ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

হঠাৎ সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় পিটার হাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৫৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠকে তাঁদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে—এ নিয়ে কিছু জানা যায়নি।

সোমবার দুপুর আড়াইটায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। বেলা প্রায় ২ টা ৫০ মিনিটে তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর পরীবাগের বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক পরামর্শক অরতুরো হাইনস তাঁর সাথে ছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বর্তমান একাদশ সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষ। এখন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে তৎপরতা বাড়িয়েছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো। আমেরিকা বলে আসছে, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায় তারা। নির্বাচনে বাধা দেওয়াদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে দেশটি। এরই মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে রেষারেষি ততই বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত নেই।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন হতে হবে এ বছরের নভেম্বর থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নভেম্বরেই হতে পারে নির্বাচনের তফসিল আর ভোট হবে জানুয়ারির প্রথমার্ধে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীদের আনতে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ আছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতায় সংলাপ বা আলোচনার বিকল্প কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি বলে আসছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। এর অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোতে কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীরা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের অনেককেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতা–কর্মীরা।

আওয়ামী লীগও বলে আসছে, উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় এটি আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদে রেখে, নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

অন্যদিকে, গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।

বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশত। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।

ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তাদের এ অবরোধের শেষদিন গত ২ নভেম্বর বিকেলে নতুন করে রোববার ও সোমবার অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। প্রতিবারের মতো এবারও এই অবরোধে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী।

এই কর্মসূচি শেষে নতুন করে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় অবরোধ ডেকেছে বিএনপি। বিএনপির হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিও ছিল সহিংস। ফায়ার সার্ভিস বলছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সারাদেশে মোট ১১০টি যানবাহনে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় উসকানি, নাশকতা ও আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

হঠাৎ সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসায় পিটার হাস

আপডেট সময় : ১১:১৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। বৈঠকে তাঁদের মধ্যে কি আলোচনা হয়েছে—এ নিয়ে কিছু জানা যায়নি।

সোমবার দুপুর আড়াইটায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস তাঁর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন। বেলা প্রায় ২ টা ৫০ মিনিটে তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর পরীবাগের বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক পরামর্শক অরতুরো হাইনস তাঁর সাথে ছিলেন। সেখানে তিনি প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন।

বর্তমান একাদশ সংসদের মেয়াদ প্রায় শেষ। এখন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সামনে রেখে দেশে তৎপরতা বাড়িয়েছে আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো। আমেরিকা বলে আসছে, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন দেখতে চায় তারা। নির্বাচনে বাধা দেওয়াদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে দেশটি। এরই মধ্যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে।

এদিকে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে রেষারেষি ততই বাড়ছে। নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার কোনো আলামত এখন পর্যন্ত নেই।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় নির্বাচন হতে হবে এ বছরের নভেম্বর থেকে আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই নভেম্বরেই হতে পারে নির্বাচনের তফসিল আর ভোট হবে জানুয়ারির প্রথমার্ধে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীদের আনতে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ আছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতায় সংলাপ বা আলোচনার বিকল্প কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।

বিএনপি বলে আসছে, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে তারা অংশ নেবে না। এর অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, সেগুলোতে কোনো প্রার্থী দেয়নি বিএনপি ও তাদের জোট সঙ্গীরা। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের অনেককেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করছেন দলটির নেতা–কর্মীরা।

আওয়ামী লীগও বলে আসছে, উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ায় এটি আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদে রেখে, নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

অন্যদিকে, গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও।

বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশত। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল।

ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

তাদের এ অবরোধের শেষদিন গত ২ নভেম্বর বিকেলে নতুন করে রোববার ও সোমবার অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। প্রতিবারের মতো এবারও এই অবরোধে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী।

এই কর্মসূচি শেষে নতুন করে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় অবরোধ ডেকেছে বিএনপি। বিএনপির হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচিও ছিল সহিংস। ফায়ার সার্ভিস বলছে, গত ২৮ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সারাদেশে মোট ১১০টি যানবাহনে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় উসকানি, নাশকতা ও আগুন দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে।