শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল কলাপাড়ায় নারী কৃষকদের মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন আজ না হয় কাল, খবরটা জানাজানি হবেই : সিদ্ধার্থ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ঝগড়ায় সংঘর্ষে নিহত ১ চরাঞ্চলে ভূট্টা চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে  আমাদের হৃদয় আছে বলেই আমরা সেমিফাইনালে : মার্তিনেস নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে ইরান পরমাণু চুক্তি মেনে চলবে : তেহরান কটিয়াদীতে মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে মাছ চাষ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে দুপুরের পর জেলেরা গভীর সাগরে যেতে পারবে ইনজেকশন দিয়ে স্বাবলম্বী দেড় শতাধিক নারী বঙ্গবন্ধু তরুণ লেখক পরিষদের সম্মেলন ও গুণীজন সম্মাননা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন গোলাপবাগে ইন্টারনেট নেই, মোবাইলে কলড্রপ খালেদা জিয়ার হাত কালো নয়, সাদা: আফরোজা আব্বাস পটুয়াখালীর “শ্রেষ্ঠ জয়িতা” কলাপাড়ার মিলি

সিনেমার গল্পকেও হার মানায় আল-আমিনের ফুটবল প্রেম

সিনেমার গল্পকেও হার মানায় আল-আমিনের ফুটবল প্রেম
সিনেমার গল্পকেও হার মানায় আল-আমিনের ফুটবল প্রেম

ফুটবলের নেশায় ঘরছাড়া ১৩ বছর বয়সী মো. আল-আমিনকে চারদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে রাজবাড়ী শহরের কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়াম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

আল-আমিন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের দুদুখান পাড়ার মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় দুদুখান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে আল-আমিন তৃতীয়। তার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে গাড়িচালকের কাজ করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল-আমিন গত মঙ্গলবার বিকেলে সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণে অংশ নিতে এসে আর বাড়ি ফেরেনি। এর মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে তার মায়ের ফোনে একটি কল আসে। ফোনের ওপাশ থেকে অপহরণকারী পরিচয়ে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে জানিয়ে আল-আমিনের মা গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি জিডি করেন।

আল-আমিনকে উদ্ধার করতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল মাঠে নামে। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে রাজবাড়ী শহরের কাজী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়াম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, আল-আমিন নিখোঁজ হবার পর তার স্কুলের শিক্ষক ফেসবুকে একটি হারানো বিজ্ঞপ্তির স্ট্যাটাস দেন। সেখানে আল-আমিনের মায়ের মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। বিষয়টি চোখে পড়ে একটি প্রতারক চক্রের। চক্রটিই তার মায়ের কাছে কল করে মুক্তিপণ চায়।

উদ্ধারের পর আল-আমিন বলে, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি ঘর ছাড়ি। আমার ইচ্ছা আমি বড় হয়ে বড় ফুটবলার হবো। তাই বাসা থেকে বের হয়ে আমি রাজবাড়ীতে আসি। রাজবাড়ীতে আমি স্টেডিয়ামে ফুটবল প্র্যাকটিস শুরু করি। রাতে রেলস্টেশনে ছিলাম। সেখানে তিন রাত কাটিয়েছি।

আল-আমিনের বড় ভাই মো. আলিম বলেন, গত মঙ্গলবার ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণের কথা বলে আল-আমিন ঘর থেকে বের হয়। এরপর সে আর ফিরে আসেনি। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। গত শুক্রবার মায়ের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, আমার ভাই অপহরণের শিকার হয়েছে। ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি আমরা গোয়ালন্দ ঘাট থানাকে জানাই।

তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের ফুটবল খেলার প্রতি খুব ঝোঁক রয়েছে। তবে আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে কখনো তাকে বাধা দেইনি। কী কারণে সে বাসা থেকে পালিয়ে গেল, তা বলতে পারছি না।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসানুল বান্না সাগর বলেন, আল-আমিনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করলে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আল-আমিনকে খুঁজতে শুরু করি। একপর্যায়ে তাকে আমরা রাজবাড়ী হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে উদ্ধার করি।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, শিশুটি ফুটবল খেলতে পছন্দ করে। কিন্তু পরিবার ফুটবল খেলতে বাধা দেওয়ায় সে ঘর থেকে পালিয়ে এসে বিভিন্ন জায়গায় ফুটবল খেলে বেড়াচ্ছিল। তাকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতারক চক্রটিকে ধরতে অভিযান চলছে।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজাউল করিম বলেন, গোয়ালন্দ ঘাট থানায় জিডি হওয়ার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তদন্ত শুরু করি। পরে বিভিন্ন অনুসন্ধান চালিয়ে তাকে রাজবাড়ীর হেদায়েত হোসেন স্টেডিয়াম থেকে উদ্ধার করা হয়। তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে যারা অপহরণ বলে প্রতারণা করতে চেয়েছিল তাদের ধরতে মোবাইল নম্বর ট্রেস করে অভিযান চালানো হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *