ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিলেটকে অবশেষে হারের স্বাদ দিলো কুমিল্লা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শেষ ৬ ওভারে দরকার মাত্র ২৪। হাতে ৮ উইকেট। লিটন দাস যেভাবে খেলেছেন, এই ম্যাচে তো হেসেখেলেই রান তাড়া করার কথা ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। কিন্তু ৪২ বলে ৭ চার আর ৪ ছক্কায় ৭০ রানের ইনিংস খেলা লিটন আউট হতেই কুমিল্লাকে চেপে ধরে সিলেট স্ট্রাইকার্স।

শেষ পর্যন্ত ১৩০ তাড়া করতে ঘাম ঝরেছে কুমিল্লার। যদিও জয় হাতছাড়া করেনি তারা। এক ওভার হাতে রেখে জিতেছে ৫ উইকেটে। এটি এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় জয় ইমরুল কায়েসের কুমিল্লার। অন্যদিকে ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেলো মাশরাফির সিলেট।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট। জবাব দিতে নেমে ৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি সিলেট স্ট্রাইকার্সের। ৬ বলে ৭ রান করে হাসান আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরত যান মোহাম্মদ হারিস। এই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই আউট হয়ে যান ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি হওয়া আকবর আলি।

২ বলে ১ রান করেন তিনি। এরপর ৮ বলে ৯ রান করে হাসান আলির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ যায় জাকির হাসানের। আম্পায়ার শুরুতে নট আউট দেন। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। মাঠ ছাড়ার সময় ক্ষুব্ধ দেখা যায় জাকিরকে।

কুমিল্লায় গোত্তা খেলো সিলেট

স্কোরকার্ডে ৫০ রান তোলার আগেই পাঁচ উইকেট হারানো সিলেট পরে আর পথ খুঁজে পায়নি। দলটির পক্ষে ১৯ বলে ১৩ রান করেন শান্ত, ১৫ বলে ১৬ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। ৫৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন থিসারা পেরেরা ও ইমাদ ওয়াসিম।

দুজন মিলে ৮০ রানের জুটি গড়েন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ ওয়াসিম। ২ চার ও ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন থিসারা পেরেরা। কুমিল্লার সামনে তাতে ১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই দাঁড় করিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই কুমিল্লার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সিলেট। টপঅর্ডারের সাত ব্যাটারের কেউ বিশের ঘরও ছুঁতে পারেননি। মোহাম্মদ হারিস ৭, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩, আকবর আলি ১, জাকির হাসান ৯, মুশফিকুর রহিম ১৬, শরিফুল্লাহ ১ আর মাশরাফি বিন মর্তুজা করেন ০।

৫৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে সিলেট। সেই কঠিন বিপদ থেকে দলকে উদ্ধার করেন ইমাদ আর পেরেরা। ইমাদ ৩৩ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ৪০, পেরেরা ৩১ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। কুমিল্লার দুই পেসার হাসান আলি আর মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ নেন দুটি করে উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ফের কুমিল্লাকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন লিটন দাস। ৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে লিটন গড়েন ৫৭ রানের জুটি। ১৮ বলে ১৫ রান করে রিজওয়ান রান আউট হন। ৭ চার ও ৪ ছক্কায় মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ৪২ বলে ৭০ রান করে আউট হন।

ছয় রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে মাঝে অবশ্য কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে জনাথন চার্লস ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে ম্যাচ শেষ করে আসেন। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতলো কুমিল্লা, আসরে প্রথম হারের স্বাদ পায় সিলেট।

সিলেট স্ট্রাইকার্সের সেরা বোলার মাশরাফি। ১৯ রান খরচায় এই পেসার নেন দুই উইকেট। এ ছাড়া শরিফউল্লাহ নেন একটি উইকেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেটকে অবশেষে হারের স্বাদ দিলো কুমিল্লা

আপডেট সময় : ১০:২৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

স্পোর্টস ডেস্ক : 

