শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে কুখ্যাত ভূমি প্রতারক ফারজানাসহ আটক-৩ রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন কলমাকান্দায় সচেতনতা তৈরিতে বৈঠক শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু শ্রীমঙ্গলে টপসয়েল কাটার দায়ে ১ জনের ৫০ হাজার টাকা দন্ড রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে : সংসদে হানিফ সোনার চামচে রাজ-পরীমণির ছেলের মুখে ভাত! বাংলাদেশ সফরে ইংল্যান্ডের দল ঘোষণা চীন বাংলাদেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার : বাণিজ্যমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার কাজ করছে : স্পিকার হিরো আলমের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই : ইসি রাশেদা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০৩১৬ : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী রাজউকে অনলাইনে নকশার আবেদন ৩৪ হাজার : সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ নোবিপ্রবিতে আট দাবিতে তৃতীয় দিনও আন্দোলন অব্যহত

সংসদকে আ.লীগের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছে : ফখরুল

সংসদকে আ.লীগের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সংসদকে আওয়ামী লীগের একদলীয় ক্লাবে পরিণত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ‘রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সংসদকে আওয়ামী লীগের একদলীয় ক্লাবে পরিণত করা হয়েছে। পার্লামেন্ট? পার্লামেন্ট কী? এখন যে পার্লামেন্ট তারা তৈরি করেছে, একটা কোনো পার্লামেন্ট? এটা একদলীয় একটা ক্লাব তৈরি করেছে। ইটস এ ক্লাব অব আওয়ামী লীগ। গণতন্ত্রের গেটওয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা তারা ধ্বংস করে ফেলেছে। মানুষ এখন ভোটই দিতে যেতে চায় না। পুরো জুডিসিয়াল সিস্টেমকে তারা দলীয়করণ করে ফেলেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আপনারা দেখেন গণতান্ত্রিক যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ওরা (সরকার) ধ্বংস করেছে। সব রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংস করে বাকশাল কায়েম করা হয়েছে। মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে এ সরকার গোয়েন্দা লাগিয়ে রেখেছে।

পাঠ্যপুস্তকের অসংগতিগুলো বাতিল করার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পাঠ্যপুস্তকে যে সব বিষয় এসেছে, এগুলো আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের জীবন, আমাদের ধর্মবোধের বিপরীতমুখী। সুতরাং, এটা আমরা কোনোভাবে মেনে নিতে পারি না।

মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন আপনারা কেউ ইস্যু তৈরি করবেন না, আমরা সংশোধনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, অবিলম্বে পাঠ্যপুস্তকের অসংগতি বাতিল করতে হবে। ইস্যু তো আমরা তৈরি করছি না, বরং আপনারা (সরকার) ইস্যু তৈরি করছেন। এই বই ছাপিয়েছেন এই দেশের মানুষের চিন্তাভাবনা, তার চেতনা, সংস্কৃতি তার ঐতিহ্য সবকিছুকে অপমান করে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। অবিলম্বে এসব বই তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যায়। অথচ তাদের ’৭২-’৭৫ সালে গণতন্ত্র হরণ করে কেন বাকশাল করতে হয়েছে জিজ্ঞাসা করলেই গায়ে আগুন লেগে যায়। আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে চাই- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই, ভোটাধিকার চাই, গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই।

তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন কেউ ভোট দিতে যেতে চায় না। আজ যে সংসদ আছে সেটা হলো একদলীয় ক্লাব অব আওয়ামী লীগ। তাই আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমাদের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য রাজপথে রক্ত দিতে হচ্ছে, প্রাণ দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা, দেশের মানুষকে বাঁচাতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা একটি অসম যুদ্ধে সংগ্রাম করছি। যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী। যাদের হাতে রয়েছে রাষ্ট্রশক্তিসহ বন্দুক, পিস্তল, গ্রেনেড, যা তারা ছুড়ে মারে আর আমাদের নামে মামলা দেয়।

জনগণের উত্তাল তরঙ্গের ঢেউয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ভেসে যাবে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, দেশে চলছে এক ব্যক্তির শাসন, কীসের ভোট? তোমাদের ভোটও আমরা দেবো। কথায় কথায় বলে গণতন্ত্র হবে আমাদের মতো করে। অথচ তাদের গণতন্ত্র তো বহুদলীয় গণতন্ত্র থেকে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করা। স্পষ্ট কথা- বাংলাদেশের মানুষ না খেয়েও হাসে। তারা গণতান্ত্রিক দেশে কথা বলতে চায়, মৌলিক অধিকার আদায়ে তাদের কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। সেই লক্ষ্যে বিএনপির ঘোষিত ১০ দফার প্রথম দাবি হচ্ছে এই সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে তাদের অধীনে নির্বাচন হবে। জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করবো।

বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল লতিফ মাসুম, সাংবাদিক নেতা কামাল উদ্দিন সবুজ, শহীদুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, প্রফেসর সহিদুল হাসান, ড. বোরহান উদ্দিন, প্রফেসর কামরুজ্জামান, কৃষিবিদ গোলাম হাফিজ কেনেডি, ফখরুল ইসলাম, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *