ঢাকা ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হাটে ক্রেতা নেই, আছে গরু দেখার ভিড়

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪
  • / ৪২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোরবানীর ঈদের আর মাত্র বাকি ২ দিন। ঈদ কে কেন্দ্র করে কয়রায় বিভিন্ন স্থানে বসছে কোরবানীর হাট। কয়রা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এখনও বেচা- বিক্রি নেই বললেই চলে। এখনও জমে ওঠেনি উপজেলার কোরবানির পশুর হাট। চুপচাপ বসে থেকে সময় কাটছে দুদুরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীদের। বাজারে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর উপস্থিতি বেশি। তবে ব্যবসায়ীদের আশা , ঈদের আগেই অথ্যাৎ শেষ দুই হাটে কাঙ্খিত পশু বিক্রি করতে পারবেন তারা।

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া জিআইবি ক্লাব মাঠে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাইরে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে এখানে গরু আনা হয়েছে।পুরো ৭ বিঘা মাঠে ৫ হাজারের বেশি গরু, ৪ হাজার ছাগল ও ১ হাজার ভেড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে । এই মাঠে পাশ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা আশাশুনি, শ্যামনগর, তালা, কাঁদাকাটি, কপিলমুনি, চুকনগর, আঠারমাইলসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় দুই শতাধিক ব্যাপারী এই হাটে গরু ছাগল এনেছেন। সাথে কয়রা উপজেলার স্থানীয় গরু খামারিরা বাড়ীতে পালা দেশি গরু ও ছাগল এনেছেন তাদেও পছন্দের হাটে। কিন্তু ক্রেতার তেমন উপস্থিতি নেই।
বরাবরের মতোই কয়রায় রেড কাউ বা লাল রঙের চাহিদা বেশি। দেখতে সুন্দর, তেজি গরুর দামও বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তবে হাট গুলোতে হাজার হাজার পশু থাকলেও বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা।

কারণ হিসেবে ব্যাপারীরা বলেন, গরু কিনে বাসায় লালন-পালন করা ঝামেলার। তাই প্রায় কোরবানিদাতারা একদিন আগেই বেশি গরু কেনেন। তবে কয়রায় স্থায়ী অস্থায়ী হাটের মধ্যে বামিয়া জিআইবি ক্লাব মাঠ একেবারে রাস্তার পাশে হওয়ায় ব্যাপারীরা তাদের পছন্দের হাট বেছে নিয়েছেন বলে এ হাটে এবার সর্বোচ্চ গরু, ছাগল উঠেছে।

আশাশুনি থেকে গরু এনেছেন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ৩৪ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করে আসছেন। তিনি জানান, এবার কোরবানী ঈদ উপলক্ষে হাটে ১১ টি নিজেদের পালন করা গরু নিয়ে এনেছি। ছোট থেকে মাঝারি ও বড় গরু আনা হয়েছে। বামিয়ার এই হাট পর্যন্ত গরু আনতে মিনি পিকাপ ভাড়া নিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা গরু দেখে শুধু দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। তিনি তার আনা বড় গরুর দাম চেয়েছেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। মাঝারি গরুর দাম ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ও ছোট গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এখনও কোনো গরু বিক্রি হয়নি। ক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি চলছে।

সাতক্ষীরার তালা থেকে কয়রার বাময়িা হাটে গরু এনেছেন তাজুল ইসলাম সহ তার পরিচিত কয়েকজন। তিনি বলেন, কোরবানী ঈদ উপলক্ষে হাটে তাদের মাঝারি থেকে বড় সাইজের ২০০ টি গরু আসবে। ইতিমধ্যে ৫০ টি গরু এসছে। এখন পর্যন্ত ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা খালি গরু দেখে যাচ্ছেন।আর যারা দাম বলছেন, তা চাওয়া দামের চেয়ে অনেক কম। ১০ থেকে ১২ মণ ওজনের একটি গরুর দাম চেয়েছি ৪ লক্ষ টাকা কিন্তু ক্রেতারা বলছে ৩ লক্ষ টাকা। গতবারের চেয়ে এ বছরে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। তাই পশুর দাম কিছুটা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে। তবে এই হাটে শনিবার ও রবিবার হাট চলবে সেজন্য বাড়ীতে গরু আনতে লোক পাঠিয়েছি রাতে আমরা এই মাঠে থাকব।

স্থানীয় লোকজন জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার হাটের পরিসর বেশ বড়। নিরাপত্ত ও ভাল। গরুও এসেছে বেশি, দামও বেশি।

বামিয়া জিআইবি ক্লাবের উপদেষ্ঠা এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটের প্রস্তুতি শেষ বললেই চলে। মাঠে নিরাপত্তার জন্য পুরো মাঠে আলো সহ সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং শতাধিক সেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে হাটে পশুতে ভরে গেছে। শনিবার ও রবিবার বেচাকেনা জমে উঠবে। তিনি বলেন, এখানে বিক্রি গরু প্রতি অথ্যাৎ যারা পশু কিনবেন তাদেরকে পাশ খরচ বাবদ একহাজার টাকা। আর যারা গরু, ছাগল নিয়ে এসেছেন তাদের গরু, ছাগল বিক্রি হলে প্রতি পশু প্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে। বিক্রি না হলে কোন টাকা দেওয়া লাগবে না।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

