ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

সঠিক সময়ে পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৬৬৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী বছরের মাধ্যমিকের পাঠ্যবই ছাপানোর গতি কম। এখনো অনেক বই ছাপানোর কাজ শুরুই হয়নি। মুদ্রণ মালিক সমিতি বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না। অবশ্য সঠিক সময়ে শিক্ষর্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দেয়ার ১৮ কোটি বই এখনও ছাপানো বাকি। অথচ নতুন বছরের প্রথমদিন তাদের হাতে বই তুলে দেয়ার কথা। তাছাড়া প্রাথমিক শ্রেণীর বই নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশকরা বলেছেন, এবারের কাগজ এতোটাই নিম্নমানের যে কয়েক মাসের বেশি পড়তে পারবে না শিশুরা। প্রকাশকদের সিন্ডিকেট ও এনসিটিবির কিছু লোকজনকে এর জন্য দায়ী করেন তারা।

আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ৩১ কোটি নতুন বই দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আগামী জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে এ বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষের সিদ্ধান্ত ছিল এনসিটিবির। অথচ এখনো শুরুই হয়নি ৯ম শ্রেণির বই ছাপার কাজ।

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আর দেড় মাস। এদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠদান। এসব বই এখনো মুদ্রণে যায়নি। ফলে মাধ্যমিক স্তরের ১২ কোটির বেশি বই ছাপার কাজ শুরুই হয়নি। প্রাথমিকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর প্রায় ৩ কোটি বই ছাপার কাজ বাকি। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীর সামাজিক বিজ্ঞান ও ইতিহাস বইতে সংশোধনের কাজ চলছে। এখানেও প্রায় ৩কোটি বই ছাপার অপেক্ষায়। সব মিলে ১৮ কোটি বই এখনও ছাপা হয়নি।

মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘আমরা মনে করি নভেম্বর তো দুরের কথা ডিসেম্বরেও বই দেওয়া সম্ভব হবে না। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে। ৯ম শ্রেণির এখনো ওয়ার্কওর্ডার দেওয়া হয়নি পূর্নাঙ্গভাবে। ক্লাশ এইটের অবস্থা.. গতি খুবই খারাপ। বিলম্বে পান্ডুলিপি দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু বই প্রত্যাহার করা হয়েছে, আবার মুদ্রণে যেতে হচ্ছে।’

এদিকে, গত বছর কাগজের সংকট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপাতে কাগজের মানে ছাড় দিয়েছিল সরকার। কাগজের সংকট না থাকলেও প্রাথমিকের বইয়ে মানহীন কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই পর্যায়েই বই ছাপাতে সিংহভাগ কার্যাদেশ পেয়েছে অগ্রনী প্রিন্টিং প্রেস, কচুয়া প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস্’সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক বছর ধরেই এদের বিরুদ্ধে কম দরের নামে নিম্নমানের বই ছাপানোসহ বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ করে আসছে প্রকাশকরা। এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকেও অভিযোগ জানিয়েছে তারা।

মাধ্যমিকে নতুন শিক্ষাক্রমে বই ছাপার ক্ষেত্রে ভুল এড়াতেই দেরি হচ্ছে বলে দাবি এনসিটিবির। কাজে ধীরগতি সত্ত্বেও ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছানো সম্ভব বলেও দাবি বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘তাদের (মুদ্রণ সমিতি) সঙ্গে আমাদের নিয়মিত কথোপকথন হচ্ছে। নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা বই পৌঁছে দেবে। আমরা তাদের বিগত দিনের মুদ্রণ সক্ষমতা হিসেব করে দেখেছি যে তারা বই পৌঁছে দিতে পারবে।’

তবে মানহীন কাগজে ছাপা বই গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড- এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ। আসছে জানুয়ারিতে সব শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

সঠিক সময়ে পাঠ্যবই পাওয়া নিয়ে শঙ্কা!

আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৩

আগামী বছরের মাধ্যমিকের পাঠ্যবই ছাপানোর গতি কম। এখনো অনেক বই ছাপানোর কাজ শুরুই হয়নি। মুদ্রণ মালিক সমিতি বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না। অবশ্য সঠিক সময়ে শিক্ষর্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে দেয়ার ১৮ কোটি বই এখনও ছাপানো বাকি। অথচ নতুন বছরের প্রথমদিন তাদের হাতে বই তুলে দেয়ার কথা। তাছাড়া প্রাথমিক শ্রেণীর বই নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশকরা বলেছেন, এবারের কাগজ এতোটাই নিম্নমানের যে কয়েক মাসের বেশি পড়তে পারবে না শিশুরা। প্রকাশকদের সিন্ডিকেট ও এনসিটিবির কিছু লোকজনকে এর জন্য দায়ী করেন তারা।

আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ৩১ কোটি নতুন বই দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। আগামী জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে এ বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই বই ছাপার কাজ শেষের সিদ্ধান্ত ছিল এনসিটিবির। অথচ এখনো শুরুই হয়নি ৯ম শ্রেণির বই ছাপার কাজ।

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আর দেড় মাস। এদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষে অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠদান। এসব বই এখনো মুদ্রণে যায়নি। ফলে মাধ্যমিক স্তরের ১২ কোটির বেশি বই ছাপার কাজ শুরুই হয়নি। প্রাথমিকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেনীর প্রায় ৩ কোটি বই ছাপার কাজ বাকি। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেনীর সামাজিক বিজ্ঞান ও ইতিহাস বইতে সংশোধনের কাজ চলছে। এখানেও প্রায় ৩কোটি বই ছাপার অপেক্ষায়। সব মিলে ১৮ কোটি বই এখনও ছাপা হয়নি।

মুদ্রণ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, ‘আমরা মনে করি নভেম্বর তো দুরের কথা ডিসেম্বরেও বই দেওয়া সম্ভব হবে না। বিশেষ করে মাধ্যমিক স্তরে। ৯ম শ্রেণির এখনো ওয়ার্কওর্ডার দেওয়া হয়নি পূর্নাঙ্গভাবে। ক্লাশ এইটের অবস্থা.. গতি খুবই খারাপ। বিলম্বে পান্ডুলিপি দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু বই প্রত্যাহার করা হয়েছে, আবার মুদ্রণে যেতে হচ্ছে।’

এদিকে, গত বছর কাগজের সংকট হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপাতে কাগজের মানে ছাড় দিয়েছিল সরকার। কাগজের সংকট না থাকলেও প্রাথমিকের বইয়ে মানহীন কাগজ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দুই পর্যায়েই বই ছাপাতে সিংহভাগ কার্যাদেশ পেয়েছে অগ্রনী প্রিন্টিং প্রেস, কচুয়া প্রেস এন্ড পাবলিকেশনস্’সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক বছর ধরেই এদের বিরুদ্ধে কম দরের নামে নিম্নমানের বই ছাপানোসহ বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ করে আসছে প্রকাশকরা। এবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকেও অভিযোগ জানিয়েছে তারা।

মাধ্যমিকে নতুন শিক্ষাক্রমে বই ছাপার ক্ষেত্রে ভুল এড়াতেই দেরি হচ্ছে বলে দাবি এনসিটিবির। কাজে ধীরগতি সত্ত্বেও ডিসেম্বরের মধ্যে বই পৌঁছানো সম্ভব বলেও দাবি বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘তাদের (মুদ্রণ সমিতি) সঙ্গে আমাদের নিয়মিত কথোপকথন হচ্ছে। নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে ডিসেম্বরের মধ্যেই তারা বই পৌঁছে দেবে। আমরা তাদের বিগত দিনের মুদ্রণ সক্ষমতা হিসেব করে দেখেছি যে তারা বই পৌঁছে দিতে পারবে।’

তবে মানহীন কাগজে ছাপা বই গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ড- এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ। আসছে জানুয়ারিতে সব শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাবে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি।