ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

স্টয়নিস ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৪৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পোর্টস ডেস্ক : 

কী ম্যাচ কি হয়ে গেলো! যে অস্ট্রেলিয়া ১৫৮ রান তাড়ায় নেমে পাওয়ার প্লেতে একটি বাউন্ডারিও হাঁকাতে পারলো না, তারাই ২১ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিলো।

মার্কাস স্টয়নিস মাত্র ১৭ বলে করলেন ফিফটি। যা কিনা টি-টোয়েন্টিতে কোনো অসি ব্যাটারের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়া সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পেলো জয়ের দেখা।

লক্ষ্য ১৫৮। রান তাড়ায় নেমে শুরুতে চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার আর অ্যারন ফিঞ্চ ৪ ওভারে তুলতে পারেন মোটে ২৬ রান।

পঞ্চম ওভারে বল হাতে নিয়েই অসি শিবিরে আঘাত হানেন মাহিশ থিকশানা। লঙ্কান এই স্পিনারের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে শানাকার হাতে ধরা পড়েন ডেভিড ওয়ার্নার (১০ বলে ১১)।

এক ওভার পর মিচেল মার্শও সুযোগ দিয়েছিলেন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বল তুলে দিয়েছিলেন আকাশে। কিন্তু দৌড়ে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচটি তালুতে রাখতে পারেননি শানাকা। ৪ রানে জীবন পান মার্শ।

পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৩ রান তুলতে পারে অস্ট্রেলিয়া, ৭ ওভারে তোলে ৩৮। তবে এরপরই হাত খুলেন মার্শ। হাসারাঙ্গার করা ইনিংসের অষ্টম ওভারে একটি করে চার-ছক্কায় ১৫ রান তুলে নেয় অসিরা।

পরের ওভারে ধনঞ্জয়া মার্শকে (১৭ বলে ১৮) ফেরালেও হজম করেন ১৩ রান। তার পরের ওভারে হাসারাঙ্গাকে দুটি ছক্কা আর একটি চার হাঁকান ম্যাক্সওয়েল। ১৯ রান খরচ করেন লঙ্কান লেগি। অস্ট্রেলিয়ার দিকে হেলে পড়ে ম্যাচ। ১০ ওভারে ফিঞ্চের দল তোলে ২ উইকেটে ৮৫ রান।

১২ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৩ রানের ছোটখাটো এক ঝড় তুলে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে ম্যাক্সওয়েলকে আউট করে যেন বিপদে পড়ে লঙ্কানরা।

মার্কাস স্টয়নিস উইকেটে এসে আরও ভয়ংকর রূপ দেখান। ১৫তম ওভারে দুই ছক্কা আর এক চারে হাসারাঙ্গাকে ১৯ পেটানোর পরের ওভারে আরেক স্পিনার মাহিশ থিকশানার ওপরও চড়াও হন ডানহাতি এই ব্যাটার। থিকশানাকে মারেন তিন ছক্কা। ম্যাচ হাতের মুঠোয় চলে আসে অস্ট্রেলিয়ার।

বেদম মার খাওয়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৩ ওভারে ৫৩ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রথম দুই ওভারে ৩ রান দেওয়ার পর এক ওভারেই ২০ দিয়ে মাথায় হাত পড়ে থিকসানার।

এর আগে শেষের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের বোর্ডে ছিল ১২৬ রান। শেষ দুই ওভারে আরও ৩১ যোগ করে লঙ্কানরা। তাতেই ৬ উইকেটে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায় এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নরা।

পার্থে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না শ্রীলঙ্কার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ৬ রানের মাথায় প্যাট কামিন্সের বলে সাজঘরে ফেরেন কুশল মেন্ডিস (৫)।

পাথুম নিশাঙ্কা আর ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৬৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু ২৩ বলে ২৬ করে ধনঞ্জয়া অ্যাশটন অ্যাগারের শিকার হলে ফের বিপদে পড়ে লঙ্কানরা।

১৪ রানের ব্যবধানে ফিরে যান পাথুম নিশাঙ্কা (৪৫ বলে ৪০), ভানুকা রাজাপাকসে (৫ বলে ৭) এবং অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৫ বলে ৩)। ১১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা, ১২০ রানে হারায় ষষ্ঠ উইকেট।

সেখান থেকে চারিথ আসালাঙ্কা আর চামিকা করুনারত্নে ১৫ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন। আসালাঙ্কা ২৫ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। ৭ বলে ১৪ করেন করুনারত্নে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

স্টয়নিস ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা

আপডেট সময় : ০৮:৪১:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০২২

স্পোর্টস ডেস্ক : 

