ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তালিকা ক্রমশঃ দীর্ঘ হচ্ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩
  • / ৬৭৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
// মোঃ হায়দার আলী //
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কথায় আছে, মানুষ নাকি বাঁচার জন্য ভাসমান খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে। তাহলে কেন আত্মহত্যার মতো একটি কাণ্ড অবলীলায় ঘটিয়ে ফেলে সেই মানুষ? মানুষ কেন আত্মহত্যা করে, এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। জীবন শেষ করে দেওয়াকে অনেকে সাহসী, আবার অনেকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে আখ্যা দেন। আত্মহত্যা ভাবনা একবার হলেও ‍উঁকি দিয়ে যায় অধিকাংশ মানুষের জীবনে। আত্মহত্যা কখনো সমস্যার সমাধান নয়। আত্মহত্যা একটি ভয়ংকর অপরাধ ও মানসিক ব্যাধি। ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুকে না মেনে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেই।
 মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা ও মানসিক বেদনা ও অর্থনৈতিক দৈন্যতা বেড়ে গেলে চরম হতাশা কাজ করে। হতাশাই নিজের মধ্যে নেতিবাচক ধারণাগুলো তৈরি করে। এক পর্যায়ে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে। একাজ যারা করেন তাদেরকে আত্মঘাতক বা আত্মহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
 তাই এ বিষয়টি নিয়ে জানতে হবে, বুঝতে হবে, জানাতে হবে, সচেতন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর করুণাময়।’— সুরা নিসা, আয়াত : ২৯। যে ব্যক্তি যা দ্বারা আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেয়া হবে। — সহীহ বুখারী আত্মহত্যা জীবনে সবচেয়ে বড় কাপুরুষতার পরিচয়। নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট। সভ্যতাগুলো আত্মহত্যার মাধ্যমেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, হত্যার কারণে নয়।
আরনোল্ড টয়েনবি। আত্মহত্যার চেয়েও বড় কাপুরুষতা হলো আত্মহত্যাকারীকে আত্মহত্যা এর মুখে ঠেলে দেয়া।  অ্যাশলেই পার্ডি। আত্মহত্যা একটি সাময়িক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান।
 ফিল ডোনাহিউ। আত্ম সমালোচনার সবচেয়ে বাজে উপায় হলো আত্মহত্যা।  রবার্ট হেইনলেন
আত্মহত্যা খারাপ এর সম্মুখীন হওয়ার হারকে কমিয়ে দেয় না, বরং আপনার জীবন থেকে ভালো কথাটি মুছে দেয়। ভিক টুয়েনটিস। আত্মহত্যা কোনো উত্তর নয় বরং জীবন নামক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অজুহাত মাত্র।  আল গ্রিন
আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমাধান হতে পারে না বরং সমস্যার সমাধান এর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। হেইলেই উইলিয়ামস। সৃষ্টিকর্তা আত্মহত্যাকে নিষেধ করেছেন বলে এটি জঘন্য নয়, বরং এটি জঘন্য জন্যই সৃষ্টিকর্তা এটিকে নিষেধ করেছেন।
ইমানুয়েল ক্যান্ট। আশার আলো একবার ডুবে গেলেই যে আত্মহত্যা করতে হবে এমন কিছু নেই, মনে রাখবেন সূর্য কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ঠিকই আলো দেয়।
 জাকারিয়া মাসুদ। আত্মহত্যা কখনো ব্যাথার অবসান ঘটায় না বরং এটি তা অন্য কারোর উপর চাপিয়ে দেয়।
অস্কার ওয়াইল্ড কবিগুরুর অমর বাণী ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে’।
তবে নিরপেক্ষ স্থান থেকে ভেবে দেখার সময় এসেছে-কেন ঘটছে আত্মহত্যা। মোটা দাগে একে সামাজিক অবক্ষয় বলে চালিয়ে দেওয়া হলেও এই একটিই কি আত্মহত্যার কারণ?
