ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी
ব্রেকিং নিউজ ::
চট্টগ্রামে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে নিহত ২ :: ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে যুবক নিহত :: রংপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বেরোবি শিক্ষার্থী নিহত :: ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন :: রণক্ষেত্র মহাখালী, পুলিশ বক্সের সামনে দুটি মোটরসাইকেলে আগুন :: চার শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ, উত্তাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা :: আজও ছাত্রলীগের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র ঢাবি

স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ দম্পতি শেষ মুহূর্তে যা বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪
  • / ৪২৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে একসঙ্গে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন এক দম্পতি। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে ছিলেন জ্যান (৭০) এবং ইলস (৭১) নামের ওই দম্পতি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জুনের শুরুতে একসঙ্গে এই বৃদ্ধ দম্পতি মৃত্যুবরণ করেন। আর এই স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে তাদের সহযোগীতা করেছেন দুজন চিকিৎসক। মৃত্যুর জন্য তাদের দুজনকে দেয়া হয় প্রাণনাশী ওষুধ।

নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বৈধ, তবে এটি বিরলও। তা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসের অনেক দম্পতি প্রতি বছর স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেছে নিচ্ছেন। মৃত্যুর তিনদিন আগে এ দুজন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির লিন্ডা প্রেসলির সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানান, দীর্ঘ পাঁচ দশক দুজন একসঙ্গে ছিলেন। তবে তারা জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন নৌকায় করে। আর জীবনের শেষ ভাগে এসে একটি ভ্যানে থাকতেন। কারণ, তাদের ইটপাথরের বাড়িতে থাকতে মন চাইত না। যেহেতু নৌকায় থাকতেন তাই নৌকা দিয়ে পরিবহণের ব্যবসায়ও নেমেছিলেন জ্যান।

ভারী কাজ করতে করতে জ্যানের একটা সময় পিঠের ব্যথার সৃষ্টি হয়, যা তাকে পুরো জীবনজুড়ে কষ্ট দিয়েছে। ২০০৩ সালে এই ব্যথার জন্য একটি অস্ত্রোপচারও করেছিলেন তিনি। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তিনি আর বাঁচতে চাইছিলেন না।

জ্যান জানান, তার অসুস্থতার মধ্যেই ২০২২ সালে তার স্ত্রীর মস্তিস্কের কঠিন অসুখ স্মৃতিভ্রমের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে তার সেরে উঠার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এরপরই একসঙ্গে দুজন মৃত্যুবরণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ ব্যাপারে নিজেদের একমাত্র ছেলের সঙ্গেও কথা বলেন এই সম্পতি। এরপর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জুনে তারা মৃত্যুবরণ করেন।

জ্যান এবং ইলসের পেথম দেখা হয় কিন্ডারগার্টেনে। জ্যান একসময় নেদারল্যান্ডসের জাতীয় যুব দলের হয়ে হকি খেলেন, পরে একজন ক্রীড়া প্রশিক্ষকও হন। আর ইলস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও পানি, নৌকা এবং পাল তোলার প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল অনেক।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ দম্পতি শেষ মুহূর্তে যা বললেন

আপডেট সময় : ০১:২২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪

ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে একসঙ্গে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন এক দম্পতি। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে একে অপরের সঙ্গে ছিলেন জ্যান (৭০) এবং ইলস (৭১) নামের ওই দম্পতি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জুনের শুরুতে একসঙ্গে এই বৃদ্ধ দম্পতি মৃত্যুবরণ করেন। আর এই স্বেচ্ছায় মৃত্যুতে তাদের সহযোগীতা করেছেন দুজন চিকিৎসক। মৃত্যুর জন্য তাদের দুজনকে দেয়া হয় প্রাণনাশী ওষুধ।

নেদারল্যান্ডসে স্বেচ্ছায় মৃত্যু বৈধ, তবে এটি বিরলও। তা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডসের অনেক দম্পতি প্রতি বছর স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বেছে নিচ্ছেন। মৃত্যুর তিনদিন আগে এ দুজন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির লিন্ডা প্রেসলির সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা জানান, দীর্ঘ পাঁচ দশক দুজন একসঙ্গে ছিলেন। তবে তারা জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন নৌকায় করে। আর জীবনের শেষ ভাগে এসে একটি ভ্যানে থাকতেন। কারণ, তাদের ইটপাথরের বাড়িতে থাকতে মন চাইত না। যেহেতু নৌকায় থাকতেন তাই নৌকা দিয়ে পরিবহণের ব্যবসায়ও নেমেছিলেন জ্যান।

ভারী কাজ করতে করতে জ্যানের একটা সময় পিঠের ব্যথার সৃষ্টি হয়, যা তাকে পুরো জীবনজুড়ে কষ্ট দিয়েছে। ২০০৩ সালে এই ব্যথার জন্য একটি অস্ত্রোপচারও করেছিলেন তিনি। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তিনি আর বাঁচতে চাইছিলেন না।

জ্যান জানান, তার অসুস্থতার মধ্যেই ২০২২ সালে তার স্ত্রীর মস্তিস্কের কঠিন অসুখ স্মৃতিভ্রমের সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যা থেকে তার সেরে উঠার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এরপরই একসঙ্গে দুজন মৃত্যুবরণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এ ব্যাপারে নিজেদের একমাত্র ছেলের সঙ্গেও কথা বলেন এই সম্পতি। এরপর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জুনে তারা মৃত্যুবরণ করেন।

জ্যান এবং ইলসের পেথম দেখা হয় কিন্ডারগার্টেনে। জ্যান একসময় নেদারল্যান্ডসের জাতীয় যুব দলের হয়ে হকি খেলেন, পরে একজন ক্রীড়া প্রশিক্ষকও হন। আর ইলস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও পানি, নৌকা এবং পাল তোলার প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল অনেক।