ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্ত্রীকে নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্ত্রী ইগুইনকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রিয়েস ভ্যান অ্যাগট। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের মৃত্যু হয়। দুজনেরই বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায়, অ্যাগট প্রতিষ্ঠিত একটি অধিকার সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির পরিচালক জেরার্ড জনকম্যান সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেছেন, গত সপ্তাহে এই দম্পতি হাতে হাত রেখে দুনিয়া ত্যাগ করেছেন।

জেরার্ড জনকম্যান আরও জানান, ২০১৯ সালে অ্যাগটের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অসুস্থই ছিলেন। তবে তিনি স্ত্রীকে রেখে আগে চলে যেতে চাইছিলেন না। পরবর্তী সময়ে তাঁরা একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

দ্রিয়েস ভ্যান অ্যাগট ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক আপিল পার্টির নেতা ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে ক্যাথলিক খ্রিস্টান হলেও, সবসময় নিজের মতো করেই চলেছেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসে ২০২০ সালে ২৬ জনকে প্রথমবারের মতো সঙ্গীর সাথে মৃত্যুবরণের অনুমতি দেওয়া হয়। পরের বছরেই ৩২ জন এমনভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আর ২০২৩ সালে দেশটিতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন ৫৮ জন। অ্যাগট ও তাঁর স্ত্রীর এই স্বেচ্ছামৃত্যু নেদারল্যান্ডসে দম্পতি বা যুগলদের স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের চলের অন্যতম উদাহরণ।

নেদারল্যান্ডসে ২০০২ সাল থেকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ বা সাহায্য নিয়ে আত্মহত্যার অনুমতি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ৬টি শর্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, অসহ্যকর শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এমন কেউ স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আগ্রহ দেখাতে পারবেন। সুস্থ হবেন এমন কোনো সম্ভাবনা থাকা যাবে না এবং মৃত্যুবরণের ইচ্ছা সম্পূর্ণ নিজের থাকতে হবে। পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর আগ্রহী ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি দেওয়া হবে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে সহযোগিতা করবেন পারিবারিক চিকিৎসক।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্ত্রীকে নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

স্ত্রী ইগুইনকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রিয়েস ভ্যান অ্যাগট। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাদের মৃত্যু হয়। দুজনেরই বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা যায়, অ্যাগট প্রতিষ্ঠিত একটি অধিকার সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির পরিচালক জেরার্ড জনকম্যান সংবাদমাধ্যম এনওএসকে বলেছেন, গত সপ্তাহে এই দম্পতি হাতে হাত রেখে দুনিয়া ত্যাগ করেছেন।

জেরার্ড জনকম্যান আরও জানান, ২০১৯ সালে অ্যাগটের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ার পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি অসুস্থই ছিলেন। তবে তিনি স্ত্রীকে রেখে আগে চলে যেতে চাইছিলেন না। পরবর্তী সময়ে তাঁরা একসঙ্গে মৃত্যুবরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

দ্রিয়েস ভ্যান অ্যাগট ১৯৭৭ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক আপিল পার্টির নেতা ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে ক্যাথলিক খ্রিস্টান হলেও, সবসময় নিজের মতো করেই চলেছেন তিনি।

নেদারল্যান্ডসে ২০২০ সালে ২৬ জনকে প্রথমবারের মতো সঙ্গীর সাথে মৃত্যুবরণের অনুমতি দেওয়া হয়। পরের বছরেই ৩২ জন এমনভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আর ২০২৩ সালে দেশটিতে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন ৫৮ জন। অ্যাগট ও তাঁর স্ত্রীর এই স্বেচ্ছামৃত্যু নেদারল্যান্ডসে দম্পতি বা যুগলদের স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের চলের অন্যতম উদাহরণ।

নেদারল্যান্ডসে ২০০২ সাল থেকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ বা সাহায্য নিয়ে আত্মহত্যার অনুমতি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ৬টি শর্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, অসহ্যকর শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এমন কেউ স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের আগ্রহ দেখাতে পারবেন। সুস্থ হবেন এমন কোনো সম্ভাবনা থাকা যাবে না এবং মৃত্যুবরণের ইচ্ছা সম্পূর্ণ নিজের থাকতে হবে। পরিস্থিতি যাচাইয়ের পর আগ্রহী ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি দেওয়া হবে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতে সহযোগিতা করবেন পারিবারিক চিকিৎসক।