যেহেতু মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর দায়িত্ব মহান আল্লাহতায়ালার হাতে তাই মানুষ কোনো অবস্থাতেই এটিকে নিজের হাতে তুলে নিতে পারেনা। আল্লাহতায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরকালে এর কঠিন শাস্তির খবরও দিয়েছেন। রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৫৭০০, মুসলিম, হাদিস নং-১১০)
আজকাল আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ-তরুণীরা এই প্রবণতায় জড়িত হন বেশি। সাথে সাথে উচ্চপদের কর্তা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, কর্মজীবী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীগণ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ লোক আত্মহত্যা করে থাকেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, দেশে প্রতি বছর দশ হাজার একশত সাতষট্টি জন মানুষ এই পথে পা বাড়ায়। উক্ত সংস্থাটির মতে সারা বিশ্বে অত্মহত্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তেরোতম। আর আত্মহত্যার চিন্তায় মনঃস্তাত্ত্বিক রোগে ভোগে বিশ্বে প্রায় দশ কোটি মানুষ।
২০২২ সালে সারাদেশে ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৪৪৬ জন। এর মধ্যে মেয়ে ২৮৫ জন এবং ছেলে ১৬১ জন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে আঁচল ফাউন্ডেশন। আঁচল ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের টিম লিডার ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, স্কুল ও সমমান পর্যায়ের ৩৪০ জন এবং কলেজ ও সমমান পর্যায়ের ১০৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহনন করেছে। তাদের মধ্যে মাদরাসার শিক্ষার্থী ৫৪ জন। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্কুল-কলেজ ও সমমান পর্যায়ের আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ঢাকা বিভাগের, ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ রাজশাহী বিভাগের, ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ খুলনা বিভাগের, ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ রংপুর বিভাগের, ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বরিশাল বিভাগের, ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগের এবং ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ সিলেট বিভাগের।
এছাড়া স্কুল-কলেজ ও সমমান পর্যায়ের আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ছেলে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ তুলে ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, অভিমানের কারণে সবচেয়ে বেশি ২৭ দশমিক ০৬ শতাংশ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই অভিমান ছিল পরিবারের ওপর। এ ছাড়া প্রেমঘটিত বিষয়সহ বিভিন্ন কারণেও আত্মহত্যা করেছে শিক্ষার্থীরা।
১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সারির জতীয় পত্রিকা  দৈনিক ইনকিলাবে বিশ্ব আত্নহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ ৮ মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থীর আত্নহত্যা  শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৮ মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে ১৯৪ জন স্কুলের শিক্ষার্থী। এছাড়াও, ৭৬ জন কলেজপড়ুয়া, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এবং ৪৪ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত (৯ সেপ্টেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি। শিক্ষাস্তর বিবেচনায় দেখা গেছে প্রাথমিক-মাধ্যমিকের ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এবং ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ শতাংশ নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আত্মহত্যা করেছেন তার ৪৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ নারী। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ৩২ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মেয়ে ৬৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। মাদ্রাসার ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন- বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।
এদিকে, আত্মহত্যাকারীদের অবস্থান বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকায় গত ৮ মাসে শতকরা ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী এবং ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন।
এদের মধ্যে প্রেমঘটিত কারণে সবচেয়ে বেশি ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চাওয়া পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। মানসিক সমস্যার কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, পড়াশোনার চাপে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ, সেশনজটের কারণে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চুরির মিথ্যা অপবাদে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর্থিক সমস্যায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ, বিষাদগ্রস্ত হয়ে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং স্বামী পছন্দ না হওয়ায় ১ দশমিক ১০ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশের আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে কোনো কিছু না পেয়ে অভিমান করেও আত্মহত্যা করেছেন। মোটরবাইক, মোবাইল চেয়ে না পাওয়ার কারণে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে কিভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক বড় ধরণের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
এছাড়াও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যাও বেড়েছে আগের চেয়ে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সবকিছু একসঙ্গে সামাল দিতে পারছেনা বলেই তুলনামূলক আত্মহত্যার হার বেড়েছে। যেখানে আমরা আশা করেছিলাম করোনার পর আত্মহত্যা প্রবণতা কমে যাবে।’
আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৩৬৪ জনের আত্মহত্যা অনেক বড় একটি সংখ্যা। তাই এটিকে সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকার, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিসহ প্রতিটা স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ জরুরি। সবাই যার যার জায়গা থেকে সচেতন হলে এ সমস্যা সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত ১৮/০২/২০২১ তারিখে একটি উদ্বেগজনক তথ্য উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেখা যায়, পুরো ২০২০ সালটি ছিল কোবিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের বছর। বিশ্বব্যাপী এতো মৃত্যুর মিছিল আর কোনো মহামারীতে দেখেনি কখনো। বি.বি.এস. বলেছে, ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ হাজার ২ জন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে উক্ত নয় মাসে আত্মহত্যায় মারা গেছেন ১১ হাজার মানুষ। অর্থ্যাৎ করোনার চাইতে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার দ্বিগুণ।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে পূর্বের বছর গুলোতেও এই প্রবণতার রূপ ছিল ভয়াবহ। ২০১৮ সালে ১১ হাজারের বেশি মানুষ, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ১১ হাজার ৯৫ জন, ২০১৬ সালে ১০ হাজার ৬০০ জন, ২০১৫ সালে ১০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছিল। উক্ত হিসাবকে দৈনিক ভাগ করলে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যা করছে।
বর্তমান যুগ হলো বিজ্ঞান ও তথ্য  প্রযুক্তির যুগ। তাই আত্মহত্যার প্রবণতাতেও যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন কারণ। বিশেষত ব্যক্তি বিশেষের মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতাও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিলতা ও প্রযুক্তির প্রতি মানুষের অত্যধিক আসক্তি বাড়লেও আত্মহত্যার প্রবণতার মধ্যে খুব পরিবর্তন হয়নি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাগুলো দুর্বল হয়ে গেলে মানুষ অসহায় বোধ করে এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে ফেলে। পৃথিবীজুড়ে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ আত্মহত্যা। যারা মনের দিক থেকে দুর্বল, ধৈর্য ও সহ্য ক্ষমতা যাদের কম অবসাদ ও হেনস্থার  শিকার হয়ে এবং হঠাৎ কোনো পরিবর্তনের সাথে সহনশীল হতে না পেরে বিপদগামী হয়। অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় মানসিক চাপ। এই চাপ সহ্য করতে না পারলে মানুষটি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে এই পথ বেছে নেন।
 মাদকাসক্ত, শিক্ষার অভাব, দাম্পত্য কলহ, যৌন নির্যাতন, প্রেমে ব্যর্থতা, খারাপ ফলাফল, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারনে চাকুরীচ্যুতি, আয় কমে যাওয়ায় সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমসিম খেয়ে হতাশাগ্রস্থ, কারো প্রতারণা বা ছলনার শিকার হয়েও মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং এটি আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ। যে মহান প্রতিপালক আসমান-জমিন, মানব-দানব, পানি-বায়ুসহ  সবকিছু সৃষ্টি করেছেন তিনিই আবার এই পৃথিবীকে বানিয়েছেন পরীক্ষাগার রূপে। পৃথিবীতে ভালো-মন্দ, আশা-নিরাশা, দুঃখ-কষ্ট, পাওয়া-নাপাওয়া ইত্যাদি চিরাচরিতভাবে থাকবেই।
আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কিছু ভয় ও ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করবো। আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। (সূরা বাকারা-১৫৫)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আত্মহত্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কোনো কারণগুলো আছে তা খুঁজে বের করে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবী। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এখন যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে আত্মহত্যা না করলেও তাদের অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পেশাজীবীদেরও এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং কী উদ্যোগ নেওয়া যায় সে বিষয়ে সমন্বিত কাজ করা প্রয়োজন। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
দুই ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এক. আগে থেকে পরিকল্পনা করে, আয়োজন করে, সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেন অনেকে। যেটাকে বলা হয় ডিসিসিভ সুইসাইড। দুই. হুট করে আবেগের রাশ টানতে না পেরে আত্মহত্যা করে ফেলেন অনেকে, যেটাকে বলা হয় ইমপালসিভ সুইসাইড। ডিসিসিভ সুইসাইড যাঁরা করেন, তাঁরা আগে থেকেই কিন্তু আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এ ধরনের মানুষ আত্মহননের আগে যেভাবে সেটা প্রকাশ করেন, তার মধ্যে আছে—তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। আত্মহত্যা বা মৃত্যুবিষয়ক কবিতা–গান লিখতে, শুনতে বা পড়তে থাকেন। নিজের ক্ষতি করেন। প্রায়ই এঁরা নিজের হাত-পা কাটেন, বেশি বেশি ঘুমের ওষুধ খান। মনমরা হয়ে থাকা, সব কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে দোষী ভাবা—এগুলো বিষণ্নতার লক্ষণ; যা থেকে আত্মহত্যা ঘটে।
মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রারিক্ত আসক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা করে। সারা রাত জেগে থাকা আর সারা দিন ঘুমানো। নিজেকে গুটিয়ে রাখা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া। পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের বিষয় থেকে নিজে দূরে থাকা।
 সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী ও চেষ্টাকারীর জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। পরিবারের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সকলের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে সন্তানদেরকে শারীরিক, মানসিক চাপ মোকাবিলা করার জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে।
স্কুল-কলেজ, মাদ্রসা  ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর আবেগ অনুভূতিগুলো নিজের মধ্যে জমিয়ে না রেখে অন্যের সাথে শেয়ার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি হয়তো অসহ্য যন্ত্রণা ও মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা কষ্টের মোকাবিলা  করেছেন কিন্তু অপরদিকে তার শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। কখনো মেনে নেওয়া যায়না এই আত্মহত্যা। বরং তিনি যদি সেই পথ না ধরে সহনশীলতার পথে চলতেন তাহলে হয়ত পরবর্তীতে সফলতার চাবি নিয়ে হাজির হতো তার জন্য অনাগত ভবিষ্যৎ। মানব জীবনের প্রতিদিন নতুন সূর্যোদয়ের মাধ্যমে নতুন নতুন আশার আলো তৈরি হয়। এ বিশ্বাস আমাদের সকলকেই পোষণ করতে হবে। আমাদের উচিত জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত জীবন গঠনে আত্মনিয়োগ করা। একটি আত্মহত্যা মানে একটি জীবনের অপচয়। আর জীবনতো একটাই  যা ফিরবেনা কখনো।
 দেশে দেশে আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মানসিক দুশ্চিন্তাই আত্মহত্যার একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে কাজ করে অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবন ধারণের অবনতির আশঙ্কা। তবে কারণ যাই হোক না কেন, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। কাছের মানুষ কোনো ধরনের সমস্যায় ভুগছে এটা বুঝতে পারলে তাকে অবশ্যই মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া উচিত।
সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেছেন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শঙ্কিত। এসব রোধে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি না পাওয়া, জীবনের প্রতি হতাশা, প্রেমে ব্যর্থতা, নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার হওয়ায় সামাজিক লজ্জা, বিয়ের পর যৌতুকের টাকার জোগান দিতে না পারা, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, চরম দারিদ্র্য-এরকম নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।
ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপের কারণেই কি আত্মহত্যা বাড়ছে? কেন ডিপ্রেশনে ভোগে মানুষ? ডিপ্রেশন হচ্ছে সেই রোগ যেটি মূলত চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। এটি অনেকটা সামাজিক আর পারিবারিকভাবে সৃষ্ট। ‘অমুকের ছেলের এই রেজাল্ট, তোর এরকম কেন?’ ‘অমুকের দুটো গাড়ি, আমাদের নেই কেন?’ ‘আমার কী নেই যে সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল?’ হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হয় এভাবে। সেখান থেকেও ঘটে আত্মহত্যা।
দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাবা-মায়েরাও সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তেমন সচেতন থাকেন না। তারা আসলে সন্তানদের একটা ‘প্রেশার কুকারে’র মধ্যে রাখেন। তাদের পছন্দের জীবন কাটাতে বাধ্য করেন। সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের দেশে আসলে কখনোই গুরুত্ব দেয়া হয় না। এটা একটা বড় সমস্যা।
আত্মহত্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য স্কুল-কলেজসহ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ও প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। সচেতন হওয়া দরকার সবার। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। আসুন, আত্মহত্যাকে না বলি। জীবনকে ভালোবাসতে শিখি।
যারা মারা গেছে তাদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু নতুন করে কেউ যাতে আত্মহত্যা না করে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পড়া লিখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা  খেলাধুলা করবে। বন্ধুদের সাথে দেখা হবে। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে।  আনন্দ মানে শুধু খেলাধুলা নয়। শিক্ষক ঠিক মতো পড়াতে পারলে তাও আনন্দময় হয়। তাই শিক্ষককে এখন হতে হবে অনেক বেশি দক্ষ। অভিভাবকদেরও তা জানতে হবে।” এই সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশুনা বা পরীক্ষার চাপের চেয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে  হবে। এটা  শিক্ষকদের যেমন দায়িত্ব তেমনি পরিবারের সদস্যদেরও দায়িত্ব।”
আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের বিকাশের সময় তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াসহ সব মানসিক রোগের দ্রুত শনাক্ত করা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে হবে আর পরিবারে প্রত্যেকের সঙ্গে গুণগত সময় কাটাতে হবে। আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমগুলোকে সব সময় অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। প্রথাগত প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিকল্পধারার ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করতে হবে। এখানেও কোনো আত্মহত্যার ঘটনাকে খুব মহৎ করে দেখানোর চেষ্টা করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর কর্তৃপক্ষেরও নিজস্ব নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন এখন সময়ের দাবি।
আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে অবশ্যই আত্মহত্যা ঠেকানো যায়। এ জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের ১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে একজন করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থাকা দরকার, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই যা নেই। তিনি বলেন,”তাই শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের আনন্দের মধ্যে শিক্ষা দিতে হবে। তাদের আচরণ হতে হবে শিক্ষার্থী বান্ধব। তাদের ওপর পড়া লেখা চাপিয়ে দেয়া যাবেনা। তাদের মনের যত্ন বেশি নিতে হবে।”
