ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের অভিযোগ

আশরাফুল ইসলাম রনি, তাড়াশ থেকে
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫৭৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম (তাজফুল) এর বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অনাস্থার প্রস্তাব এনেছেন সদস্যরা।  শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশ উপজেলার ইউনিয়নের কুসুম্বী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়মানুযায়ী পদত্যাগ করলে সেটি চলতি বছরের গত ২৯ নভেম্বর পদটি শূণ্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সামছুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান -১ ও সদস্য শরিফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তী ১৭ ডিসেম্বর চলমান প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের অনুমতি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর ১৯ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ১১তম সভার আহবান করলে আওয়ামী লীগের বিজয় র‌্যালির কথা বলে সদস্যরা অনুপস্থিত থাকে।

জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তাজফুল অভিযোগ করে বলেন,  জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হওয়ায় আমার ওপরে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এসেছে। আর এ স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পাবার পর জেলা পরিষদের সদস্য একরামুল হক আমার কাছ থেকে অনৈতিক কিছু সুবিধা দাবি করেন। কিন্তু আমি তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি আমার উপর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ও সদস্য আমিনুল ইসলামকে দিয়ে একটি জরুরি সভা ডাকেন। সেই সভায় অন্য সদস্যদের বুঝে উঠার আগেই আমার বিরুদ্ধে এমন অনাস্থা প্রস্তাব করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া এই ধরনের সভা আহ্বান করার কোন সুযোগ নেই।

সদস্য আমিনুল ইসলাম সভা আহবানের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সকল সদস্য আলোচনা করেই ওই সভা ডেকেছিলাম। সেখানে ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী সদস্য কামরুন্নাহার আলো বলেন, সদস্য একরামুল হক মুঠোফোনে আমাকে ২১ ডিসেম্বর একটি সভায় আসতে বলেন। তবে কি কারণে ওই সভা ডাকা হচ্ছে? সেটি জিজ্ঞাসা করলে একরামুল বলেন, সভায় আসলেই বুঝতে পারবেন। পরে আমি সেই সভায় না যেতে পারায় আমাকে সভার কারণ না জানিয়েই রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর দিতে বললে আমি দেইনি।

আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, কি বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে? সেটি না জানতে পেরে আমি সভায় উপস্থিত হয়েছিলাম। তবে সে সভায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অস্থায়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সেখানে আমিসহ মোসলেম উদ্দিন নামের এক সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করলেও কোন লাভ হয়নি। স্বল্প বয়স্ক অন্য সদস্যদের চাপাচাপিতে আমরা বাধ্য হয়ে সেখানে স্বাক্ষর করেছি। এ অনাস্থার প্রস্তাবটি মূলত: স্বল্প বয়স্ক সদস্যদের ক্ষমতার প্রতিহিংসার প্রতিফলন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা পরিষদের সদস্য একরামুল হক বলেন, আমরা আসলে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের গাড়িটি তাঁর ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার, সদস্যদের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়হীনতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এই অনাস্থার প্রস্তাব করেছি।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্যের অনাস্থার প্রস্তাবটি গত বৃহস্পতিবার হাতে পেয়েছি। তবে এ অস্থায়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অনাস্থার প্রস্তাবটি বিধিসম্মত কিনা, সেটা যাচাই-বাছাই ও মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৩

সিরাজগঞ্জে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম (তাজফুল) এর বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অনাস্থার প্রস্তাব এনেছেন সদস্যরা।  শরিফুল ইসলাম তাজফুল তাড়াশ উপজেলার ইউনিয়নের কুসুম্বী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আব্দুল লতিফ বিশ্বাস স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়মানুযায়ী পদত্যাগ করলে সেটি চলতি বছরের গত ২৯ নভেম্বর পদটি শূণ্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সামছুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে জেলা পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান -১ ও সদস্য শরিফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তী ১৭ ডিসেম্বর চলমান প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের অনুমতি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরপর ১৯ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ১১তম সভার আহবান করলে আওয়ামী লীগের বিজয় র‌্যালির কথা বলে সদস্যরা অনুপস্থিত থাকে।

জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তাজফুল অভিযোগ করে বলেন,  জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হওয়ায় আমার ওপরে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব এসেছে। আর এ স্বল্প সময়ের দায়িত্ব পাবার পর জেলা পরিষদের সদস্য একরামুল হক আমার কাছ থেকে অনৈতিক কিছু সুবিধা দাবি করেন। কিন্তু আমি তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি আমার উপর প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ও সদস্য আমিনুল ইসলামকে দিয়ে একটি জরুরি সভা ডাকেন। সেই সভায় অন্য সদস্যদের বুঝে উঠার আগেই আমার বিরুদ্ধে এমন অনাস্থা প্রস্তাব করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়া এই ধরনের সভা আহ্বান করার কোন সুযোগ নেই।

সদস্য আমিনুল ইসলাম সভা আহবানের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সকল সদস্য আলোচনা করেই ওই সভা ডেকেছিলাম। সেখানে ১০ জন সদস্যের স্বাক্ষরে এই অনাস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সংরক্ষিত নারী সদস্য কামরুন্নাহার আলো বলেন, সদস্য একরামুল হক মুঠোফোনে আমাকে ২১ ডিসেম্বর একটি সভায় আসতে বলেন। তবে কি কারণে ওই সভা ডাকা হচ্ছে? সেটি জিজ্ঞাসা করলে একরামুল বলেন, সভায় আসলেই বুঝতে পারবেন। পরে আমি সেই সভায় না যেতে পারায় আমাকে সভার কারণ না জানিয়েই রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর দিতে বললে আমি দেইনি।

আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, কি বিষয়ে সভা ডাকা হয়েছে? সেটি না জানতে পেরে আমি সভায় উপস্থিত হয়েছিলাম। তবে সে সভায় সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অস্থায়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলে সেখানে আমিসহ মোসলেম উদ্দিন নামের এক সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করলেও কোন লাভ হয়নি। স্বল্প বয়স্ক অন্য সদস্যদের চাপাচাপিতে আমরা বাধ্য হয়ে সেখানে স্বাক্ষর করেছি। এ অনাস্থার প্রস্তাবটি মূলত: স্বল্প বয়স্ক সদস্যদের ক্ষমতার প্রতিহিংসার প্রতিফলন।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জেলা পরিষদের সদস্য একরামুল হক বলেন, আমরা আসলে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদের গাড়িটি তাঁর ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার, সদস্যদের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়হীনতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে এই অনাস্থার প্রস্তাব করেছি।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদের ১০ জন সদস্যের অনাস্থার প্রস্তাবটি গত বৃহস্পতিবার হাতে পেয়েছি। তবে এ অস্থায়ী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এমন অনাস্থার প্রস্তাবটি বিধিসম্মত কিনা, সেটা যাচাই-বাছাই ও মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।