ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন সংযোজন মেট্রোরেল : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্টের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন সংযোজন মেট্রোরেল। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য আমরা স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তুলবো।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উত্তরার দিয়াবাড়ি মাঠে দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি সারা বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। আজকে আমরা আরেকটি নতুন অহংকারের পালক বাংলাদেশের জনগণের মাথার মুকুটে সংযোজিত করলাম। এটা হচ্ছে এমআরটি লাইন সিক্স। একটু আগেই মেট্রোরেলের উদ্বোধন করছি। নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন জনগণ। এজন্য সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আবার প্রমাণিত হলো আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।

মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেট্রোরেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত গতির রেলযুগে প্রবেশ করলো। ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল। অনেক টাকা খরচ করে মেট্রোরেল করা হয়েছে। এই মেট্রোরেল সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। যাতে মেট্রোরেলের কোনো কিছু নষ্ট না হয়, সে জন্য তিনি সবাইকে তা ব্যবহারে যত্নশীল হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, এমআরটি লাইন-৬ আজ যাত্রা শুরু করছে। প্রতি মেট্রো ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা বগি থাকবে, আলাদা টয়লেট থাকবে। বাচ্চাদের পরিচর্যা করার সুযোগ থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি ফ্রি চলাচল করবেন।

তিনি জানান, এই রেল চালুর ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হবে। দৈনিক যাতায়াতের যে সময় নষ্ট হয়, টাকাপয়সা নষ্ট হয় তা আর হবে না। আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা হবে এই মেট্রোরেল। মেট্রোরেল পরিচালনায় চারগুণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তুলবো।

মেট্রোরেলকে পরিবেশবান্ধর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শব্দ ও কম্পন্ন দূষণমাত্রার অনেক নিচে থাকবে মেট্রোরেল।

তিনি বলেন, মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণকাজের সময় দুই পাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ীসহ জনগণকে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, কষ্ট হয়েছে। এখন সেই কষ্ট শেষ। এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। করোনার মধ্যেও কাজ চলার কারণে আজ আমরা এটা উদ্বোধন করতে পারলাম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক টাকা খরচ করে এই মেট্রোরেল করতে হয়েছে। এটা যারা ব্যবহার করেছে তাদের দায়িত্ব এটা সংরক্ষণ করা। সবাই যত্নবান হবেন। কেউ যেন আবর্জনা ফেলতে না পারে, অপরিচ্ছন্ন করতে না পারে।

মেট্রোরেলের ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদের এবং মেয়র আতিকুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেকোনও কাজ করতে গেলে সাহসের প্রয়োজন হয়। আওয়ামী লীগ সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ১৪ বছরের মধ্যে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ‘৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়েছি। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়, আজ এটা আবারও প্রমাণ হলো। এগিয়ে যাবো আমরা দুর্বার গতিতে।

দেশের প্রথম উড়াল মেট্রো রেলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে পাঁচ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। ছয়টি কোচ সংবলিত প্রতিটি একমুখী রেলগাড়ি প্রতিবারে ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে থেমে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। মেট্রো রেলে অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমবে।

উত্তরায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দুইটার দিকে দিয়াবাড়ী (উত্তরা) স্টেশন থেকে মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী নিয়ে আগারগাঁওয়ের দিকে ছুটবে। প্রথম যাত্রার যাত্রী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। তবে সাধারণ যাত্রীরা মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন বৃহস্পতিবার থেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লা নুরী, মেট্রোরেল কোম্পানীর এমডি এম এন সিদ্দিকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

এর আগে, বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত ও দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন সংযোজন মেট্রোরেল : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৩৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল থেকে স্মার্টের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন সংযোজন মেট্রোরেল। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য আমরা স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তুলবো।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উত্তরার দিয়াবাড়ি মাঠে দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি সারা বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে। আজকে আমরা আরেকটি নতুন অহংকারের পালক বাংলাদেশের জনগণের মাথার মুকুটে সংযোজিত করলাম। এটা হচ্ছে এমআরটি লাইন সিক্স। একটু আগেই মেট্রোরেলের উদ্বোধন করছি। নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দিয়েছিলেন জনগণ। এজন্য সবাইকে শুভেচ্ছা। আজ আবার প্রমাণিত হলো আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়।

মেট্রোরেল উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মেট্রোরেলের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত গতির রেলযুগে প্রবেশ করলো। ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে মেট্রোরেল। অনেক টাকা খরচ করে মেট্রোরেল করা হয়েছে। এই মেট্রোরেল সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। যাতে মেট্রোরেলের কোনো কিছু নষ্ট না হয়, সে জন্য তিনি সবাইকে তা ব্যবহারে যত্নশীল হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারপ্রধান বলেন, এমআরটি লাইন-৬ আজ যাত্রা শুরু করছে। প্রতি মেট্রো ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা বগি থাকবে, আলাদা টয়লেট থাকবে। বাচ্চাদের পরিচর্যা করার সুযোগ থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুরোপুরি ফ্রি চলাচল করবেন।

তিনি জানান, এই রেল চালুর ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে। অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হবে। দৈনিক যাতায়াতের যে সময় নষ্ট হয়, টাকাপয়সা নষ্ট হয় তা আর হবে না। আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা হবে এই মেট্রোরেল। মেট্রোরেল পরিচালনায় চারগুণ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আমরা স্মার্ট জনশক্তি গড়ে তুলবো।

মেট্রোরেলকে পরিবেশবান্ধর হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শব্দ ও কম্পন্ন দূষণমাত্রার অনেক নিচে থাকবে মেট্রোরেল।

তিনি বলেন, মেট্রোরেল লাইনের নির্মাণকাজের সময় দুই পাশের বাসিন্দা, ব্যবসায়ীসহ জনগণকে খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, কষ্ট হয়েছে। এখন সেই কষ্ট শেষ। এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। করোনার মধ্যেও কাজ চলার কারণে আজ আমরা এটা উদ্বোধন করতে পারলাম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অনেক টাকা খরচ করে এই মেট্রোরেল করতে হয়েছে। এটা যারা ব্যবহার করেছে তাদের দায়িত্ব এটা সংরক্ষণ করা। সবাই যত্নবান হবেন। কেউ যেন আবর্জনা ফেলতে না পারে, অপরিচ্ছন্ন করতে না পারে।

মেট্রোরেলের ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, ওবায়দুল কাদের এবং মেয়র আতিকুল ইসলাম

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেকোনও কাজ করতে গেলে সাহসের প্রয়োজন হয়। আওয়ামী লীগ সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ১৪ বছরের মধ্যে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। ‘৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়েছি। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়, আজ এটা আবারও প্রমাণ হলো। এগিয়ে যাবো আমরা দুর্বার গতিতে।

দেশের প্রথম উড়াল মেট্রো রেলে ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে পাঁচ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। ছয়টি কোচ সংবলিত প্রতিটি একমুখী রেলগাড়ি প্রতিবারে ৩৮ মিনিটে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে থেমে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। মেট্রো রেলে অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে ছোট যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপকভাবে কমবে।

উত্তরায় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা দুইটার দিকে দিয়াবাড়ী (উত্তরা) স্টেশন থেকে মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রী নিয়ে আগারগাঁওয়ের দিকে ছুটবে। প্রথম যাত্রার যাত্রী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। তবে সাধারণ যাত্রীরা মেট্রোরেলে চড়তে পারবেন বৃহস্পতিবার থেকে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পীকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিনুল্লা নুরী, মেট্রোরেল কোম্পানীর এমডি এম এন সিদ্দিকসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

এর আগে, বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বহুল প্রতীক্ষিত ও দেশের প্রথম মেট্রোরেলের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।