ঢাকা ১১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সড়ক নির্মাণ ঠেকাতে চাঁদাবাজির মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩
  • / ৪৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি //
ভাই ভাতিজার চলাচলের জন্য পৈত্রিক সম্পত্তির নিজ অংশের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন শহিদুল ইসলাম। বাড়ি থেকে মূল সড়কে বের হবার জন্য নির্মাণাধীন সড়কে মাটিও ফেলা হয়। কিন্তু তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তারই চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম। শুধু তাই না, সড়ক নির্মাণ ঠেকাতে সিরাজগঞ্জের আদালতে চাঁদাবাজির একটি সাজানো মামলাও করেছেন তিনি। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের কুনকুনিয়া গ্রামের।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে ৪/৫ ধারায় চাঁদাবাজির মামলাটি করেন। এতে আসামি করেন, কুনকুনিয়া গ্ৰামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে সেলিম (৩৫), মৃত আ. বারিক মন্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২), শামসুল হকের ছেলে শাহিন (২৮) ও মৃত দেলবারের ছেলে শহিদুল ইসলামকে (৪৯)।
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কুনকুনিয়া মৌজার ১০৮৭ নম্বর দাগের মোট ৩২ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন জোনাব আলী, মনছের আলী ও দেলবার আলী। জোনাবের স্ত্রী তাদের প্রাপ্য অংশ মনছেরের ছেলে রফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। মৃত দেলবারের ছেলে শহিদুল ইসলাম তার ভাই ভাতিজাদের চলাচল করতে পৈত্রিক অংশের মধ্যদিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা ছেড়ে দেন। এতে বাঁধা দেন মনছেরের ছেলে রফিকুল ইসলাম। দাবী তাকে মূল সড়ক ঘেষে তার প্রাপ্য অংশের জমি দিতে হবে। কিন্তু তিনি সেখানে জমি নিলে অন্য কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। সড়ক নির্মাণে বাঁধা দিলে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মাতবররা।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে চাঁদাবাজি বা হামলার কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে সড়ক নির্মান নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিজস্ব খরচেই শহিদুলরা সড়ক নির্মাণ করছে।
এ ব্যাপারে দেলবারের ছেলে কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার ভাই-ভাতিজাদের চলাচলের জন্য পৈত্রিক সম্পত্তি লম্বালম্বি ভাগ করে আমার অংশে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা দিয়েছি। কিন্তু আমারই চাচাতো ভাই রফিকুল লম্বা লম্বি ভাগ না করে শুধু তার সুবিধার জন্য মূল সড়কের পাশে জায়গা নেবে। মূল সড়কের পাশে ও দখল নিলে আমার অন্য চাচাতো ভাইয়ের লোকজন বের হতে পারবে না।’
অন্যদিকে সড়ক নির্মাণে বাঁধা প্রদানকারী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয় যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
কুনকুনিয়া গ্রামের মাতবর সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন লাকু বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে বসে এটা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। শহিদুলের লোকজন যাতে বাইরে বের হতে না পারে সে জন্যই রফিকুল জেদ ধরেছে। সড়কটি না হলে ওই পরিবার সহ ওখানে প্রায় বিশটি পরিবার আছে তারা কেউই বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে সড়কটির খুবই দরকার তাদের বাইরে বের হওয়ার জন্য।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কোর্টে মামলা করে থাকলে মামলা থানায় আসুক। তারপর তদন্ত করে মূল ঘটনার প্রতিবেদন দেয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়ক নির্মাণ ঠেকাতে চাঁদাবাজির মামলা

আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ জুলাই ২০২৩
// কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি //
ভাই ভাতিজার চলাচলের জন্য পৈত্রিক সম্পত্তির নিজ অংশের মধ্য দিয়ে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন শহিদুল ইসলাম। বাড়ি থেকে মূল সড়কে বের হবার জন্য নির্মাণাধীন সড়কে মাটিও ফেলা হয়। কিন্তু তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তারই চাচাতো ভাই রফিকুল ইসলাম। শুধু তাই না, সড়ক নির্মাণ ঠেকাতে সিরাজগঞ্জের আদালতে চাঁদাবাজির একটি সাজানো মামলাও করেছেন তিনি। ঘটনাটি সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের কুনকুনিয়া গ্রামের।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুলাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে ৪/৫ ধারায় চাঁদাবাজির মামলাটি করেন। এতে আসামি করেন, কুনকুনিয়া গ্ৰামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে সেলিম (৩৫), মৃত আ. বারিক মন্ডলের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩২), শামসুল হকের ছেলে শাহিন (২৮) ও মৃত দেলবারের ছেলে শহিদুল ইসলামকে (৪৯)।
স্থানীয় সূত্রে ও সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কুনকুনিয়া মৌজার ১০৮৭ নম্বর দাগের মোট ৩২ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন জোনাব আলী, মনছের আলী ও দেলবার আলী। জোনাবের স্ত্রী তাদের প্রাপ্য অংশ মনছেরের ছেলে রফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেন। মৃত দেলবারের ছেলে শহিদুল ইসলাম তার ভাই ভাতিজাদের চলাচল করতে পৈত্রিক অংশের মধ্যদিয়ে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা ছেড়ে দেন। এতে বাঁধা দেন মনছেরের ছেলে রফিকুল ইসলাম। দাবী তাকে মূল সড়ক ঘেষে তার প্রাপ্য অংশের জমি দিতে হবে। কিন্তু তিনি সেখানে জমি নিলে অন্য কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না। সড়ক নির্মাণে বাঁধা দিলে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মাতবররা।
স্থানীয়রা বলছেন, এখানে চাঁদাবাজি বা হামলার কোন ঘটনাই ঘটেনি। তবে সড়ক নির্মান নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিজস্ব খরচেই শহিদুলরা সড়ক নির্মাণ করছে।
এ ব্যাপারে দেলবারের ছেলে কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার ভাই-ভাতিজাদের চলাচলের জন্য পৈত্রিক সম্পত্তি লম্বালম্বি ভাগ করে আমার অংশে সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা দিয়েছি। কিন্তু আমারই চাচাতো ভাই রফিকুল লম্বা লম্বি ভাগ না করে শুধু তার সুবিধার জন্য মূল সড়কের পাশে জায়গা নেবে। মূল সড়কের পাশে ও দখল নিলে আমার অন্য চাচাতো ভাইয়ের লোকজন বের হতে পারবে না।’
অন্যদিকে সড়ক নির্মাণে বাঁধা প্রদানকারী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয় যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।
কুনকুনিয়া গ্রামের মাতবর সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন লাকু বলেন, ‘আমরা স্থানীয়ভাবে বসে এটা সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। শহিদুলের লোকজন যাতে বাইরে বের হতে না পারে সে জন্যই রফিকুল জেদ ধরেছে। সড়কটি না হলে ওই পরিবার সহ ওখানে প্রায় বিশটি পরিবার আছে তারা কেউই বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। তবে সড়কটির খুবই দরকার তাদের বাইরে বের হওয়ার জন্য।’
কাজীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কোর্টে মামলা করে থাকলে মামলা থানায় আসুক। তারপর তদন্ত করে মূল ঘটনার প্রতিবেদন দেয়া হবে।’