ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরা বাবা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতককে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাবার বিরুদ্ধে। নবজাকতটির বাবা আদর আলী ১ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের এক আত্মীয়ের কাছে সন্তান বিক্রির জন্য হাসপাতালের ভেতরেই দেনদরবার করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের আনসার সদস্যরা অভিযুক্ত বাবাকে আটক করলেও, পালিয়ে গেছেন ক্রেতা।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম হয় এক ছেলে শিশুর। এর পরই ঘটে এ ঘটনা।

অভিযুক্ত আদরের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার সালগাড়িয়া তালবাগান এলাকায়। ৩য় স্ত্রী বিউটি আক্তারকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনিতে থাকেন তিনি।

নবজাতকের নানি ইয়ারুন বেগমের অভিযোগ, আদর আলী মাদকাসক্ত। স্ত্রী বিউটি আক্তারকে মারধরও করেন। সন্তান জন্ম নেয়ার পরপরই আদর আলী আনোয়ার নামে একজনকে খবর দিয়ে হাসপাতালে আনেন। তার কাছে ১ লাখ টাকায় সন্তান বিক্রির কথাবার্তা পাকা করেন। এরপর ওয়ার্ডের ভেতর বিউটির কাছেও একটা কাগজে স্বাক্ষর আনতে যান। তখন ইয়ারুন বেগম বিষয়টি জানতে পেরে বাধা দেন। এতে ওয়ার্ডের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়। ইয়ারুন বেগমের বোনের ছেলে আনোয়ার। তিনি নারায়ণগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় থাকেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আদর আলী জানান, বাচ্চাকে আমি যাদের কাছে দিতাম তাদের কোনো সন্তান নেই। সংসারে অভাব থাকায় এবং আরও ৩ সন্তান থাকায় এই সন্তানটি এক আত্মীয়কে দত্তক দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিল। আগে থেকেই আনোয়ার সন্তানটি দত্তক নেবেন বলে জানিয়ে রেখেছিলেন। সেজন্য আনোয়ার হাসপাতালে এসে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। কোনো লেনদেন হয়নি।

হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) আব্দুর রউফ জানান, নবজাতক বিক্রির খবর শুনে গাইনি ওয়ার্ডের সামনে থেকে তার বাবা আদর আলীকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। তবে কিনতে আসা ওই ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, নিজের সন্তানকে অন্যত্র বিক্রি করার উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের লোকজন তাদের আটক করে। যেহেতু নবজাতক বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে, সেজন্য অভিযুক্ত আদর আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরা বাবা

আপডেট সময় : ১১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতককে বিক্রির চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাবার বিরুদ্ধে। নবজাকতটির বাবা আদর আলী ১ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের এক আত্মীয়ের কাছে সন্তান বিক্রির জন্য হাসপাতালের ভেতরেই দেনদরবার করছিলেন। এ সময় হাসপাতালের আনসার সদস্যরা অভিযুক্ত বাবাকে আটক করলেও, পালিয়ে গেছেন ক্রেতা।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম হয় এক ছেলে শিশুর। এর পরই ঘটে এ ঘটনা।

অভিযুক্ত আদরের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলার সালগাড়িয়া তালবাগান এলাকায়। ৩য় স্ত্রী বিউটি আক্তারকে নিয়ে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর সিটি কলোনিতে থাকেন তিনি।

নবজাতকের নানি ইয়ারুন বেগমের অভিযোগ, আদর আলী মাদকাসক্ত। স্ত্রী বিউটি আক্তারকে মারধরও করেন। সন্তান জন্ম নেয়ার পরপরই আদর আলী আনোয়ার নামে একজনকে খবর দিয়ে হাসপাতালে আনেন। তার কাছে ১ লাখ টাকায় সন্তান বিক্রির কথাবার্তা পাকা করেন। এরপর ওয়ার্ডের ভেতর বিউটির কাছেও একটা কাগজে স্বাক্ষর আনতে যান। তখন ইয়ারুন বেগম বিষয়টি জানতে পেরে বাধা দেন। এতে ওয়ার্ডের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়। ইয়ারুন বেগমের বোনের ছেলে আনোয়ার। তিনি নারায়ণগঞ্জের গাউসিয়া এলাকায় থাকেন।

তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে আদর আলী জানান, বাচ্চাকে আমি যাদের কাছে দিতাম তাদের কোনো সন্তান নেই। সংসারে অভাব থাকায় এবং আরও ৩ সন্তান থাকায় এই সন্তানটি এক আত্মীয়কে দত্তক দেয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছিল। আগে থেকেই আনোয়ার সন্তানটি দত্তক নেবেন বলে জানিয়ে রেখেছিলেন। সেজন্য আনোয়ার হাসপাতালে এসে খোঁজখবর নিচ্ছিলেন। কোনো লেনদেন হয়নি।

হাসপাতালের আনসার ক্যাম্পের ইনচার্জ প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) আব্দুর রউফ জানান, নবজাতক বিক্রির খবর শুনে গাইনি ওয়ার্ডের সামনে থেকে তার বাবা আদর আলীকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। তবে কিনতে আসা ওই ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, নিজের সন্তানকে অন্যত্র বিক্রি করার উদ্দেশে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের লোকজন তাদের আটক করে। যেহেতু নবজাতক বিক্রির অভিযোগ করা হয়েছে, সেজন্য অভিযুক্ত আদর আলীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ দেখছে।