমাত্র এই পানি উন্য়ন বোর্ডের কারনে প্রতি বছর শতশত পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে সহায়-সম্বল ও বসত বাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এলাকাবসীর দাবি আমরা প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ের সময় কোন কিছু চাই না। কপোতাক্ষ নদীর ভাঙনের হাত থেকে বাচতে স্থায়ী বেঁড়িবাঁধের সমাধান চাই।

একই এলাকার বৃদ্ধ কলিমুদ্দিন বলেন , এত কষ্ট করি, ঘেরের রাস্তা করি, মাছ ছাড়ি, ফসল আবাদ করি, তা সা নদী ভাসে নিয়া যায়। হামাক একট ডিঙি নৌকা ছিল সেটাও ভ্যাঙি ভেঙ্গে) দু’ভাগ হয়ে গেছে। হামাকগুলোক দয়া করি নদীটা বান্দি দিলে হয়। তাহলে হামারগুলোর কষ্ট থাকে না। হামাকগুলোক একমাত্র নদী ফকির বানইছে।

স্বপন কুমার বলেন, একদিন আয় না করলে চলে না। তবুও বাচার তাগিদে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতি হচ্ছে। আমরা না করলি এ বাঁধ বানতি অনেক দেরি হবে। তখন এলাকার বসবাস করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না। বাঁধ মেরামতের দায়িত্বেও মধ্যি পড়ে, তারা কেউ সময় থাকতি এগোয় না। যত মরণ আমাদের মতো খাইটে খাওয়া মানুষের। এ জন্য এবার হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিদাররা আসলে ওদের মারব না হয় আমরা মরব।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রেমেলের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে সোমবার ভোরের দিকে কয়রার মহারাজপুর, মহেশ^রীপুর, কয়রা সদর, বাগালী, আমাদী, উত্তরবেদকাশি , দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ১৭ টি স্থানে পানি উন্নয়ন রোর্ডের বেঁড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। সকালে নদীতে জোয়ার শেষ হলে স্থানীয় রোকজন সেচ্ছাশ্রমে সেসব স্থানে মেরামতের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে। বাঁধের উপর কাদামটি ভর্তি বস্তা দিয়ে উচু করলেও দুপুরের জোয়ারে ও তীব্র ঝড়ো বতাস আর ভারি বৃষ্টিতে কয়েকটি জায়গায় পুনরায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবে মহেশ^রীপুর ইউনিয়নের অনেক ক্ষতির পরও সিংহের চর বাঁধ আটকানো সম্ভব হলেও সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে দশালিয়ার বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন বলেন, জোয়ারের পানিতে উপচে ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ দিয়ে যাতে পুনরায় লোকালয়ে পানি না ঢোকে এজন্য স্থানীয় বাসিন্দারা সেচ্ছাশ্রমে কাজ করলেও, পাউবোর পক্ষ থেকে স্থানীয় লোকজনকে বস্তা, বাশ দিয়ে সহযোগিতা করেছি। শুধু মাত্র দশালিয়ার বেঁড়িবাধ ভেঙে গেছে তবে আমরা উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি দ্রæত ব্যবস্থা করব। বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে।