ঢাকা ১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শীতের আমেজে কয়রায় দিনব্যাপী পিঠা উৎসব

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৫০৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“শীত কুয়াশায় জমবে মেলা, পিঠা উৎসব সারাবেলা, শীত মানেই পিঠা। গ্রামীণ জনপদে শীত এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠার ধুম। কিন্তু ব্যস্ত শহরে এই পিঠার স্বাদ পেতে দ্বারস্থ হতে হয় পিঠার দোকানে। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজ আয়োজন করেছিল দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কয়রায় খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজে পিঠা উৎসব আয়োজনে মানুষ আগ্রহ নিয়ে আসছে। ফিরে আসছে পিঠা খাওয়ার ধুম। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন এই পিঠা উৎসবের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামাল হোসেন। অত্র কলেজের সভাপতি ডাঃ মোঃ খান আহম্মেদ হেলালীর সভাপতিত্বে পিঠা উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডি সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম, কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, কলেজের অধ্যক্ষ ড. চয়ন কুমার রায়, সাবেক চেয়ারম্যান আমির আলী গাইন, আমাদী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল, আ,লীগ নেতা আঃ রশিদ, কলেজের বাংলা প্রভাষক সুকুমার বাছাড়, কলেজের সকল শিক্ষক মন্ডলী, উৎসবের উদ্বোধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন বলেন, আমরা খাদ্য রশিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপুরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের নৈপূণ্যের স্মারক রুপে ও পিঠা বিবেচিত হয়।

গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান উঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়। সামাজিক অর্থনৈতিক কারনসহ নানা কারনে এখন আর গ্রাম গঞ্জে সেভাবে পিঠা উৎসব হয় না। সেই উৎসব খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজ নানা আনুষ্ঠিকতায় হচ্ছে এটা ভালো দিক। অন্তত এই উৎসবের কারনে আমরা আমাদের গ্রামের সেই পিঠাপুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি। তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্য পিঠা উৎসব যাতে হারিয়ে না যায় তাই আমরা এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ উৎসবকে সারা উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে ডি সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম বালেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। বাংলার নারীসমাজ অতীতে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসরছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যান্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকমই পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। এ আয়োজন যাতে প্রতিবছর ধরে রাখার জন্য কলেজে সভাপতি ও অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন।

উৎসবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ রকমের পিঠা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটি শাপটা পিঠা, খেজুরের ক্ষীর কুলি, গোলাপফুল পিঠা, গোলাপফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান পিঠা, সরভাজা, পুলি পিঠা, নারকেল সেদ্ধ পুলি পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা ইত্যাদি। উৎসবে সবচেয়ে আকর্ষণ করেছিল শীতের মধু বৃক্ষ খেজুর রসের পায়েস। পিঠা-পুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। আমাদের হাজারো সমস্যা সত্তে¡ও গ্রাম বাংলার এসব পিঠা-পার্বনের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনও মুছে যায়নি। পিঠা-পার্বনের এ আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে এই প্রত্যাশা সকলের।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

শীতের আমেজে কয়রায় দিনব্যাপী পিঠা উৎসব

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

“শীত কুয়াশায় জমবে মেলা, পিঠা উৎসব সারাবেলা, শীত মানেই পিঠা। গ্রামীণ জনপদে শীত এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয় পিঠার ধুম। কিন্তু ব্যস্ত শহরে এই পিঠার স্বাদ পেতে দ্বারস্থ হতে হয় পিঠার দোকানে। তাই বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজ আয়োজন করেছিল দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কয়রায় খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজে পিঠা উৎসব আয়োজনে মানুষ আগ্রহ নিয়ে আসছে। ফিরে আসছে পিঠা খাওয়ার ধুম। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন এই পিঠা উৎসবের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামাল হোসেন। অত্র কলেজের সভাপতি ডাঃ মোঃ খান আহম্মেদ হেলালীর সভাপতিত্বে পিঠা উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডি সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম, কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান, কলেজের অধ্যক্ষ ড. চয়ন কুমার রায়, সাবেক চেয়ারম্যান আমির আলী গাইন, আমাদী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল, আ,লীগ নেতা আঃ রশিদ, কলেজের বাংলা প্রভাষক সুকুমার বাছাড়, কলেজের সকল শিক্ষক মন্ডলী, উৎসবের উদ্বোধন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল হোসেন বলেন, আমরা খাদ্য রশিক বাঙালি প্রাচীনকাল থেকে প্রধান খাদ্যের পরিপুরক মুখরোচক অনেক খাবার তৈরি করে আসছে। তবে পিঠা সর্বাধিক গুরুত্বের দাবিদার। শুধু খাবার হিসেবেই নয় বরং লোকজ ঐতিহ্য এবং নারী সমাজের নৈপূণ্যের স্মারক রুপে ও পিঠা বিবেচিত হয়।

গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নতুন ধান উঠার পর থেকেই পিঠা তৈরির আয়োজন করা হয়। সামাজিক অর্থনৈতিক কারনসহ নানা কারনে এখন আর গ্রাম গঞ্জে সেভাবে পিঠা উৎসব হয় না। সেই উৎসব খান সাহেব কোমরউদ্দীন কলেজ নানা আনুষ্ঠিকতায় হচ্ছে এটা ভালো দিক। অন্তত এই উৎসবের কারনে আমরা আমাদের গ্রামের সেই পিঠাপুলির ঘ্রাণ নিতে পারছি, স্বাদ নিতে পারছি। তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্য পিঠা উৎসব যাতে হারিয়ে না যায় তাই আমরা এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ উৎসবকে সারা উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে হবে।

পিঠা উৎসব অনুষ্ঠানে ডি সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম বালেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে পিঠা। বাংলার নারীসমাজ অতীতে শিক্ষাদীক্ষায় অনগ্রসরছিল সত্য, কিন্তু স্বীকার করতে হবে এদেশের নারী সমাজ লোকজ শিল্পকর্মে অত্যান্ত নিপুণ এবং সুদক্ষ। এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বা আলাদা রকমই পিঠা তৈরি হয়ে থাকে। এ আয়োজন যাতে প্রতিবছর ধরে রাখার জন্য কলেজে সভাপতি ও অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন।

উৎসবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ রকমের পিঠা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটি শাপটা পিঠা, খেজুরের ক্ষীর কুলি, গোলাপফুল পিঠা, গোলাপফুল পিঠা, সুন্দরী পাকান পিঠা, সরভাজা, পুলি পিঠা, নারকেল সেদ্ধ পুলি পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা ইত্যাদি। উৎসবে সবচেয়ে আকর্ষণ করেছিল শীতের মধু বৃক্ষ খেজুর রসের পায়েস। পিঠা-পুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই প্রকাশ। আমাদের হাজারো সমস্যা সত্তে¡ও গ্রাম বাংলার এসব পিঠা-পার্বনের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনও মুছে যায়নি। পিঠা-পার্বনের এ আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে এই প্রত্যাশা সকলের।

 

বাখ//আর