হাটে ক্রেতা নেই, আছে গরু দেখার ভিড়

আপডেট সময় : ০৭:৫৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪

কোরবানীর ঈদের আর মাত্র বাকি ২ দিন। ঈদ কে কেন্দ্র করে কয়রায় বিভিন্ন স্থানে বসছে কোরবানীর হাট। কয়রা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এখনও বেচা- বিক্রি নেই বললেই চলে। এখনও জমে ওঠেনি উপজেলার কোরবানির পশুর হাট। চুপচাপ বসে থেকে সময় কাটছে দুদুরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীদের। বাজারে ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থীর উপস্থিতি বেশি। তবে ব্যবসায়ীদের আশা , ঈদের আগেই অথ্যাৎ শেষ দুই হাটে কাঙ্খিত পশু বিক্রি করতে পারবেন তারা।

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া জিআইবি ক্লাব মাঠে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাইরে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে এখানে গরু আনা হয়েছে।পুরো ৭ বিঘা মাঠে ৫ হাজারের বেশি গরু, ৪ হাজার ছাগল ও ১ হাজার ভেড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে । এই মাঠে পাশ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার বিভিন্ন উপজেলা আশাশুনি, শ্যামনগর, তালা, কাঁদাকাটি, কপিলমুনি, চুকনগর, আঠারমাইলসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় দুই শতাধিক ব্যাপারী এই হাটে গরু ছাগল এনেছেন। সাথে কয়রা উপজেলার স্থানীয় গরু খামারিরা বাড়ীতে পালা দেশি গরু ও ছাগল এনেছেন তাদেও পছন্দের হাটে। কিন্তু ক্রেতার তেমন উপস্থিতি নেই।
বরাবরের মতোই কয়রায় রেড কাউ বা লাল রঙের চাহিদা বেশি। দেখতে সুন্দর, তেজি গরুর দামও বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তবে হাট গুলোতে হাজার হাজার পশু থাকলেও বিক্রি হচ্ছে হাতেগোনা।

কারণ হিসেবে ব্যাপারীরা বলেন, গরু কিনে বাসায় লালন-পালন করা ঝামেলার। তাই প্রায় কোরবানিদাতারা একদিন আগেই বেশি গরু কেনেন। তবে কয়রায় স্থায়ী অস্থায়ী হাটের মধ্যে বামিয়া জিআইবি ক্লাব মাঠ একেবারে রাস্তার পাশে হওয়ায় ব্যাপারীরা তাদের পছন্দের হাট বেছে নিয়েছেন বলে এ হাটে এবার সর্বোচ্চ গরু, ছাগল উঠেছে।

আশাশুনি থেকে গরু এনেছেন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ৩৪ বছর ধরে গরুর ব্যবসা করে আসছেন। তিনি জানান, এবার কোরবানী ঈদ উপলক্ষে হাটে ১১ টি নিজেদের পালন করা গরু নিয়ে এনেছি। ছোট থেকে মাঝারি ও বড় গরু আনা হয়েছে। বামিয়ার এই হাট পর্যন্ত গরু আনতে মিনি পিকাপ ভাড়া নিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা গরু দেখে শুধু দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। তিনি তার আনা বড় গরুর দাম চেয়েছেন সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। মাঝারি গরুর দাম ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ও ছোট গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এখনও কোনো গরু বিক্রি হয়নি। ক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি চলছে।

সাতক্ষীরার তালা থেকে কয়রার বাময়িা হাটে গরু এনেছেন তাজুল ইসলাম সহ তার পরিচিত কয়েকজন। তিনি বলেন, কোরবানী ঈদ উপলক্ষে হাটে তাদের মাঝারি থেকে বড় সাইজের ২০০ টি গরু আসবে। ইতিমধ্যে ৫০ টি গরু এসছে। এখন পর্যন্ত ৫টি গরু বিক্রি হয়েছে। ক্রেতারা খালি গরু দেখে যাচ্ছেন।আর যারা দাম বলছেন, তা চাওয়া দামের চেয়ে অনেক কম। ১০ থেকে ১২ মণ ওজনের একটি গরুর দাম চেয়েছি ৪ লক্ষ টাকা কিন্তু ক্রেতারা বলছে ৩ লক্ষ টাকা। গতবারের চেয়ে এ বছরে গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। তাই পশুর দাম কিছুটা বাড়তি চাওয়া হচ্ছে। তবে এই হাটে শনিবার ও রবিবার হাট চলবে সেজন্য বাড়ীতে গরু আনতে লোক পাঠিয়েছি রাতে আমরা এই মাঠে থাকব।

স্থানীয় লোকজন জানান, অন্যবারের তুলনায় এবার হাটের পরিসর বেশ বড়। নিরাপত্ত ও ভাল। গরুও এসেছে বেশি, দামও বেশি।

বামিয়া জিআইবি ক্লাবের উপদেষ্ঠা এইচএম নজরুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটের প্রস্তুতি শেষ বললেই চলে। মাঠে নিরাপত্তার জন্য পুরো মাঠে আলো সহ সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং শতাধিক সেচ্ছাসেবক মাঠে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে হাটে পশুতে ভরে গেছে। শনিবার ও রবিবার বেচাকেনা জমে উঠবে। তিনি বলেন, এখানে বিক্রি গরু প্রতি অথ্যাৎ যারা পশু কিনবেন তাদেরকে পাশ খরচ বাবদ একহাজার টাকা। আর যারা গরু, ছাগল নিয়ে এসেছেন তাদের গরু, ছাগল বিক্রি হলে প্রতি পশু প্রতি ১০০ টাকা করে দিতে হবে। বিক্রি না হলে কোন টাকা দেওয়া লাগবে না।

 

বাখ//আর