ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে হত্যা মামলার বাদী-স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে লুটপাটের ৩ মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৭০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৈজুরী ইউনিয়নে ঠুটিয়ার চর গ্রামে চাঞ্চল্যকর দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী, স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী হোসেন মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে হত্যার ঘটনায় আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। হত্যা মামলা থেকে আসামীদের বাঁচাতে আসামীরা পরিকল্পিত ভাবে তাদের স্ত্রী দিয়ে আমাকেসহ ১৬৪ জনকে আসামী করে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগ সত্য নয়।
দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার ৩ নাম্বার আসামী ফরহাদ ব্যাপারির স্ত্রী রশিদা খাতুন, ৫ নাম্বার আসামী শুকুর ব্যাপারির স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও ২৬ নাম্বার আসামী রহম ব্যাপারির স্ত্রী মমতা খাতুন বাদী হয়ে মামলা তিনটি দায়ের করেন।
একটি মামলার বাদী মমতা খাতুন বলেন, মামলা কোন দিন মিথ্যা হয় না। আমরা গ্রামে ঠুকতে পারি না। পলাতক আছি। আমাদের বাড়ি ঘরের কিছুই নাই।
গত ৩ মার্চ শাহজাদপুর উপজেলা আমলী আদালতে মামলা তিনটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগের শুনানী শেষে বিচারক ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জুলহাজ উদ্দিন এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিনটি মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা অভিযোগ তিনটি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবো।
মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সরিষা, ধান, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাপত্র, গাভী, ষাঁড়, ভেড়া, মটর পাম্প লুটপটের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনটি মামলায় ১৬৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী হোসেন মল্লিক, স্বাক্ষী জাহাঙ্গীর মল্লিক, বাবুল সরদার, খোকন সরদারসহ ১৬৪ জন।
তিনটি মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামীদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধ নিয়ে গোলমাল থাকার কারনে আসামী পক্ষের এক ব্যক্তি মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুর ঘটনায় আসামীরা আমাদের স্বামীসহ শরীকের লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে হত্যা মামলার আসামীরা গ্রাম ছাড়া থাকা অবস্থায় তিন মামলার আসামীরা হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে। এঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, শহাজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নে চরের জমি নিয়ে ঠুটিয়া চর গ্রামের ইসলাম মল্লিক ও শুকুর ব্যাপারির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ ওই জমির সীমানাপপ্রচীর নির্ধারণ করার জন্য উভয় পক্ষ গত ২ মার্চ বিকেলে বৈঠকে বসে। বৈঠকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুলাল মল্লিক ধারাল ফালার আঘাতে নিহত হন। এঘটনায় নিহতের ছেলে হোসেন মল্লিক ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫-২০ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে হত্যা মামলার বাদী-স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে লুটপাটের ৩ মামলা

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মার্চ ২০২৪
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৈজুরী ইউনিয়নে ঠুটিয়ার চর গ্রামে চাঞ্চল্যকর দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী, স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মার্চ) দুপুরে দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী হোসেন মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবাকে হত্যার ঘটনায় আমি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি। হত্যা মামলা থেকে আসামীদের বাঁচাতে আসামীরা পরিকল্পিত ভাবে তাদের স্ত্রী দিয়ে আমাকেসহ ১৬৪ জনকে আসামী করে তিনটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগ সত্য নয়।
দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার ৩ নাম্বার আসামী ফরহাদ ব্যাপারির স্ত্রী রশিদা খাতুন, ৫ নাম্বার আসামী শুকুর ব্যাপারির স্ত্রী শিল্পী খাতুন ও ২৬ নাম্বার আসামী রহম ব্যাপারির স্ত্রী মমতা খাতুন বাদী হয়ে মামলা তিনটি দায়ের করেন।
একটি মামলার বাদী মমতা খাতুন বলেন, মামলা কোন দিন মিথ্যা হয় না। আমরা গ্রামে ঠুকতে পারি না। পলাতক আছি। আমাদের বাড়ি ঘরের কিছুই নাই।
গত ৩ মার্চ শাহজাদপুর উপজেলা আমলী আদালতে মামলা তিনটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগের শুনানী শেষে বিচারক ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জুলহাজ উদ্দিন এতথ্য নিশ্চিত করে বলেন, তিনটি মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা অভিযোগ তিনটি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবো।
মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে সরিষা, ধান, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাপত্র, গাভী, ষাঁড়, ভেড়া, মটর পাম্প লুটপটের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনটি মামলায় ১৬৪ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে রয়েছেন, দুলাল মল্লিক হত্যা মামলার বাদী হোসেন মল্লিক, স্বাক্ষী জাহাঙ্গীর মল্লিক, বাবুল সরদার, খোকন সরদারসহ ১৬৪ জন।
তিনটি মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামীদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধ নিয়ে গোলমাল থাকার কারনে আসামী পক্ষের এক ব্যক্তি মৃত্যুবরন করেন। মৃত্যুর ঘটনায় আসামীরা আমাদের স্বামীসহ শরীকের লোকজনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে হত্যা মামলার আসামীরা গ্রাম ছাড়া থাকা অবস্থায় তিন মামলার আসামীরা হত্যা মামলার আসামীদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করে। এঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, শহাজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নে চরের জমি নিয়ে ঠুটিয়া চর গ্রামের ইসলাম মল্লিক ও শুকুর ব্যাপারির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ ওই জমির সীমানাপপ্রচীর নির্ধারণ করার জন্য উভয় পক্ষ গত ২ মার্চ বিকেলে বৈঠকে বসে। বৈঠকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুলাল মল্লিক ধারাল ফালার আঘাতে নিহত হন। এঘটনায় নিহতের ছেলে হোসেন মল্লিক ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫-২০ জনকে আসামী করে শাহজাদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।