ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্পোর্টস ডেস্ক : গ্লেন ফিলিপসের অসাধারণ সেঞ্চুরির পর জ্বলে উঠলেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। তাতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা করলেন আসা-যাওয়া। বল হাতে ট্রেন্ট বোল্টের বেঁধে দেওয়া সুরটা মিলিয়ে মিচেল স্যান্টনার-ইশ সোধিরা গুঁড়িয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপ। জয়ের হাসিটা অবধারিতভাবে নিউজিল্যান্ডের।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬৫ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফিলিপসের ১০৪ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৭ রান করে কিউইরা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট লঙ্কানরা।

অর্থাৎ, ফিলিপসের রানটাই করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তারা শুরুতেই পড়ে দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদির তোপের মুখে। শুরুটা করেছিলেন সাউদি, প্রথম ওভারে পাথুম নিসানকাকে (০) ফিরিয়ে। এরপর বোল্টের জাদু। বাঁহাতি পেসারের বলে ফিরে যান কুশল মেন্ডিস (৪) ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (০)। খানিক পর চারিথ আসালঙ্কাকেও (৪) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বোল্ট। তাতে মাত্র ৮ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এক পর্যায়ে ২৫ রানে হারায় ৫ উইকেট।

সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ভানুকা রাজাপাকশে ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন শানাকা। আর ভানুকার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।

বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন বোল্ট। এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর ২টি করে উইকেট স্যান্টনার ও সোধির।

এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব দেখেছে ব্যাট হাতে ফিলিপসের বীরত্ব। শুরুতেই ওপেনিং জুটির বিদায়। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আউট হয়ে আরও চাপ বাড়িয়ে এলেন। দিশেহারা নিউজিল্যান্ড ভক্তদের মাথায় হাত। ওই সময় ফিলিপস খেলেন চোখ জুড়ানো ইনিংস। তার ব্যাটের ছোঁয়ায় জন্ম হতে থাকে ‍সুন্দর সব মুহূর্ত। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এই ব্যাটার হাসলেন সেঞ্চুরির আনন্দে, আর নিউজিল্যান্ড ক্যাম্পে ফিরলো স্বস্তির বাতাস।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। সেখান থেকে কিউইদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দিয়েছেন ফিলিপস। গোটা ইনিংসে তার অবদান কতটা, সেটা হয়তো স্কোর দেখলেই বোঝা যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৬৭ রান, যেখানে ফিলিপসের একারই ১০৪!

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ বলেই ফিন অ্যালেনকে (১) হারায় নিউজিল্যান্ড। খানিক পর ডেভন কনওয়েও (১) হন তার সঙ্গী। বিপদের ওই সময় অধিনায়ক উইলিয়ামসন সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়বেন কী, উল্টো মাত্র ৮ রান করে ফেরেন সাজঘরে!

তখন লঙ্কান বোলারদের সামনে ১৫ রানে নেই কিউইদের ৩ উইকেট। চারে নামা ফিলিপস শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তার ইনিংসের সঙ্গে অবদান আছে ২৪ বলে ২২ রান করা ড্যারিল মিচেলের ইনিংসটির।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলেন ফিলিপস। চাপের মধ্যে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। অবশ্য ১২ রানেই বিদায় নিতে পারতেন ডানহাতি ব্যাটার, যদি ভানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে পাথুম নিসানকা সহজ ক্যাচটি তালুতে নিতে পারতেন। ফিলিপস আরেকবার বেঁচে গিয়েছিলেন দাসুন শানাকা ক্যাচ নিতে না পারায়। শেষ পর্যন্ত ফিলিপস ৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় খেলেন ১০৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার তো তার হাতেই মানায়।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার কাসুন রাজিথা। এই পেসার ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট শিকার মাহিশ থিকশানা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও লাহিরু কুমারার।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

আপডেট সময় : ০৬:২৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২

স্পোর্টস ডেস্ক : গ্লেন ফিলিপসের অসাধারণ সেঞ্চুরির পর জ্বলে উঠলেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। তাতে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা করলেন আসা-যাওয়া। বল হাতে ট্রেন্ট বোল্টের বেঁধে দেওয়া সুরটা মিলিয়ে মিচেল স্যান্টনার-ইশ সোধিরা গুঁড়িয়ে দিলেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন-আপ। জয়ের হাসিটা অবধারিতভাবে নিউজিল্যান্ডের।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬৫ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফিলিপসের ১০৪ রানে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৭ রান করে কিউইরা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট লঙ্কানরা।

অর্থাৎ, ফিলিপসের রানটাই করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তারা শুরুতেই পড়ে দুই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদির তোপের মুখে। শুরুটা করেছিলেন সাউদি, প্রথম ওভারে পাথুম নিসানকাকে (০) ফিরিয়ে। এরপর বোল্টের জাদু। বাঁহাতি পেসারের বলে ফিরে যান কুশল মেন্ডিস (৪) ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (০)। খানিক পর চারিথ আসালঙ্কাকেও (৪) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান বোল্ট। তাতে মাত্র ৮ রান তুলতে ৪ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এক পর্যায়ে ২৫ রানে হারায় ৫ উইকেট।

সেখান থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন ভানুকা রাজাপাকশে ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেছেন শানাকা। আর ভানুকার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ রান।

বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন বোল্ট। এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর ২টি করে উইকেট স্যান্টনার ও সোধির।

এর আগে ক্রিকেটবিশ্ব দেখেছে ব্যাট হাতে ফিলিপসের বীরত্ব। শুরুতেই ওপেনিং জুটির বিদায়। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আউট হয়ে আরও চাপ বাড়িয়ে এলেন। দিশেহারা নিউজিল্যান্ড ভক্তদের মাথায় হাত। ওই সময় ফিলিপস খেলেন চোখ জুড়ানো ইনিংস। তার ব্যাটের ছোঁয়ায় জন্ম হতে থাকে ‍সুন্দর সব মুহূর্ত। কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এই ব্যাটার হাসলেন সেঞ্চুরির আনন্দে, আর নিউজিল্যান্ড ক্যাম্পে ফিরলো স্বস্তির বাতাস।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে ভেঙে পড়ে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। সেখান থেকে কিউইদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দিয়েছেন ফিলিপস। গোটা ইনিংসে তার অবদান কতটা, সেটা হয়তো স্কোর দেখলেই বোঝা যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড করেছে ১৬৭ রান, যেখানে ফিলিপসের একারই ১০৪!

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ বলেই ফিন অ্যালেনকে (১) হারায় নিউজিল্যান্ড। খানিক পর ডেভন কনওয়েও (১) হন তার সঙ্গী। বিপদের ওই সময় অধিনায়ক উইলিয়ামসন সামনে থেকে প্রতিরোধ গড়বেন কী, উল্টো মাত্র ৮ রান করে ফেরেন সাজঘরে!

তখন লঙ্কান বোলারদের সামনে ১৫ রানে নেই কিউইদের ৩ উইকেট। চারে নামা ফিলিপস শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সময় গড়ানোর সঙ্গে স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তার ইনিংসের সঙ্গে অবদান আছে ২৪ বলে ২২ রান করা ড্যারিল মিচেলের ইনিংসটির।

তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলেন ফিলিপস। চাপের মধ্যে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি পূরণ করেন তিনি। অবশ্য ১২ রানেই বিদায় নিতে পারতেন ডানহাতি ব্যাটার, যদি ভানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে পাথুম নিসানকা সহজ ক্যাচটি তালুতে নিতে পারতেন। ফিলিপস আরেকবার বেঁচে গিয়েছিলেন দাসুন শানাকা ক্যাচ নিতে না পারায়। শেষ পর্যন্ত ফিলিপস ৬৪ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় খেলেন ১০৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ম্যাচসেরার পুরস্কার তো তার হাতেই মানায়।

শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে সফল বোলার কাসুন রাজিথা। এই পেসার ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট শিকার মাহিশ থিকশানা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও লাহিরু কুমারার।