ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিরাজগঞ্জ-০৬ (শাহজাদপুর) আসনের রাজনৈতিক হালচাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩
  • / ৭৬৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ শামছুর রহমান শিশির :

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৭, সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন, ভোটারদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রার্থী হিসেবে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগীতা কামনা করছেন। সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রার্থীতা হবার খবর লোকমুখে শোনা গেলেও মূলত এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্যমতে, ‘ভোট দেবার আগে ভালভাবে জেনে নেবো, কে ঋণ খেলাপী আর কে বিল খেলাপী এবং নির্বাচনী ওয়াদা খেলাপী। যিনি দুঃখী মেহনতী জনমানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, এলাকার উন্নয়ন করবেন, তেমন নেতাকেই আমরা খুঁজে নেবো।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও গো-সম্পদে ভরপুর সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে রয়েছে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মাজার, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ, উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর, বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনের ৩টি জ্বালানী তেল ডিপো, মিল্কভিটাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই আসনটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষিত, মার্জিত, সৎ এবং চৌকস রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকেই অভিভাবকত্বের আসনে বসাতে চান শাহজাদপুরের সাধারন জনগণ। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি থাকায় ৬৭, সিরাজগঞ্জ -৬ (শাহজাদপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন জোরালো প্রচার প্রচারণা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। একইসাথে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও এলাকার ভোটারদের মাঝে জোরালো তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়নি।

জানা গেছে, ৬৭-সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৭শ’ ৮০ জন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান সাংসদ ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, সাবেক সাংসদ ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চয়ন ইসলাম, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু) এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, শাহজাদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মনির আক্তার খান তরু লোদী এবং এ আসনের প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের ছোট মেয়ে ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফেরদৌসী রহমান শান্তা।

এদিকে, এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ এমএ মতিনের ছেলে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র প্রধান উপদেষ্টা, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক প্রফেসর ডাঃ এমএ মুহিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হুসেইন শহীদ মাহমুদ গ্যাদন ও এ্যাড. হুমায়ুন কবিরের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় পার্টি (এরশাদ)’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোক্তার হোসনের নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র প্রার্থী হিসেবে শাহজাদপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি শফিকুজ্জামান শফি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বাসদের সদস্য আব্দুল আলিম ফকির ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মিসবাহ উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিগত সংসদ নির্বাচনগুলি ফলাফল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে বিজয় অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস নিউক্লিয়াস গ্রুপের সদস্য ছাত্র নেতা আব্দুর রহমান । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে বিজয় অর্জন করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুকুল। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান সৈয়দ হোসেন মনছুর। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দিতা করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। বিজয়ী হন সৈয়দ হোসেন মনছুর। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদের দুটি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান। বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন; বিজয়ী হন বিএনপি’র কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস সরোয়ার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন না করায় নির্বাচিত সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রফের ড. মযহারুল ইসলাম। ওই নির্বাচনে ৫৪ হাজার ১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন হাসিবুর রহমান স্বপন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ৮শ’ ১ ভোট। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন চয়ন ইসলাম। ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন। ৯৯ হাজার ৫ শ’ ৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ডাঃ এম এ মতিন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চয়ন ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৯ শ’ ৮ ভোট। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চয়ন ইসলাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪শ’ ৮৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি’র কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ (সরোয়ার) পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮শ’ ৭৫ ভোট। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসিবুর রহমান স্বপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসিবুর রহমান স্বপন আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপি’র প্রফেসর ডাঃ এম এ মুহিত। ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে এ আসনটি শুণ্য হয়ে পড়লে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা সাংসদ নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির মোঃ মোক্তার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. হুমায়ুন কবির।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতি বিশ্লেষকদের মতে, এ আসটি বিগত সময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কারণে একদিকে যেমন ভোটব্যাংক ও জনসমর্থন বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি’র সাবেক এমপি কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশের মৃত্যু, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হুসেইন শহীদ মাহমুদ গ্যাদনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পূর্বের তুলনায় বিএনপি দূর্বল হয়ে পড়েছে।

বা/খ: এসআর।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জ-০৬ (শাহজাদপুর) আসনের রাজনৈতিক হালচাল

আপডেট সময় : ০২:০৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০২৩

মোঃ শামছুর রহমান শিশির :