[লেখক : মোঃ হায়দার আলী, প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। ও সহঃ সাধারন সম্পাদক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখা ]
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলা খবর বিডি-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তালিকা ক্রমশঃ দীর্ঘ হচ্ছে

আপডেট সময় : ০৬:২৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩
// মোঃ হায়দার আলী //
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, কথায় আছে, মানুষ নাকি বাঁচার জন্য ভাসমান খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে। তাহলে কেন আত্মহত্যার মতো একটি কাণ্ড অবলীলায় ঘটিয়ে ফেলে সেই মানুষ? মানুষ কেন আত্মহত্যা করে, এর কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। জীবন শেষ করে দেওয়াকে অনেকে সাহসী, আবার অনেকে কাপুরুষোচিত কাজ বলে আখ্যা দেন। আত্মহত্যা ভাবনা একবার হলেও ‍উঁকি দিয়ে যায় অধিকাংশ মানুষের জীবনে। আত্মহত্যা কখনো সমস্যার সমাধান নয়। আত্মহত্যা একটি ভয়ংকর অপরাধ ও মানসিক ব্যাধি। ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ। পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়জনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যুকে না মেনে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেই।
 মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অস্থিরতা ও মানসিক বেদনা ও অর্থনৈতিক দৈন্যতা বেড়ে গেলে চরম হতাশা কাজ করে। হতাশাই নিজের মধ্যে নেতিবাচক ধারণাগুলো তৈরি করে। এক পর্যায়ে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে। একাজ যারা করেন তাদেরকে আত্মঘাতক বা আত্মহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
 তাই এ বিষয়টি নিয়ে জানতে হবে, বুঝতে হবে, জানাতে হবে, সচেতন হতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমরা আত্মহত্যা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর করুণাময়।’— সুরা নিসা, আয়াত : ২৯। যে ব্যক্তি যা দ্বারা আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেয়া হবে। — সহীহ বুখারী আত্মহত্যা জীবনে সবচেয়ে বড় কাপুরুষতার পরিচয়। নেপোলিয়ন বেনাপোর্ট। সভ্যতাগুলো আত্মহত্যার মাধ্যমেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, হত্যার কারণে নয়।
আরনোল্ড টয়েনবি। আত্মহত্যার চেয়েও বড় কাপুরুষতা হলো আত্মহত্যাকারীকে আত্মহত্যা এর মুখে ঠেলে দেয়া।  অ্যাশলেই পার্ডি। আত্মহত্যা একটি সাময়িক সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান।
 ফিল ডোনাহিউ। আত্ম সমালোচনার সবচেয়ে বাজে উপায় হলো আত্মহত্যা।  রবার্ট হেইনলেন
আত্মহত্যা খারাপ এর সম্মুখীন হওয়ার হারকে কমিয়ে দেয় না, বরং আপনার জীবন থেকে ভালো কথাটি মুছে দেয়। ভিক টুয়েনটিস। আত্মহত্যা কোনো উত্তর নয় বরং জীবন নামক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালানোর অজুহাত মাত্র।  আল গ্রিন
আত্মহত্যা কখনোই কোনো সমাধান হতে পারে না বরং সমস্যার সমাধান এর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। হেইলেই উইলিয়ামস। সৃষ্টিকর্তা আত্মহত্যাকে নিষেধ করেছেন বলে এটি জঘন্য নয়, বরং এটি জঘন্য জন্যই সৃষ্টিকর্তা এটিকে নিষেধ করেছেন।
ইমানুয়েল ক্যান্ট। আশার আলো একবার ডুবে গেলেই যে আত্মহত্যা করতে হবে এমন কিছু নেই, মনে রাখবেন সূর্য কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ঠিকই আলো দেয়।
 জাকারিয়া মাসুদ। আত্মহত্যা কখনো ব্যাথার অবসান ঘটায় না বরং এটি তা অন্য কারোর উপর চাপিয়ে দেয়।
অস্কার ওয়াইল্ড কবিগুরুর অমর বাণী ‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভুবনে’।
তবে নিরপেক্ষ স্থান থেকে ভেবে দেখার সময় এসেছে-কেন ঘটছে আত্মহত্যা। মোটা দাগে একে সামাজিক অবক্ষয় বলে চালিয়ে দেওয়া হলেও এই একটিই কি আত্মহত্যার কারণ?
যেহেতু মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর দায়িত্ব মহান আল্লাহতায়ালার হাতে তাই মানুষ কোনো অবস্থাতেই এটিকে নিজের হাতে তুলে নিতে পারেনা। আল্লাহতায়ালা ও তাঁর প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরকালে এর কঠিন শাস্তির খবরও দিয়েছেন। রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বস্তু দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৫৭০০, মুসলিম, হাদিস নং-১১০)
আজকাল আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তরুণ-তরুণীরা এই প্রবণতায় জড়িত হন বেশি। সাথে সাথে উচ্চপদের কর্তা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, কর্মজীবী, দিনমজুর, ব্যবসায়ীগণ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে থাকেন। পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ লোক আত্মহত্যা করে থাকেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, দেশে প্রতি বছর দশ হাজার একশত সাতষট্টি জন মানুষ এই পথে পা বাড়ায়। উক্ত সংস্থাটির মতে সারা বিশ্বে অত্মহত্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তেরোতম। আর আত্মহত্যার চিন্তায় মনঃস্তাত্ত্বিক রোগে ভোগে বিশ্বে প্রায় দশ কোটি মানুষ।
২০২২ সালে সারাদেশে ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থী ৪৪৬ জন। এর মধ্যে মেয়ে ২৮৫ জন এবং ছেলে ১৬১ জন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