শেষ ৬ ওভারে দরকার মাত্র ২৪। হাতে ৮ উইকেট। লিটন দাস যেভাবে খেলেছেন, এই ম্যাচে তো হেসেখেলেই রান তাড়া করার কথা ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। কিন্তু ৪২ বলে ৭ চার আর ৪ ছক্কায় ৭০ রানের ইনিংস খেলা লিটন আউট হতেই কুমিল্লাকে চেপে ধরে সিলেট স্ট্রাইকার্স।

শেষ পর্যন্ত ১৩০ তাড়া করতে ঘাম ঝরেছে কুমিল্লার। যদিও জয় হাতছাড়া করেনি তারা। এক ওভার হাতে রেখে জিতেছে ৫ উইকেটে। এটি এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় জয় ইমরুল কায়েসের কুমিল্লার। অন্যদিকে ষষ্ঠ ম্যাচে এসে প্রথম হারের স্বাদ পেলো মাশরাফির সিলেট।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট স্ট্রাইকার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রানের সংগ্রহ পায় সিলেট। জবাব দিতে নেমে ৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি সিলেট স্ট্রাইকার্সের। ৬ বলে ৭ রান করে হাসান আলির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরত যান মোহাম্মদ হারিস। এই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই আউট হয়ে যান ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি হওয়া আকবর আলি।

২ বলে ১ রান করেন তিনি। এরপর ৮ বলে ৯ রান করে হাসান আলির বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ যায় জাকির হাসানের। আম্পায়ার শুরুতে নট আউট দেন। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গিয়ে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। মাঠ ছাড়ার সময় ক্ষুব্ধ দেখা যায় জাকিরকে।

কুমিল্লায় গোত্তা খেলো সিলেট

স্কোরকার্ডে ৫০ রান তোলার আগেই পাঁচ উইকেট হারানো সিলেট পরে আর পথ খুঁজে পায়নি। দলটির পক্ষে ১৯ বলে ১৩ রান করেন শান্ত, ১৫ বলে ১৬ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। ৫৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন থিসারা পেরেরা ও ইমাদ ওয়াসিম।

দুজন মিলে ৮০ রানের জুটি গড়েন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ ওয়াসিম। ২ চার ও ছক্কায় ৩২ বলে ৪৪ রান করেন থিসারা পেরেরা। কুমিল্লার সামনে তাতে ১৩৪ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই দাঁড় করিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স।

ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই কুমিল্লার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে সিলেট। টপঅর্ডারের সাত ব্যাটারের কেউ বিশের ঘরও ছুঁতে পারেননি। মোহাম্মদ হারিস ৭, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৩, আকবর আলি ১, জাকির হাসান ৯, মুশফিকুর রহিম ১৬, শরিফুল্লাহ ১ আর মাশরাফি বিন মর্তুজা করেন ০।

৫৩ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে সিলেট। সেই কঠিন বিপদ থেকে দলকে উদ্ধার করেন ইমাদ আর পেরেরা। ইমাদ ৩৩ বলে ৩ চার আর ১ ছক্কায় ৪০, পেরেরা ৩১ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন। কুমিল্লার দুই পেসার হাসান আলি আর মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ নেন দুটি করে উইকেট।

জবাব দিতে নেমে ফের কুমিল্লাকে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন লিটন দাস। ৩৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে লিটন গড়েন ৫৭ রানের জুটি। ১৮ বলে ১৫ রান করে রিজওয়ান রান আউট হন। ৭ চার ও ৪ ছক্কায় মাশরাফি বিন মুর্তজার বলে ৪২ বলে ৭০ রান করে আউট হন।

ছয় রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে মাঝে অবশ্য কিছুটা বিপদেই পড়ে গিয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তবে জনাথন চার্লস ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে ম্যাচ শেষ করে আসেন। এ নিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতলো কুমিল্লা, আসরে প্রথম হারের স্বাদ পায় সিলেট।

সিলেট স্ট্রাইকার্সের সেরা বোলার মাশরাফি। ১৯ রান খরচায় এই পেসার নেন দুই উইকেট। এ ছাড়া শরিফউল্লাহ নেন একটি উইকেট।