কী ম্যাচ কি হয়ে গেলো! যে অস্ট্রেলিয়া ১৫৮ রান তাড়ায় নেমে পাওয়ার প্লেতে একটি বাউন্ডারিও হাঁকাতে পারলো না, তারাই ২১ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিলো।

মার্কাস স্টয়নিস মাত্র ১৭ বলে করলেন ফিফটি। যা কিনা টি-টোয়েন্টিতে কোনো অসি ব্যাটারের দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়া সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পেলো জয়ের দেখা।

লক্ষ্য ১৫৮। রান তাড়ায় নেমে শুরুতে চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার আর অ্যারন ফিঞ্চ ৪ ওভারে তুলতে পারেন মোটে ২৬ রান।

পঞ্চম ওভারে বল হাতে নিয়েই অসি শিবিরে আঘাত হানেন মাহিশ থিকশানা। লঙ্কান এই স্পিনারের ঝুলিয়ে দেওয়া ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে শানাকার হাতে ধরা পড়েন ডেভিড ওয়ার্নার (১০ বলে ১১)।

এক ওভার পর মিচেল মার্শও সুযোগ দিয়েছিলেন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বল তুলে দিয়েছিলেন আকাশে। কিন্তু দৌড়ে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচটি তালুতে রাখতে পারেননি শানাকা। ৪ রানে জীবন পান মার্শ।

পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৩ রান তুলতে পারে অস্ট্রেলিয়া, ৭ ওভারে তোলে ৩৮। তবে এরপরই হাত খুলেন মার্শ। হাসারাঙ্গার করা ইনিংসের অষ্টম ওভারে একটি করে চার-ছক্কায় ১৫ রান তুলে নেয় অসিরা।

পরের ওভারে ধনঞ্জয়া মার্শকে (১৭ বলে ১৮) ফেরালেও হজম করেন ১৩ রান। তার পরের ওভারে হাসারাঙ্গাকে দুটি ছক্কা আর একটি চার হাঁকান ম্যাক্সওয়েল। ১৯ রান খরচ করেন লঙ্কান লেগি। অস্ট্রেলিয়ার দিকে হেলে পড়ে ম্যাচ। ১০ ওভারে ফিঞ্চের দল তোলে ২ উইকেটে ৮৫ রান।

১২ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ২৩ রানের ছোটখাটো এক ঝড় তুলে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তবে ম্যাক্সওয়েলকে আউট করে যেন বিপদে পড়ে লঙ্কানরা।

মার্কাস স্টয়নিস উইকেটে এসে আরও ভয়ংকর রূপ দেখান। ১৫তম ওভারে দুই ছক্কা আর এক চারে হাসারাঙ্গাকে ১৯ পেটানোর পরের ওভারে আরেক স্পিনার মাহিশ থিকশানার ওপরও চড়াও হন ডানহাতি এই ব্যাটার। থিকশানাকে মারেন তিন ছক্কা। ম্যাচ হাতের মুঠোয় চলে আসে অস্ট্রেলিয়ার।

বেদম মার খাওয়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ৩ ওভারে ৫৩ রান খরচ করে ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রথম দুই ওভারে ৩ রান দেওয়ার পর এক ওভারেই ২০ দিয়ে মাথায় হাত পড়ে থিকসানার।

এর আগে শেষের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের বোর্ডে ছিল ১২৬ রান। শেষ দুই ওভারে আরও ৩১ যোগ করে লঙ্কানরা। তাতেই ৬ উইকেটে ১৫৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়ে যায় এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়নরা।

পার্থে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না শ্রীলঙ্কার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ৬ রানের মাথায় প্যাট কামিন্সের বলে সাজঘরে ফেরেন কুশল মেন্ডিস (৫)।

পাথুম নিশাঙ্কা আর ধনঞ্জয়া ডি সিলভা দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ বলে ৬৯ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু ২৩ বলে ২৬ করে ধনঞ্জয়া অ্যাশটন অ্যাগারের শিকার হলে ফের বিপদে পড়ে লঙ্কানরা।

১৪ রানের ব্যবধানে ফিরে যান পাথুম নিশাঙ্কা (৪৫ বলে ৪০), ভানুকা রাজাপাকসে (৫ বলে ৭) এবং অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৫ বলে ৩)। ১১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা, ১২০ রানে হারায় ষষ্ঠ উইকেট।

সেখান থেকে চারিথ আসালাঙ্কা আর চামিকা করুনারত্নে ১৫ বলে ৩৭ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে দলকে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন। আসালাঙ্কা ২৫ বলে ২ চার আর ৩ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৩৮ রানে। ৭ বলে ১৪ করেন করুনারত্নে।