ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিরাজগঞ্জে করোনার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যক্ষা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩
  • / ৫১৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ:

আজ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই মহামারীর নির্মূলে দিবসটি পালিত হলেও সিরাজগঞ্জে দিন দিন যক্ষার রোগী ও এই রোগে মৃত্যুর  সংখ্যা বেড়েই চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন করোনার চেয়ে ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে এই যক্ষা। জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে আগামী প্রজন্মের উপর পরবে বিরুপ প্রভাব।

১৮৮২ সালের এই দিনে ড. রবার্ট কোচ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার এবং এর রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেন। তাকে স্মরণ করেই এই দিনটিতে যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা এখনো বিশ্বের দশটি মৃত্যুজনিত কারণের মধ্যে অন্যতম। যক্ষা একটি ব্যাক্টেরিয়া বাহিত রোগ। মাইক্রোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাক্টেরিয়া শ্বাসযন্ত্রকে সংক্রমিত করে ফলে যক্ষা রোগ হয়। করোনাভাইরাসের মতো এই ব্যাক্টেরিয়াও বাতাসে ভেসে বেড়ানো ড্রপলেটের মধ্যে দিয়ে শরীরে সংক্রমিত হয়ে থাকে। একজনের হাঁচি-কাশি থেকে দ্রুত এটি অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সিরাজগঞ্জে যক্ষা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। একই সাথে বাড়ছে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা। গত দুই বছরে এই জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের আর যক্ষায় মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। সারা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার মানুষের অথচো যক্ষা রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের। করোনা নিয়ে মানুষ সচেতন থাকলেও যক্ষা নিয়ে তেমন একটা সচেতন নয়। এমন ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরেন জেলা সিভিল সার্জন যক্ষা নির্মূল বিষয়ক মতবিনিময় সভায়।

২৩ মার্চ বৃহসপ্রতিবার সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যক্ষা নির্মূল বিষয়ক জানতে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছে সিভিল সার্জন ডা: রাম পদ রায় তুলে ধরেন পাচ বছরে যক্ষা রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। তথ্যে উঠে আছে ২০১৯ সালে জেলায় ৪৩৬৩ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। ২০২০ সালে জেলায় ৩৫০০ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে৮৪ জনের। ২০২১ সালে জেলায় ৫৯৮৪ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ১৩৪৫ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।

এ সময় সিভিল সার্জন ডা: রাম পদ রায় বলেন, আমরা এই যক্ষা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষা চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রেখেছি । সরকারে পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা ও এনজিও গুলো কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং জন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ এই রোগ করোনার চেয়ে ভয়াবহ।

বেলকুচি উপজেলার মবুপুর গ্রামের যক্ষা রোগে আক্রান্ত রোগী হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি যক্ষার রোগী, আমি  সচেতন হলেও আমার পরিবারের লোক জন সচেতন হন না। পরিবারের লোক জন আমার গ্লাসেই পানি পান করে। আমার প্লেটেই খাবার খায়। আমি বারন করলেও শোনেনা। আবার আমার সাথে তাদের কেউ ঔষধ দিয়েছে তারা সেই ঔষধ খায়না।

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা ডা: মফাখারুল ইসলাম বলেন, আমরা যক্ষা রোগ নির্মূলের জন্য রোগী ও তার পরিবারের লোক জনদের সচেতন করতে নানা ভাবে কাউন্সিল করে থাকি। কিন্তু রোগীকে সচেতন করা গেলেও রোগীর পরিবারের লোকজনদের সচেতন করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমরা পুরোদমে বিনা মূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি।

চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার বলেন, এই রোগ থেকে বাচতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে । আমরা চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছি যাতে মানুষ এই রোগের ভয়াবতা সম্পর্কে জানতে পারে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিটি মানুষকে এই রোগের ভয়াবহতা সম্পের্কে জানতে হবে। তাই সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে প্রচার প্রচারনার জন্য । আমরা করোনার সময় অনেক সচেতন ছিলাম কিন্ত এখন অতোটা সচেতন নই। সচেতনতাই পারে এই রোগ থেকে সবাইতে মুক্ত রাখতে।

যক্ষা রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে, যা অবিলম্বে দূর করা ভীষণ জরুরি। সচেতন হতে হবে প্রতিটি মানুষকে।

বা/খ: এসআর।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে করোনার চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে যক্ষা

আপডেট সময় : ১২:২৬:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০২৩

গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ:

