ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিরাজগঞ্জে মামুন বিশ্বাসের সহযোগীতায় অন্ধ মা ও প্রতিবন্ধী ছেলে পেল অটোরিক্সা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালি গ্রামের মামুন বিম্বাস। ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক স্বপ্ন দেখেন একটি মানবিক সমাজের। চারিদিকে হুরমুর করে ভেঙে পড়া সমাজ ব্যাবস্থা আর স্বার্থের টানে একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের ভিতরেই খুঁজে ফেরেন মানবিক গল্প। নানাবিধ হতাশার মধ্যেও এই মানুষটি দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখেন সুন্দর সমাজের। যেখানে একজন আরেকজনের বিপদে নির্দ্বিধায় দাড়াবে পাশে, যে সমাজে একজনের দুঃখে আরেকজন ব্যথিত হবে এবং একজনের খুশিতে অন্যেরা হেসে উঠবে খিলখিল। এমনই এক মানবিক সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা মামুন বিশ্বাস যিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন এবং অন্যকেও স্বপ্ন দেখান। আর এই সমাজ নির্মানের জন্যই তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের জন্য। যেসমস্ত মানুষদের জীবন নানাবিধ সংকটে ডুবে যায় হতাশার অতল গহ্বরে তাদেরই পাশে গিয়ে আলো হাতে দাড়িয়ে যান তিনি। রোগে-শোকে যেসমস্ত মানুষ জীবন টেনে বেজায় ক্লান্ত তাদেরই কপালে ছোঁয়ান শিতল হাত। যাদের নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য মাথার উপর নেই আচ্ছাদন তাদের সামনেই ত্রাতা রূপে হাজির হয়ে নির্মাণ করে দেন নিরাপদ আশ্রয়। একেবারে অজপাড়া গাও থেকে উঠে আসা এই মানুষটি প্রতিনিয়ত নিজেকে বিনিয়োগ করে চলছেন অসহায় মানুষের  জন্য। আর এই কাজের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এই মাধ্যমটির দাড়াই হাতের তালুতে টেনে আনেন পৃথিবী। দু’হাতের সবগুলো আঙ্গুলে নাড়াচাড়া করেন অসহায় মানুষদের স্বপ্ন ; চকচকে দুটি চোখে কেবল খোঁজেন জীবন নিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মানুষদের বেচে থাকার প্রেরণা। মামুন বিশ্বাসের নেয়া উদ্যোগে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছে অনেক অসহায় মানুষ এবং পশু-পাখি। মূলত মামুন বিশ্বাস অসহায় মানুষ এবং পশু-পাখির জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েই সুখ পান। এরজন্য অবশ্য তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি বেদনাবিধুর ঘটনা অনুপ্রেরণা জোগায়।

নিজের সাথে ঘটা সেই বেদনাবিধুর ঘটনা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘আমার সন্তান জন্মের ৩৮ ঘণ্টার মাথায় মারা যায়। ঐ ৩৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে দৌড়াতে হয়েছিল চারটি হাসপাতালে। সে সময় আমার কাছে টাকার সমস্যা ছিল না তবুও বাঁচানো সম্ভব হয়নি আমার নবাগত সন্তানকে। আমার সন্তান আমার সীমাবদ্ধতা আর অসহায়ত্বের কারনে খুব বেশি সময় দেখতে পারেনি পৃথিবীর আলো, খুব বেশিক্ষণ নিতে পারেনি পৃথিবীর বাতাস। তখনই অনুধাবন করতে পারলাম, মানুষের অসহায়ত্ব। এরপর থেকেই অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করি এবং তখন থেকেই অসহায় অসহায়ত্ব দূর করে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। সারাজীবন মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছে আমার, স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশর প্রতিটি ইউনিয়নে তরুন প্রজন্ম একযোগে কাজ করবো। কারো কোনো সমস্যা হলে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই উদ্যোগ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবো। আমি যেন দিনশেষে একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারি, আটক বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে উড়াতে পারি এটাই তৃপ্তি, এটাই বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।’

নিজের সাথে নিজেই করা পণ থেকে মামুন বিশ্বাস কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে। এর জন্য সমাজের বহু মানুষে বহু রকম কটাক্ষের শিকারও হতে হয়েছে তাকে। তবু তিনি দমে যাননি। একদিকে পাখিদের জন্য দিকে দিকে নির্মাণ করেছেন অভয়াশ্রম অন্যদিকে অসহায় মানুষদের বেচে থাকার রাস্তা তৈরি করে দিতে নানা ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এই যুবক।

এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার ( ২০ অক্টোবর ) সিরাজগঞ্জে এক অন্ধ বিধবা ও তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে কিনে দিলেন নতুন ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা। এই অটোরিক্সা ভাড়া দিয়ে যেন অন্ধ মা আর প্রতিবন্ধী ছেলে মিলে খেয়ে পড়ে বেচে থাকতে পারে সেজন্যই এ উদ্যোগ। একইসাথে আজ সকালে অটোরিক্সাসহ, বস্তা ভর্তি চাল, মাংস, তেল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ,কাঁচাবাজার সহ সব কিছু তুলে দেন এই অসহায় মা ছেলের হাতে। এসময় মামুন বিশ্বাসের সাথে ছিলেন, সেচ্ছাসেবক রাহুল শেখ, আবু হাসান, হিরণ ও স্থানীয় কালামসহ তার বন্ধুরা।

এদিন বিকেলে মানবাধিকার কর্মী মামুন বিশ্বাস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোষ্টের মাধ্যমে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য কান্দাপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী শাহজাহান আলী। ২৫ বছর আগে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তার বাবা। শাহজাহানের মা আছিয়া বেগম অন্ধ । ২৫ বছর ধরে এই অসহায় মা ছেলে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেচে আছেন কোন রকমে। এই পঁচিশ বছরে অন্তত পাঁচটি বাড়ি বদল করে অন্যের বাড়িতে গিয়ে একটা খুপড়ি ঘর তুলে থাকেন। কোনক্রমে মা ছেলের খেয়ে না খেয়ে দিন চলে। কষ্ট হলেও অন্ধ মা আছিয়া বেগমই রান্না করেন ছেলের জন্য। আর প্রতিবন্ধী শাহজাহান মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে কিছু পান, পাশাপাশি একটা ফানিচারের দোকানে কিছু কাজ করে পান দৈনিক ৬০/৬৫ টাকা । এর সাথে মা ছেলে দুইজনেরই ভাতা কার্ড থাকায় সব মিলিয়ে কোনক্রমে চলে যায় তাদের সংসার। বিষয়টি জানার পর মামুন বিশ্বাস ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মা-ছেলেকে একটি অটোরিক্সা ও বাজর সদাই করে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে মামুন বিশ্বাসের সহযোগীতায় অন্ধ মা ও প্রতিবন্ধী ছেলে পেল অটোরিক্সা

আপডেট সময় : ০৬:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের আগনুকালি গ্রামের মামুন বিম্বাস। ৩৪ বছর বয়সী এই যুবক স্বপ্ন দেখেন একটি মানবিক সমাজের। চারিদিকে হুরমুর করে ভেঙে পড়া সমাজ ব্যাবস্থা আর স্বার্থের টানে একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের ভিতরেই খুঁজে ফেরেন মানবিক গল্প। নানাবিধ হতাশার মধ্যেও এই মানুষটি দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখেন সুন্দর সমাজের। যেখানে একজন আরেকজনের বিপদে নির্দ্বিধায় দাড়াবে পাশে, যে সমাজে একজনের দুঃখে আরেকজন ব্যথিত হবে এবং একজনের খুশিতে অন্যেরা হেসে উঠবে খিলখিল। এমনই এক মানবিক সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা মামুন বিশ্বাস যিনি নিজে স্বপ্ন দেখেন এবং অন্যকেও স্বপ্ন দেখান। আর এই সমাজ নির্মানের জন্যই তিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন অসহায় মানুষের জন্য। যেসমস্ত মানুষদের জীবন নানাবিধ সংকটে ডুবে যায় হতাশার অতল গহ্বরে তাদেরই পাশে গিয়ে আলো হাতে দাড়িয়ে যান তিনি। রোগে-শোকে যেসমস্ত মানুষ জীবন টেনে বেজায় ক্লান্ত তাদেরই কপালে ছোঁয়ান শিতল হাত। যাদের নিশ্চিন্ত ঘুমের জন্য মাথার উপর নেই আচ্ছাদন তাদের সামনেই ত্রাতা রূপে হাজির হয়ে নির্মাণ করে দেন নিরাপদ আশ্রয়। একেবারে অজপাড়া গাও থেকে উঠে আসা এই মানুষটি প্রতিনিয়ত নিজেকে বিনিয়োগ করে চলছেন অসহায় মানুষের  জন্য। আর এই কাজের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। এই মাধ্যমটির দাড়াই হাতের তালুতে টেনে আনেন পৃথিবী। দু’হাতের সবগুলো আঙ্গুলে নাড়াচাড়া করেন অসহায় মানুষদের স্বপ্ন ; চকচকে দুটি চোখে কেবল খোঁজেন জীবন নিয়ে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মানুষদের বেচে থাকার প্রেরণা। মামুন বিশ্বাসের নেয়া উদ্যোগে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছে অনেক অসহায় মানুষ এবং পশু-পাখি। মূলত মামুন বিশ্বাস অসহায় মানুষ এবং পশু-পাখির জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েই সুখ পান। এরজন্য অবশ্য তার নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি বেদনাবিধুর ঘটনা অনুপ্রেরণা জোগায়।

নিজের সাথে ঘটা সেই বেদনাবিধুর ঘটনা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘আমার সন্তান জন্মের ৩৮ ঘণ্টার মাথায় মারা যায়। ঐ ৩৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাকে দৌড়াতে হয়েছিল চারটি হাসপাতালে। সে সময় আমার কাছে টাকার সমস্যা ছিল না তবুও বাঁচানো সম্ভব হয়নি আমার নবাগত সন্তানকে। আমার সন্তান আমার সীমাবদ্ধতা আর অসহায়ত্বের কারনে খুব বেশি সময় দেখতে পারেনি পৃথিবীর আলো, খুব বেশিক্ষণ নিতে পারেনি পৃথিবীর বাতাস। তখনই অনুধাবন করতে পারলাম, মানুষের অসহায়ত্ব। এরপর থেকেই অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করি এবং তখন থেকেই অসহায় অসহায়ত্ব দূর করে বেচে থাকার অনুপ্রেরণা জোগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। সারাজীবন মানুষ ও বন্যপ্রাণীর জন্য কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছে আমার, স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশর প্রতিটি ইউনিয়নে তরুন প্রজন্ম একযোগে কাজ করবো। কারো কোনো সমস্যা হলে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকেই উদ্যোগ নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবো। আমি যেন দিনশেষে একজন অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারি, আটক বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে উড়াতে পারি এটাই তৃপ্তি, এটাই বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।’

নিজের সাথে নিজেই করা পণ থেকে মামুন বিশ্বাস কাজ করে যাচ্ছেন আপন মনে। এর জন্য সমাজের বহু মানুষে বহু রকম কটাক্ষের শিকারও হতে হয়েছে তাকে। তবু তিনি দমে যাননি। একদিকে পাখিদের জন্য দিকে দিকে নির্মাণ করেছেন অভয়াশ্রম অন্যদিকে অসহায় মানুষদের বেচে থাকার রাস্তা তৈরি করে দিতে নানা ভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন এই যুবক।

এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার ( ২০ অক্টোবর ) সিরাজগঞ্জে এক অন্ধ বিধবা ও তার প্রতিবন্ধী ছেলেকে কিনে দিলেন নতুন ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা। এই অটোরিক্সা ভাড়া দিয়ে যেন অন্ধ মা আর প্রতিবন্ধী ছেলে মিলে খেয়ে পড়ে বেচে থাকতে পারে সেজন্যই এ উদ্যোগ। একইসাথে আজ সকালে অটোরিক্সাসহ, বস্তা ভর্তি চাল, মাংস, তেল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ,কাঁচাবাজার সহ সব কিছু তুলে দেন এই অসহায় মা ছেলের হাতে। এসময় মামুন বিশ্বাসের সাথে ছিলেন, সেচ্ছাসেবক রাহুল শেখ, আবু হাসান, হিরণ ও স্থানীয় কালামসহ তার বন্ধুরা।

এদিন বিকেলে মানবাধিকার কর্মী মামুন বিশ্বাস তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোষ্টের মাধ্যমে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য কান্দাপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী শাহজাহান আলী। ২৫ বছর আগে দুনিয়া থেকে চলে গেছেন তার বাবা। শাহজাহানের মা আছিয়া বেগম অন্ধ । ২৫ বছর ধরে এই অসহায় মা ছেলে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেচে আছেন কোন রকমে। এই পঁচিশ বছরে অন্তত পাঁচটি বাড়ি বদল করে অন্যের বাড়িতে গিয়ে একটা খুপড়ি ঘর তুলে থাকেন। কোনক্রমে মা ছেলের খেয়ে না খেয়ে দিন চলে। কষ্ট হলেও অন্ধ মা আছিয়া বেগমই রান্না করেন ছেলের জন্য। আর প্রতিবন্ধী শাহজাহান মানুষের কাছ থেকে হাত পেতে কিছু পান, পাশাপাশি একটা ফানিচারের দোকানে কিছু কাজ করে পান দৈনিক ৬০/৬৫ টাকা । এর সাথে মা ছেলে দুইজনেরই ভাতা কার্ড থাকায় সব মিলিয়ে কোনক্রমে চলে যায় তাদের সংসার। বিষয়টি জানার পর মামুন বিশ্বাস ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে মা-ছেলেকে একটি অটোরিক্সা ও বাজর সদাই করে দেন।