গত ২৭ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে আঁচল ফাউন্ডেশন। আঁচল ফাউন্ডেশনের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ইউনিটের টিম লিডার ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, স্কুল ও সমমান পর্যায়ের ৩৪০ জন এবং কলেজ ও সমমান পর্যায়ের ১০৬ জন শিক্ষার্থী আত্মহনন করেছে। তাদের মধ্যে মাদরাসার শিক্ষার্থী ৫৪ জন। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার বিভাগ ভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্কুল-কলেজ ও সমমান পর্যায়ের আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ঢাকা বিভাগের, ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ রাজশাহী বিভাগের, ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ খুলনা বিভাগের, ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ রংপুর বিভাগের, ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ বরিশাল বিভাগের, ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগের এবং ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ সিলেট বিভাগের।
এছাড়া স্কুল-কলেজ ও সমমান পর্যায়ের আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং ছেলে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ তুলে ফারজানা আক্তার লাবনী বলেন, অভিমানের কারণে সবচেয়ে বেশি ২৭ দশমিক ০৬ শতাংশ স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগেরই অভিমান ছিল পরিবারের ওপর। এ ছাড়া প্রেমঘটিত বিষয়সহ বিভিন্ন কারণেও আত্মহত্যা করেছে শিক্ষার্থীরা।
১০ সেপ্টেম্বর প্রথম সারির জতীয় পত্রিকা  দৈনিক ইনকিলাবে বিশ্ব আত্নহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ ৮ মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থীর আত্নহত্যা  শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৮ মাসে ৩৬৪ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মধ্যে ১৯৪ জন স্কুলের শিক্ষার্থী। এছাড়াও, ৭৬ জন কলেজপড়ুয়া, ৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এবং ৪৪ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত (৯ সেপ্টেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে সংগঠনটি। শিক্ষাস্তর বিবেচনায় দেখা গেছে প্রাথমিক-মাধ্যমিকের ৫৩ দশমিক ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একই সময়ে ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী, ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এবং ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ শতাংশ নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা আত্মহত্যা করেছেন তার ৪৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ নারী। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলে ৩২ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং মেয়ে ৬৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। মাদ্রাসার ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন- বলে জানিয়েছে আঁচল ফাউন্ডেশন।
এদিকে, আত্মহত্যাকারীদের অবস্থান বিবেচনায় শীর্ষে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ঢাকায় গত ৮ মাসে শতকরা ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
আঁচল ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী এবং ৩৯ দশমিক ২৯ শতাংশ পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন।
এদের মধ্যে প্রেমঘটিত কারণে সবচেয়ে বেশি ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। অভিমান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে চাওয়া পাওয়ার অমিল হওয়ায় ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং পারিবারিক কলহের কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানির কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। মানসিক সমস্যার কারণে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ, পড়াশোনার চাপে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ, সেশনজটের কারণে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। চুরির মিথ্যা অপবাদে ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ, আর্থিক সমস্যায় ১ দশমিক ৯২ শতাংশ, বিষাদগ্রস্ত হয়ে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এবং স্বামী পছন্দ না হওয়ায় ১ দশমিক ১০ শতাংশ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশের আত্মহত্যার কারণ জানা যায়নি।
আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে আত্মহত্যার অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা পরিবার থেকে কোনো কিছু না পেয়ে অভিমান করেও আত্মহত্যা করেছেন। মোটরবাইক, মোবাইল চেয়ে না পাওয়ার কারণে অনেকেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। প্রত্যাশা পূরণ না হলে কিভাবে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক বড় ধরণের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’
এছাড়াও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যাও বেড়েছে আগের চেয়ে। আমাদের শিক্ষার্থীরা সবকিছু একসঙ্গে সামাল দিতে পারছেনা বলেই তুলনামূলক আত্মহত্যার হার বেড়েছে। যেখানে আমরা আশা করেছিলাম করোনার পর আত্মহত্যা প্রবণতা কমে যাবে।’
আত্মহত্যা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৩৬৪ জনের আত্মহত্যা অনেক বড় একটি সংখ্যা। তাই এটিকে সংকট হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকার, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তিসহ প্রতিটা স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহণ জরুরি। সবাই যার যার জায়গা থেকে সচেতন হলে এ সমস্যা সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত ১৮/০২/২০২১ তারিখে একটি উদ্বেগজনক তথ্য উপস্থাপন করেছে। সেখানে দেখা যায়, পুরো ২০২০ সালটি ছিল কোবিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের বছর। বিশ্বব্যাপী এতো মৃত্যুর মিছিল আর কোনো মহামারীতে দেখেনি কখনো। বি.বি.এস. বলেছে, ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫ হাজার ২ জন। কিন্তু বিস্ময়করভাবে উক্ত নয় মাসে আত্মহত্যায় মারা গেছেন ১১ হাজার মানুষ। অর্থ্যাৎ করোনার চাইতে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার দ্বিগুণ।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য মতে পূর্বের বছর গুলোতেও এই প্রবণতার রূপ ছিল ভয়াবহ। ২০১৮ সালে ১১ হাজারের বেশি মানুষ, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ১১ হাজার ৯৫ জন, ২০১৬ সালে ১০ হাজার ৬০০ জন, ২০১৫ সালে ১০ হাজার ৫০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছিল। উক্ত হিসাবকে দৈনিক ভাগ করলে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যা করছে।