আজ ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই মহামারীর নির্মূলে দিবসটি পালিত হলেও সিরাজগঞ্জে দিন দিন যক্ষার রোগী ও এই রোগে মৃত্যুর  সংখ্যা বেড়েই চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন করোনার চেয়ে ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে এই যক্ষা। জনসচেতনতা বৃদ্ধি না হলে আগামী প্রজন্মের উপর পরবে বিরুপ প্রভাব।

১৮৮২ সালের এই দিনে ড. রবার্ট কোচ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার এবং এর রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেন। তাকে স্মরণ করেই এই দিনটিতে যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে আসছে। যক্ষ্মা এখনো বিশ্বের দশটি মৃত্যুজনিত কারণের মধ্যে অন্যতম। যক্ষা একটি ব্যাক্টেরিয়া বাহিত রোগ। মাইক্রোব্যাক্টেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক ব্যাক্টেরিয়া শ্বাসযন্ত্রকে সংক্রমিত করে ফলে যক্ষা রোগ হয়। করোনাভাইরাসের মতো এই ব্যাক্টেরিয়াও বাতাসে ভেসে বেড়ানো ড্রপলেটের মধ্যে দিয়ে শরীরে সংক্রমিত হয়ে থাকে। একজনের হাঁচি-কাশি থেকে দ্রুত এটি অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সিরাজগঞ্জে যক্ষা রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। একই সাথে বাড়ছে এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা। গত দুই বছরে এই জেলায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের আর যক্ষায় মৃত্যু হয়েছে ২০০ জনের। সারা দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৯ হাজার মানুষের অথচো যক্ষা রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের। করোনা নিয়ে মানুষ সচেতন থাকলেও যক্ষা নিয়ে তেমন একটা সচেতন নয়। এমন ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরেন জেলা সিভিল সার্জন যক্ষা নির্মূল বিষয়ক মতবিনিময় সভায়।

২৩ মার্চ বৃহসপ্রতিবার সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে যক্ষা নির্মূল বিষয়ক জানতে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছে সিভিল সার্জন ডা: রাম পদ রায় তুলে ধরেন পাচ বছরে যক্ষা রোগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার। তথ্যে উঠে আছে ২০১৯ সালে জেলায় ৪৩৬৩ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। ২০২০ সালে জেলায় ৩৫০০ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে৮৪ জনের। ২০২১ সালে জেলায় ৫৯৮৪ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ১৩৪৫ জন রোগী যক্ষা রোগে আক্রন্ত হয় আর মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।

এ সময় সিভিল সার্জন ডা: রাম পদ রায় বলেন, আমরা এই যক্ষা থেকে মানুষকে রক্ষা করতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষা চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রেখেছি । সরকারে পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা ও এনজিও গুলো কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের যার যার অবস্থান থেকে এই রোগের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং জন সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ এই রোগ করোনার চেয়ে ভয়াবহ।

বেলকুচি উপজেলার মবুপুর গ্রামের যক্ষা রোগে আক্রান্ত রোগী হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি যক্ষার রোগী, আমি  সচেতন হলেও আমার পরিবারের লোক জন সচেতন হন না। পরিবারের লোক জন আমার গ্লাসেই পানি পান করে। আমার প্লেটেই খাবার খায়। আমি বারন করলেও শোনেনা। আবার আমার সাথে তাদের কেউ ঔষধ দিয়েছে তারা সেই ঔষধ খায়না।

বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা  কর্মকর্তা ডা: মফাখারুল ইসলাম বলেন, আমরা যক্ষা রোগ নির্মূলের জন্য রোগী ও তার পরিবারের লোক জনদের সচেতন করতে নানা ভাবে কাউন্সিল করে থাকি। কিন্তু রোগীকে সচেতন করা গেলেও রোগীর পরিবারের লোকজনদের সচেতন করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। আমরা পুরোদমে বিনা মূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে যাচ্ছি।

চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক সরকার বলেন, এই রোগ থেকে বাচতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে । আমরা চরাঞ্চলে ব্যাপক হারে প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছি যাতে মানুষ এই রোগের ভয়াবতা সম্পর্কে জানতে পারে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রতিটি মানুষকে এই রোগের ভয়াবহতা সম্পের্কে জানতে হবে। তাই সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে প্রচার প্রচারনার জন্য । আমরা করোনার সময় অনেক সচেতন ছিলাম কিন্ত এখন অতোটা সচেতন নই। সচেতনতাই পারে এই রোগ থেকে সবাইতে মুক্ত রাখতে।

যক্ষা রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণাও রয়েছে, যা অবিলম্বে দূর করা ভীষণ জরুরি। সচেতন হতে হবে প্রতিটি মানুষকে।

বা/খ: এসআর।