ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৫০২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উত্তরের কয়েক জেলার ওপর দিয়ে আজও বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। আজ মঙ্গলবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ভোর থেকে ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া মানুষেরা। এছাড়াও ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা নিউমোনিয়ায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা।। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামায় অনেক এলাকায় স্কুল বন্ধ আছে।

মাসের শেষ দিন বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রাও বাড়বে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে জানিয়েছে আওহাওয়া অফিস।

ঢাকাসহ দেশের দুই বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের দাপটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উত্তরের পঞ্চগড়ের জনজীবন। এক সপ্তাহ ধরে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে দুইদিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কেঁপেছে এ অঞ্চলের মানুষ।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল একই সময়ে রেকর্ড হয়েছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে এ জেলায় মৃদু, মাঝারি ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে এ অঞ্চলে। সকালে তাপমাত্রা রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

গতকালের তুলনায় আজ দিনাজপুরে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে দিনাজপুরের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। শৈত্যপ্রবাহের কবলে রংপুর বিভাগের বাকি ৬ জেলাও।

কুড়িগ্রামে কমেনি শীতের তীব্রতা। কুয়াশার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও, উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। ৯ দিন ধরে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গায় গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত দুদিনের তুলনায় কুয়াশার প্রকোপও ছিল বেশি। শীতজনিত রোগের প্রকোপে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ।

এদিকে, শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা নিউমোনিয়ায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা। আতঙ্কিত না হয়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২ আসনের বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৯১ জন। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। শয্যা না পেয়ে অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। সেখানেই চলছে চিকিৎসা সেবা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে অনেক সমস্যা হয়। ঠান্ডা বাতাসের কারণে শিশুরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক দিনে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, ঠান্ডার সমস্যা দেখা দিলে বাড়িতে যতটা সম্ভব যত্ন নিতে হবে, ডায়রিয়া হলে স্যালাইন দিতে হবে। তবে বমি হলে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে।

একই পরিস্থিতি গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। শুধু জানুয়ারি মাসেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন পাঁচ শতাধিক রোগী। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, হাসপাতালের আউটডোরে জ্বর-ঠান্ডা-কাশি নিয়ে আসা শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে অভিভাবকরা সচেতন বলে ইনডোরে তেমন রোগীর চাপ নেই।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে দিনে গড়ে সেবা নিচ্ছে আড়াই শ রোগী।

নিউজটি শেয়ার করুন

শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগ

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৪

উত্তরের কয়েক জেলার ওপর দিয়ে আজও বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। আজ মঙ্গলবার ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় ভোর থেকে ভোগান্তিতে খেটে খাওয়া মানুষেরা। এছাড়াও ঘন কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ ও সড়ক যোগাযোগ। শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা নিউমোনিয়ায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা।। তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামায় অনেক এলাকায় স্কুল বন্ধ আছে।

মাসের শেষ দিন বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টির পর বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রাও বাড়বে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে জানিয়েছে আওহাওয়া অফিস।

ঢাকাসহ দেশের দুই বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের দাপটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে উত্তরের পঞ্চগড়ের জনজীবন। এক সপ্তাহ ধরে বইছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। এর মধ্যে দুইদিন তীব্র শৈত্যপ্রবাহে কেঁপেছে এ অঞ্চলের মানুষ।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল একই সময়ে রেকর্ড হয়েছিল ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে এ জেলায় মৃদু, মাঝারি ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বইছে এ অঞ্চলে। সকালে তাপমাত্রা রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যাবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

গতকালের তুলনায় আজ দিনাজপুরে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে। সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র শীতে দিনাজপুরের সব স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন। শৈত্যপ্রবাহের কবলে রংপুর বিভাগের বাকি ৬ জেলাও।

কুড়িগ্রামে কমেনি শীতের তীব্রতা। কুয়াশার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও, উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। ৯ দিন ধরে এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গায় গতকালের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত দুদিনের তুলনায় কুয়াশার প্রকোপও ছিল বেশি। শীতজনিত রোগের প্রকোপে হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ।

এদিকে, শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট কিংবা নিউমোনিয়ায় অসুস্থ শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনেরা। আতঙ্কিত না হয়ে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২ আসনের বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৯১ জন। এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। শয্যা না পেয়ে অনেকের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। সেখানেই চলছে চিকিৎসা সেবা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা বলছেন, প্রচন্ড ঠান্ডায় হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে অনেক সমস্যা হয়। ঠান্ডা বাতাসের কারণে শিশুরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত কয়েক দিনে রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপপরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, ঠান্ডার সমস্যা দেখা দিলে বাড়িতে যতটা সম্ভব যত্ন নিতে হবে, ডায়রিয়া হলে স্যালাইন দিতে হবে। তবে বমি হলে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে হবে। তাহলেই হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে।

একই পরিস্থিতি গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। শুধু জানুয়ারি মাসেই শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন পাঁচ শতাধিক রোগী। এর মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

গোপালগঞ্জ শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, হাসপাতালের আউটডোরে জ্বর-ঠান্ডা-কাশি নিয়ে আসা শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। তবে অভিভাবকরা সচেতন বলে ইনডোরে তেমন রোগীর চাপ নেই।

এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে দিনে গড়ে সেবা নিচ্ছে আড়াই শ রোগী।