ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

নীতিমালায় না আসছে উচ্ছেদের কথা জানালো প্রশাসন

সলঙ্গায় অবৈধভাবেগড়ে ওঠা মৎস্য আড়ৎ উচ্ছেদ ও জমি ফেরতের দাবীতে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
  • / ৪৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০ বিঘা ফসলী জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা মৎস্য আড়ৎ উচ্ছেদ ও জমি ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে জমির মালিকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন সলঙ্গার রামারচর আঞ্চলিক সড়কে এ  সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নুসরাত জাহান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুস ছাত্তার, জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ ছদরুল আলম, সরোয়ার সরকার, জামাল মণ্ডল, আবু হানিফ, ইকবাল হোসেন, হেলাল উদ্দিন, রাজিমূল ইহসান, নজরুল ইসলাম ও আবু সাঈদ প্রমুখ। এছাড়াও জমির মালিকদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,  সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার প্রভাবশালী আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে অসাধু একটি সিন্ডিকেট চক্র এলাকার সহজ সরল ও নিরীহ জমির মালিকদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তিদের লোভে ফেলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০ বিঘা ফসলি জমি জোরপূর্বকভাবে দখল করে গড়ে তোলেন ‘কুতুবের চর সমবায় মৎস্য আড়ৎ’। পরিকল্পনাবিহীন ও প্রকৃত জমির মালিকদের সাথে সমন্বয় না করে অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি অনুমোদনহীনভাবে মৎস্য আড়তটি গড়ে তুলে সংঘবদ্ধ চক্রটি পজিশনসহ কাটা সরবরাহের নামে কাটা প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে প্রায় শতাধিক কাটা থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এতে জমির প্রকৃত মালিকরা যেমন সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে ঠিক একইভাবেই সরকারও লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছেন।

অপরদিকে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করে বরফ মিল স্থাপন করায় বরফ মিলের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়ে আড়তের আশেপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি মালিকানাধীন জায়গায় রোপনকৃত বিপুল পরিমাণ বৃক্ষনিধন করা হয়েছে। এছাড়াও সংঘবদ্ধ এই চক্রটি জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে বৈধ চুক্তিপত্র না করে অবৈধ পন্থায় ভুয়া ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মৎস্য আড়তটি অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অবৈধ মৎস্য আড়তটি বন্ধ করে মালিকদের জমি ফেরতের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এই সংঘবদ্ধ চক্রের কবল থেকে জমিগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন জমির মালিকরা। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের পরও প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আগামীতেও বৃহত্তর কর্মসূচির নেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন জমির মালিকরা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, সলঙ্গার কুতুবেরচর মৎস্য আড়তটি অবৈধ। আমরা বেশ কয়েকবার তাদের ডেকে আড়তটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আড়ৎ কমিটি আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক মৎস্য আড়ৎ পরিচালনার জন্য সরকারের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলে তারা আজও দেয়নি। এ বিষয়টি জেলার সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। জমির মালিকসহ সাধারন মানুষের যেন কোন অধিকার ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে প্রশাসন নজর রাখবে। সেইসাথে সরকারের নীতিমালার আওতায় না আসলে মৎস্য আড়তটি উচ্ছেদ করে দেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

নীতিমালায় না আসছে উচ্ছেদের কথা জানালো প্রশাসন

সলঙ্গায় অবৈধভাবেগড়ে ওঠা মৎস্য আড়ৎ উচ্ছেদ ও জমি ফেরতের দাবীতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০ বিঘা ফসলী জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা মৎস্য আড়ৎ উচ্ছেদ ও জমি ফেরতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে জমির মালিকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক সংলগ্ন সলঙ্গার রামারচর আঞ্চলিক সড়কে এ  সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নুসরাত জাহান।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবিএম আব্দুস ছাত্তার, জমির মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ ছদরুল আলম, সরোয়ার সরকার, জামাল মণ্ডল, আবু হানিফ, ইকবাল হোসেন, হেলাল উদ্দিন, রাজিমূল ইহসান, নজরুল ইসলাম ও আবু সাঈদ প্রমুখ। এছাড়াও জমির মালিকদের পরিবারের সদস্যসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন,  সিরাজগঞ্জের সলঙ্গার প্রভাবশালী আব্দুল হাই সরকারের নেতৃত্বে অসাধু একটি সিন্ডিকেট চক্র এলাকার সহজ সরল ও নিরীহ জমির মালিকদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে কতিপয় ব্যক্তিদের লোভে ফেলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ১০ বিঘা ফসলি জমি জোরপূর্বকভাবে দখল করে গড়ে তোলেন ‘কুতুবের চর সমবায় মৎস্য আড়ৎ’। পরিকল্পনাবিহীন ও প্রকৃত জমির মালিকদের সাথে সমন্বয় না করে অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি অনুমোদনহীনভাবে মৎস্য আড়তটি গড়ে তুলে সংঘবদ্ধ চক্রটি পজিশনসহ কাটা সরবরাহের নামে কাটা প্রতি ২ থেকে ৩ লাখ টাকা করে প্রায় শতাধিক কাটা থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এতে জমির প্রকৃত মালিকরা যেমন সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে ঠিক একইভাবেই সরকারও লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছেন।

অপরদিকে, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা না করে বরফ মিল স্থাপন করায় বরফ মিলের লবণাক্ত পানি প্রবাহিত হয়ে আড়তের আশেপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি মালিকানাধীন জায়গায় রোপনকৃত বিপুল পরিমাণ বৃক্ষনিধন করা হয়েছে। এছাড়াও সংঘবদ্ধ এই চক্রটি জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে বৈধ চুক্তিপত্র না করে অবৈধ পন্থায় ভুয়া ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি করে মৎস্য আড়তটি অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অবৈধ মৎস্য আড়তটি বন্ধ করে মালিকদের জমি ফেরতের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এই সংঘবদ্ধ চক্রের কবল থেকে জমিগুলো উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন জমির মালিকরা। মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের পরও প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আগামীতেও বৃহত্তর কর্মসূচির নেয়া হবে বলে হুশিয়ারী দিয়েছেন জমির মালিকরা।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান খান বলেন, সলঙ্গার কুতুবেরচর মৎস্য আড়তটি অবৈধ। আমরা বেশ কয়েকবার তাদের ডেকে আড়তটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। আড়ৎ কমিটি আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। সরকারি বিধি মোতাবেক মৎস্য আড়ৎ পরিচালনার জন্য সরকারের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার কথা থাকলে তারা আজও দেয়নি। এ বিষয়টি জেলার সমন্বয় কমিটির সভায় উত্থাপন করা হয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। জমির মালিকসহ সাধারন মানুষের যেন কোন অধিকার ক্ষুন্ন না হয় সেদিকে প্রশাসন নজর রাখবে। সেইসাথে সরকারের নীতিমালার আওতায় না আসলে মৎস্য আড়তটি উচ্ছেদ করে দেয়া হবে।