বর্তমান যুগ হলো বিজ্ঞান ও তথ্য  প্রযুক্তির যুগ। তাই আত্মহত্যার প্রবণতাতেও যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন কারণ। বিশেষত ব্যক্তি বিশেষের মানসিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতাও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে। দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিলতা ও প্রযুক্তির প্রতি মানুষের অত্যধিক আসক্তি বাড়লেও আত্মহত্যার প্রবণতার মধ্যে খুব পরিবর্তন হয়নি। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাগুলো দুর্বল হয়ে গেলে মানুষ অসহায় বোধ করে এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যা করে ফেলে। পৃথিবীজুড়ে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ আত্মহত্যা। যারা মনের দিক থেকে দুর্বল, ধৈর্য ও সহ্য ক্ষমতা যাদের কম অবসাদ ও হেনস্থার  শিকার হয়ে এবং হঠাৎ কোনো পরিবর্তনের সাথে সহনশীল হতে না পেরে বিপদগামী হয়। অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় মানসিক চাপ। এই চাপ সহ্য করতে না পারলে মানুষটি জীবন থেকে পালিয়ে যেতে এই পথ বেছে নেন।
 মাদকাসক্ত, শিক্ষার অভাব, দাম্পত্য কলহ, যৌন নির্যাতন, প্রেমে ব্যর্থতা, খারাপ ফলাফল, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারনে চাকুরীচ্যুতি, আয় কমে যাওয়ায় সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমসিম খেয়ে হতাশাগ্রস্থ, কারো প্রতারণা বা ছলনার শিকার হয়েও মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান এবং এটি আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ। যে মহান প্রতিপালক আসমান-জমিন, মানব-দানব, পানি-বায়ুসহ  সবকিছু সৃষ্টি করেছেন তিনিই আবার এই পৃথিবীকে বানিয়েছেন পরীক্ষাগার রূপে। পৃথিবীতে ভালো-মন্দ, আশা-নিরাশা, দুঃখ-কষ্ট, পাওয়া-নাপাওয়া ইত্যাদি চিরাচরিতভাবে থাকবেই।
আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কিছু ভয় ও ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করবো। আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন। (সূরা বাকারা-১৫৫)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আত্মহত্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে কোনো কারণগুলো আছে তা খুঁজে বের করে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবী। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এখন যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তাতে আত্মহত্যা না করলেও তাদের অন্যান্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পেশাজীবীদেরও এ বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং কী উদ্যোগ নেওয়া যায় সে বিষয়ে সমন্বিত কাজ করা প্রয়োজন। এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে।
দুই ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এক. আগে থেকে পরিকল্পনা করে, আয়োজন করে, সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেন অনেকে। যেটাকে বলা হয় ডিসিসিভ সুইসাইড। দুই. হুট করে আবেগের রাশ টানতে না পেরে আত্মহত্যা করে ফেলেন অনেকে, যেটাকে বলা হয় ইমপালসিভ সুইসাইড। ডিসিসিভ সুইসাইড যাঁরা করেন, তাঁরা আগে থেকেই কিন্তু আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এ ধরনের মানুষ আত্মহননের আগে যেভাবে সেটা প্রকাশ করেন, তার মধ্যে আছে—তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন। আত্মহত্যা বা মৃত্যুবিষয়ক কবিতা–গান লিখতে, শুনতে বা পড়তে থাকেন। নিজের ক্ষতি করেন। প্রায়ই এঁরা নিজের হাত-পা কাটেন, বেশি বেশি ঘুমের ওষুধ খান। মনমরা হয়ে থাকা, সব কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে দোষী ভাবা—এগুলো বিষণ্নতার লক্ষণ; যা থেকে আত্মহত্যা ঘটে।
মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রারিক্ত আসক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা করে। সারা রাত জেগে থাকা আর সারা দিন ঘুমানো। নিজেকে গুটিয়ে রাখা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া। পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের বিষয় থেকে নিজে দূরে থাকা।
 সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী ও চেষ্টাকারীর জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। পরিবারের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। সকলের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে সন্তানদেরকে শারীরিক, মানসিক চাপ মোকাবিলা করার জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে।
স্কুল-কলেজ, মাদ্রসা  ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীর আবেগ অনুভূতিগুলো নিজের মধ্যে জমিয়ে না রেখে অন্যের সাথে শেয়ার করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। যিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি হয়তো অসহ্য যন্ত্রণা ও মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা কষ্টের মোকাবিলা  করেছেন কিন্তু অপরদিকে তার শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। কখনো মেনে নেওয়া যায়না এই আত্মহত্যা। বরং তিনি যদি সেই পথ না ধরে সহনশীলতার পথে চলতেন তাহলে হয়ত পরবর্তীতে সফলতার চাবি নিয়ে হাজির হতো তার জন্য অনাগত ভবিষ্যৎ। মানব জীবনের প্রতিদিন নতুন সূর্যোদয়ের মাধ্যমে নতুন নতুন আশার আলো তৈরি হয়। এ বিশ্বাস আমাদের সকলকেই পোষণ করতে হবে। আমাদের উচিত জীবনের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত জীবন গঠনে আত্মনিয়োগ করা। একটি আত্মহত্যা মানে একটি জীবনের অপচয়। আর জীবনতো একটাই  যা ফিরবেনা কখনো।
