ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্মরণ: এক মানবতাবাদী সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মুহাম্মদ আইয়ুব আলী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩
  • / ৪৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম //
বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, মানবতাবাদী, সমাজহিতৈষী, ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলহাজ্ব মুহাম্মদ আইয়ুব আলী।
জন্ম: হাজী মুহাম্মদ আইয়ুব আলী রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কদমতলী গ্রামে মালেক সওদাগর বাড়ী নিবাসী মরহুম আবদুল মিয়া ও বেগম সিরাজ খাতুনের ঘরে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহন করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা : মক্তবে কুরআান পাঠ  শেষ করে চন্দ্রঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারী শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
উচ্চ বিদ্যালয়: চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে  কৃতিত্বের সাথে ১৯৭৬ সনে মেট্রিক পাশ করেন।
উচ্চ শিক্ষা: রাঙ্গুনিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় ব্যবসায়  নেমে পড়েন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা আর দেয়া হয়নি।
ব্যবসা বাণিজ্য ও ঘর ও সংসারের কাজে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরে বিদেশে পাড়ি জমান। বেশ কিছুদিন বিদেশের মাঠিতে অবস্থান করেন এবং রেমিটেন্স আহরন করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত হন। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে জানতেন তন্মধ্যে বাংলা, ইংরেজী, আরবী, উর্দু ও হিন্দি।
তিনি নম্র ভাষাভাষীর মানুষ ছিলেন, সকলের সাথে নম্র ও নরম সুরে কথা বলতেন, অমায়িক ব্যবহারের জন্য  সকলেই তাকে খুব পছন্দ করতেন। তিনি স্বাধীন চেতা ও স্পষ্ট ভাষী ছিলেন, সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন।
ছোটবেলা থেকে নামাজের প্রতি পাবন্দি ছিলেন কখনো নামাজ তরক করতেন না। খুবই ধর্ম পরায়ন ছিলেন, সৎ ব্যক্তি ছিলেন,  মসজিদে আজান দিতেন, ইমামতিও করতেন। ২০১৭ সালে স্বস্ত্রীক হজ্ব পালন করেন। তিনি হুজুর কেবলা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়য়ব শাহ(রহ)র মুরীদ ছিলেন।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন : দেশে বিদেশে তার সামর্থ্য অনুসারে সকলকে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। মসজিদ মাদ্রাসা মক্তব, স্কুল কলেজ দান করতেন অকাতরে, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবার বিপদে আপদে ঝাপিয়ে পড়তেন। সকলকে ভালোবাসতেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতেন:  তিনি গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ২ ওয়ার্ড সহ সভাপতি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য, মালেক সওদাগর বাড়ী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তিনি সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন, তার জৈষ্ঠ্যকন্যা একজন গৃহীনি ও তার স্বামী ব্যবসায়ী, কনিষ্ঠ কন্যা শিক্ষিকা ও তার স্বামী সাংবাদিক,  জৈষ্ঠপুত্র ব্যাংকার, কনিষ্ঠ পুত্র প্রবাসী শিল্পোদ্যোক্তা।
মৃত্যু : তিনি ২০২২ সালের ১৮ জুন (শনিবার) আল্লাহর সাক্ষাতে মিলিত হন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আব্বাজানকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মকাম দান করুন। আমিন।
[ লেখক: মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, ব্যাংকার, মরহুমের জৈষ্ঠ্যপুত্র।]

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মরণ: এক মানবতাবাদী সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মুহাম্মদ আইয়ুব আলী

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩
// মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম //
বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, মানবতাবাদী, সমাজহিতৈষী, ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলহাজ্ব মুহাম্মদ আইয়ুব আলী।
জন্ম: হাজী মুহাম্মদ আইয়ুব আলী রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা কদমতলী গ্রামে মালেক সওদাগর বাড়ী নিবাসী মরহুম আবদুল মিয়া ও বেগম সিরাজ খাতুনের ঘরে ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহন করেন।
প্রাথমিক শিক্ষা : মক্তবে কুরআান পাঠ  শেষ করে চন্দ্রঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারী শিক্ষা সমাপ্ত করেন।
উচ্চ বিদ্যালয়: চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হতে  কৃতিত্বের সাথে ১৯৭৬ সনে মেট্রিক পাশ করেন।
উচ্চ শিক্ষা: রাঙ্গুনিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়া অবস্থায় ব্যবসায়  নেমে পড়েন। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা আর দেয়া হয়নি।
ব্যবসা বাণিজ্য ও ঘর ও সংসারের কাজে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ব্যবসা বাণিজ্যে সুবিধা করতে না পেরে বিদেশে পাড়ি জমান। বেশ কিছুদিন বিদেশের মাঠিতে অবস্থান করেন এবং রেমিটেন্স আহরন করেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত হন। তিনি বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে জানতেন তন্মধ্যে বাংলা, ইংরেজী, আরবী, উর্দু ও হিন্দি।
তিনি নম্র ভাষাভাষীর মানুষ ছিলেন, সকলের সাথে নম্র ও নরম সুরে কথা বলতেন, অমায়িক ব্যবহারের জন্য  সকলেই তাকে খুব পছন্দ করতেন। তিনি স্বাধীন চেতা ও স্পষ্ট ভাষী ছিলেন, সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন।
ছোটবেলা থেকে নামাজের প্রতি পাবন্দি ছিলেন কখনো নামাজ তরক করতেন না। খুবই ধর্ম পরায়ন ছিলেন, সৎ ব্যক্তি ছিলেন,  মসজিদে আজান দিতেন, ইমামতিও করতেন। ২০১৭ সালে স্বস্ত্রীক হজ্ব পালন করেন। তিনি হুজুর কেবলা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়য়ব শাহ(রহ)র মুরীদ ছিলেন।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন : দেশে বিদেশে তার সামর্থ্য অনুসারে সকলকে সাহায্য করার চেষ্টা করতেন। মসজিদ মাদ্রাসা মক্তব, স্কুল কলেজ দান করতেন অকাতরে, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবার বিপদে আপদে ঝাপিয়ে পড়তেন। সকলকে ভালোবাসতেন।
সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখতেন:  তিনি গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের ২ ওয়ার্ড সহ সভাপতি, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নের সিনিয়র সদস্য, মালেক সওদাগর বাড়ী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তিনি সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেন, তার জৈষ্ঠ্যকন্যা একজন গৃহীনি ও তার স্বামী ব্যবসায়ী, কনিষ্ঠ কন্যা শিক্ষিকা ও তার স্বামী সাংবাদিক,  জৈষ্ঠপুত্র ব্যাংকার, কনিষ্ঠ পুত্র প্রবাসী শিল্পোদ্যোক্তা।
মৃত্যু : তিনি ২০২২ সালের ১৮ জুন (শনিবার) আল্লাহর সাক্ষাতে মিলিত হন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আব্বাজানকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মকাম দান করুন। আমিন।
[ লেখক: মুহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম, ব্যাংকার, মরহুমের জৈষ্ঠ্যপুত্র।]