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৬৭, সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন, ভোটারদের খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং প্রার্থী হিসেবে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগীতা কামনা করছেন। সিরাজগঞ্জ -০৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রার্থীতা হবার খবর লোকমুখে শোনা গেলেও মূলত এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্যমতে, ‘ভোট দেবার আগে ভালভাবে জেনে নেবো, কে ঋণ খেলাপী আর কে বিল খেলাপী এবং নির্বাচনী ওয়াদা খেলাপী। যিনি দুঃখী মেহনতী জনমানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, এলাকার উন্নয়ন করবেন, তেমন নেতাকেই আমরা খুঁজে নেবো।

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও গো-সম্পদে ভরপুর সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে রয়েছে হযরত মখদুম শাহদৌলা শহিদ ইয়ামেনি (রহ.) এর মাজার, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারিবাড়ি, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ, উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর, বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনের ৩টি জ্বালানী তেল ডিপো, মিল্কভিটাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এই আসনটি একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও ১৩ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষিত, মার্জিত, সৎ এবং চৌকস রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বকেই অভিভাবকত্বের আসনে বসাতে চান শাহজাদপুরের সাধারন জনগণ। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো অনেক সময় বাকি থাকায় ৬৭, সিরাজগঞ্জ -৬ (শাহজাদপুর) আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তেমন জোরালো প্রচার প্রচারণা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। একইসাথে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনও এলাকার ভোটারদের মাঝে জোরালো তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়নি।

জানা গেছে, ৬৭-সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৭শ’ ৮০ জন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে অনেকেরই নাম শোনা যাচ্ছে। এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান সাংসদ ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, সাবেক সাংসদ ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চয়ন ইসলাম, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমুল হক মিরু, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু) এ্যাড. শেখ মোঃ আব্দুল হামিদ লাবলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, শাহজাদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মনির আক্তার খান তরু লোদী এবং এ আসনের প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনের ছোট মেয়ে ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফেরদৌসী রহমান শান্তা।

এদিকে, এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ এমএ মতিনের ছেলে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র প্রধান উপদেষ্টা, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক প্রফেসর ডাঃ এমএ মুহিত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম সরোয়ার, শাহজাদপুর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হুসেইন শহীদ মাহমুদ গ্যাদন ও এ্যাড. হুমায়ুন কবিরের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, জাতীয় পার্টি (এরশাদ)’র সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোক্তার হোসনের নাম শোনা যাচ্ছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)’র প্রার্থী হিসেবে শাহজাদপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি শফিকুজ্জামান শফি ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)’র প্রার্থী হিসেবে উপজেলা বাসদের সদস্য আব্দুল আলিম ফকির ও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী মিসবাহ উদ্দিনের নাম শোনা যাচ্ছে।

বিগত সংসদ নির্বাচনগুলি ফলাফল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে বিজয় অর্জন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএস নিউক্লিয়াস গ্রুপের সদস্য ছাত্র নেতা আব্দুর রহমান । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে বিজয় অর্জন করেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মুকুল। ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান সৈয়দ হোসেন মনছুর। তার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দিতা করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম। বিজয়ী হন সৈয়দ হোসেন মনছুর। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদের দুটি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান। বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন।
১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ- ৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন; বিজয়ী হন বিএনপি’র কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস সরোয়ার। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহন না করায় নির্বাচিত সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে একই বছরে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন প্রফের ড. মযহারুল ইসলাম। ওই নির্বাচনে ৫৪ হাজার ১৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন হাসিবুর রহমান স্বপন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৫২ হাজার ৮শ’ ১ ভোট। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৭ (শাহজাদপুর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন চয়ন ইসলাম। ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক ডাঃ এম এ মতিন। ৯৯ হাজার ৫ শ’ ৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ডাঃ এম এ মতিন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চয়ন ইসলাম ভোট পেয়েছিলেন ৭৮ হাজার ৯ শ’ ৮ ভোট। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চয়ন ইসলাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪শ’ ৮৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি’র কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশ (সরোয়ার) পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৮শ’ ৭৫ ভোট। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসিবুর রহমান স্বপন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসিবুর রহমান স্বপন আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন বিএনপি’র প্রফেসর ডাঃ এম এ মুহিত। ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপনের মৃত্যুতে এ আসনটি শুণ্য হয়ে পড়লে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা সাংসদ নির্বাচিত হন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির মোঃ মোক্তার হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এ্যাড. হুমায়ুন কবির।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতি বিশ্লেষকদের মতে, এ আসটি বিগত সময়ে বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কারণে একদিকে যেমন ভোটব্যাংক ও জনসমর্থন বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি’র সাবেক এমপি কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিশের মৃত্যু, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি হুসেইন শহীদ মাহমুদ গ্যাদনসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পূর্বের তুলনায় বিএনপি দূর্বল হয়ে পড়েছে।

বা/খ: এসআর।