 দেশে দেশে আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, মানসিক দুশ্চিন্তাই আত্মহত্যার একমাত্র কারণ নয়। এর পেছনে কাজ করে অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জীবন ধারণের অবনতির আশঙ্কা। তবে কারণ যাই হোক না কেন, আত্মহত্যা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। কাছের মানুষ কোনো ধরনের সমস্যায় ভুগছে এটা বুঝতে পারলে তাকে অবশ্যই মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া উচিত।
সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেছেন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শঙ্কিত। এসব রোধে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে তরুণদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর চাকরি না পাওয়া, জীবনের প্রতি হতাশা, প্রেমে ব্যর্থতা, নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণের শিকার হওয়ায় সামাজিক লজ্জা, বিয়ের পর যৌতুকের টাকার জোগান দিতে না পারা, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব, চরম দারিদ্র্য-এরকম নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।
ডিপ্রেশন বা মানসিক চাপের কারণেই কি আত্মহত্যা বাড়ছে? কেন ডিপ্রেশনে ভোগে মানুষ? ডিপ্রেশন হচ্ছে সেই রোগ যেটি মূলত চাওয়া-পাওয়ার পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। এটি অনেকটা সামাজিক আর পারিবারিকভাবে সৃষ্ট। ‘অমুকের ছেলের এই রেজাল্ট, তোর এরকম কেন?’ ‘অমুকের দুটো গাড়ি, আমাদের নেই কেন?’ ‘আমার কী নেই যে সে আমাকে ছেড়ে চলে গেল?’ হীনম্মন্যতা সৃষ্টি হয় এভাবে। সেখান থেকেও ঘটে আত্মহত্যা।
দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাবা-মায়েরাও সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে তেমন সচেতন থাকেন না। তারা আসলে সন্তানদের একটা ‘প্রেশার কুকারে’র মধ্যে রাখেন। তাদের পছন্দের জীবন কাটাতে বাধ্য করেন। সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি আমাদের দেশে আসলে কখনোই গুরুত্ব দেয়া হয় না। এটা একটা বড় সমস্যা।
আত্মহত্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখার জন্য স্কুল-কলেজসহ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পর্যাপ্ত কাউন্সেলিং ও প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। সচেতন হওয়া দরকার সবার। অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বের হতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবতে হবে। ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। আসুন, আত্মহত্যাকে না বলি। জীবনকে ভালোবাসতে শিখি।
যারা মারা গেছে তাদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু নতুন করে কেউ যাতে আত্মহত্যা না করে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।
পড়া লিখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা  খেলাধুলা করবে। বন্ধুদের সাথে দেখা হবে। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে।  আনন্দ মানে শুধু খেলাধুলা নয়। শিক্ষক ঠিক মতো পড়াতে পারলে তাও আনন্দময় হয়। তাই শিক্ষককে এখন হতে হবে অনেক বেশি দক্ষ। অভিভাবকদেরও তা জানতে হবে।” এই সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশুনা বা পরীক্ষার চাপের চেয়ে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে  হবে। এটা  শিক্ষকদের যেমন দায়িত্ব তেমনি পরিবারের সদস্যদেরও দায়িত্ব।”
আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের বিকাশের সময় তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।
বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াসহ সব মানসিক রোগের দ্রুত শনাক্ত করা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে হবে আর পরিবারে প্রত্যেকের সঙ্গে গুণগত সময় কাটাতে হবে। আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমগুলোকে সব সময় অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। প্রথাগত প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিকল্পধারার ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করতে হবে। এখানেও কোনো আত্মহত্যার ঘটনাকে খুব মহৎ করে দেখানোর চেষ্টা করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর কর্তৃপক্ষেরও নিজস্ব নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন এখন সময়ের দাবি।
আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে অবশ্যই আত্মহত্যা ঠেকানো যায়। এ জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের ১ লাখ ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে একজন করে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ থাকা দরকার, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই যা নেই। তিনি বলেন,”তাই শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাদের আনন্দের মধ্যে শিক্ষা দিতে হবে। তাদের আচরণ হতে হবে শিক্ষার্থী বান্ধব। তাদের ওপর পড়া লেখা চাপিয়ে দেয়া যাবেনা। তাদের মনের যত্ন বেশি নিতে হবে।”
[লেখক : মোঃ হায়দার আলী, প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। ও সহঃ সাধারন সম্পাদক, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী জেলা শাখা ]
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলা খবর বিডি-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)