ঢাকা ০২:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শ্রীপুরে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমিতে জোরপূর্বক দোকান ঘর নির্মাণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৪৭৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// আশরাফ হোসেন পল্টু, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি //

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কুপুড়িয়া গ্রামের কৌশিক মন্ডল নামে এক অসহায় হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের জমি প্রতিবেশী টিপু সুলতান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক দখল নিয়ে সেখানে দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অসহায় পরিবারটি সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। টিপু সুলতান ওই গ্রামের রাসেদ মোল্যা ওরফে বানাই মোল্যার পুত্র ‘

আরও পড়ুন : নওগাঁয় বেড়েছে মোটরসাইকেল চুরি

ভূক্তভোগি পরিবার কৌশিক মন্ডল এর বায়োবৃদ্ধ পিতা কৃষ্ণপদ মন্ডল জানান, উপজেলার ৫৪ নং কুপুড়িয়া মৌজার ৯০৮ নং এস,এ খতিয়ানভূক্ত ১৭০৩ সাবেক দাগ ও আর,এস-২ খতিয়ানভূক্ত ১১৪৭ হাল দাগে ৫৫ শতাংশ জমির মধ্যে সর্বো উত্তরের ১২ শতাংশ জমি বাদে মাত্র ৭ শতাংশ জমির অর্ধেকাংশে ৩ শতাংশ জমিতে তার সন্তান কৌশিক ওয়ারেশসুত্রে স্বত্ববান হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগদখল করে আসছিল। গত ২২ জুলাই রাত অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ একই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি টিপু সুলতান নিরীহ অসহায় হিন্দু পরিবারটিকে জিম্মি করে উক্ত জায়গাটি জবর দখল নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতায় অন্যস্থান থেকে একটি চাকা দোকান ঘর নিয়ে এসে ওই জমিতে স্থাপন করে গা ঢাকা দেয়।

ঘটনার পরপরই ভূক্তভোগি পরিবারটি শ্রীপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ওইরাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সত্যতা পান এবং পরদিন শ্রীপুর থানা পুলিশের নির্দেশনায় নাকোল পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষকে ডাকা হয় । নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ মোতাবেক ১০ দিনের মধ্যে টিপু সুলতান ওই জমি দখলমুক্তসহ দোকান ঘর অপসারণ করে নিবে বলে সম্মতি প্রকাশ করে । ১০ দিন অতিবাহিত হয়ে ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও অবৈধ দখলদার টিপু সুলতান জমিটি দখলমুক্ত না করে ওখানেই দোকান ঘর খুলে বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজন দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিন দিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে এবং ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে দখলদার টিপু সুলতান বলেন, আমিও একজন গরীব মানুষ । আমার ব্যবসা করার মতো তেমন জমি-জমা নেই । এই জায়গাটি আমি ফাঁকা পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি ভেবে রাতের আঁধারে এখানেই আমি দোকান ঘর স্থাপন করেছি এবং এই জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বন্দোবস্ত নিতেও আবেদন করেছি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড জমিটি বন্দোবস্ত না দিয়ে আমাকে উচ্ছেদ করে দেয় তাহলে আমি এই জমি ছেড়ে দিব।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার রায় জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ঘটনার পরপরই ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল । পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রাখতে বলা হয়েছে এবং থানার অন্তর্গত নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল । এরপরও ওখানে শান্তি-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে শ্রীপুর থানার সেকেন্ড অফিসারকে পুনরায় দায়িত্ব দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই এর একটি সুষ্টু সমাধান হয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শ্রীপুরে অসহায় সংখ্যালঘু পরিবারের জমিতে জোরপূর্বক দোকান ঘর নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৭:৩১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩

// আশরাফ হোসেন পল্টু, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি //

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কুপুড়িয়া গ্রামের কৌশিক মন্ডল নামে এক অসহায় হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারের জমি প্রতিবেশী টিপু সুলতান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক দখল নিয়ে সেখানে দোকান ঘর নির্মান করে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অসহায় পরিবারটি সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। টিপু সুলতান ওই গ্রামের রাসেদ মোল্যা ওরফে বানাই মোল্যার পুত্র ‘

আরও পড়ুন : নওগাঁয় বেড়েছে মোটরসাইকেল চুরি

ভূক্তভোগি পরিবার কৌশিক মন্ডল এর বায়োবৃদ্ধ পিতা কৃষ্ণপদ মন্ডল জানান, উপজেলার ৫৪ নং কুপুড়িয়া মৌজার ৯০৮ নং এস,এ খতিয়ানভূক্ত ১৭০৩ সাবেক দাগ ও আর,এস-২ খতিয়ানভূক্ত ১১৪৭ হাল দাগে ৫৫ শতাংশ জমির মধ্যে সর্বো উত্তরের ১২ শতাংশ জমি বাদে মাত্র ৭ শতাংশ জমির অর্ধেকাংশে ৩ শতাংশ জমিতে তার সন্তান কৌশিক ওয়ারেশসুত্রে স্বত্ববান হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগদখল করে আসছিল। গত ২২ জুলাই রাত অনুমান সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ একই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি টিপু সুলতান নিরীহ অসহায় হিন্দু পরিবারটিকে জিম্মি করে উক্ত জায়গাটি জবর দখল নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহযোগিতায় অন্যস্থান থেকে একটি চাকা দোকান ঘর নিয়ে এসে ওই জমিতে স্থাপন করে গা ঢাকা দেয়।

ঘটনার পরপরই ভূক্তভোগি পরিবারটি শ্রীপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ওইরাতেই ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সত্যতা পান এবং পরদিন শ্রীপুর থানা পুলিশের নির্দেশনায় নাকোল পুলিশ ক্যাম্পে উভয় পক্ষকে ডাকা হয় । নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের সহযোগিতায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের পরামর্শ মোতাবেক ১০ দিনের মধ্যে টিপু সুলতান ওই জমি দখলমুক্তসহ দোকান ঘর অপসারণ করে নিবে বলে সম্মতি প্রকাশ করে । ১০ দিন অতিবাহিত হয়ে ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও অবৈধ দখলদার টিপু সুলতান জমিটি দখলমুক্ত না করে ওখানেই দোকান ঘর খুলে বহাল তবিয়তে ব্যবসা করে যাচ্ছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজন দু’টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দিন দিন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে এবং ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে দখলদার টিপু সুলতান বলেন, আমিও একজন গরীব মানুষ । আমার ব্যবসা করার মতো তেমন জমি-জমা নেই । এই জায়গাটি আমি ফাঁকা পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব জমি ভেবে রাতের আঁধারে এখানেই আমি দোকান ঘর স্থাপন করেছি এবং এই জমিটি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বন্দোবস্ত নিতেও আবেদন করেছি। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড জমিটি বন্দোবস্ত না দিয়ে আমাকে উচ্ছেদ করে দেয় তাহলে আমি এই জমি ছেড়ে দিব।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কাঞ্চন কুমার রায় জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ঘটনার পরপরই ওখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল । পরিস্থিতি আপাতত শান্ত রাখতে বলা হয়েছে এবং থানার অন্তর্গত নাকোল পুলিশ ক্যাম্পের আইসিকে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল । এরপরও ওখানে শান্তি-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে শ্রীপুর থানার সেকেন্ড অফিসারকে পুনরায় দায়িত্ব দিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই এর একটি সুষ্টু সমাধান হয়ে যাবে।