ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শাহজাদপুর থেকে কোরবানির গরু যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩
  • / ৪৬৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// শামছুর রহমান শিশির //

পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। চারদিকে চলছে কোরবানির প্রস্তুতি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ ও গবাদীপশুর কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুর থেকে দেশে কোরবানির পশুর মোট চাহিদার একটা বড় অংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চলতি বছরও এর ব্যাত্যয় ঘটছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গবাদী পশুর হাটগুলো থেকে দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ ও গবাদীপশুর রাজধানী শাহজাদপুর থেকে প্রতিদিন ট্রাক ও নৌপথে হাজার হাজার গরু যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। ওইসব গবাদীপশু চড়া দামে হাঁকা হচ্ছে। ক্রেতারা দরকষাকষি করে চড়া দামেই গবাদীপশু কিনছেন।

শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গবাদী পশুর দানাদার খাদ্যের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ বছর শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গবাদীপশুর হাটগুলোতে গবাদীপশুর দাম চড়া লক্ষ করা গেলেও ব্যাপক সরবরাহ থাকায় কোরবানির পশুর সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি উপলক্ষে ক্রেতাদের মাঝে এবার আগেভাগেই গরু ও ছাগল ক্রয় করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে ঈদের এখনো কয়েক দিন বাকি থাকতেই গবাদী পশু কেনা বেচা শুরু হয়েছে। এবার প্রতিদিন শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শখের বশে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রতিপালিত হাজার হাজার গো-খামাওে লক্ষাধিক মোটাতাজাকরণকৃত পর্যাপ্ত গরু ছাগল সরবরাহ করছে খামারী ও গবাদীপশু ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী, নরিনা, বাতিয়া, জামিরতা, পার্শ্ববর্তী উল্লাপাড়ার কয়রা, বোয়ালিয়া, গ্যাসের হাট, বড়হর, বেড়া উপজেলার সিএন্ডবি বাসষ্ট্যান্ড এলাকাস্থ কোরবানির পশুর হাটে গরু ও ছাগল ক্রেতা বিক্রেতাদের ভীড় ক্রমেই বাড়ছে। খামারীরা জানান, এবার গবাদীপশুর দানাদার খাদ্যের দাম রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধিতে গত বছরের তুলনায় ছোট, মাঝারী ও বৃহদাকার গরুপ্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তবে দাম বাড়লেও গরু ছাগলের আমদানী হচ্ছে বেশী। বিভিন্ন জাতের ছাগল প্রকারভেদে ১০ হাজার থেকে ৪০/৫০ হাজার টাকায় ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।

খামারীরা জানায়, কোনরানির ঈদকে সামনে রেখে প্রায় ৮/৯ মাস আগ থেকেই গবাদীপশুর রাজধানীখ্যাত এলাকা শাহজাদপুরে শুরু হয় গবাদীপশু মোটাতাজাকরণের কাজ। এ এলাকার হাজার হাজার গবাদীপশুর খামারে দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন উন্নতজাতের লাখ লাখ গবাদীপশুকে বেশী বেশী দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়াইয়ে মোটা তাজা করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণকৃত ওইসব লাখ লাখ গবাদী পশুকে স্থানীয় খামার থেকে ও কোরবানির পশুর হাট থেকে ট্রাক ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির হাটগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছর গবাদীপশুর দাম বেশ চড়া আকার ধারণ করেছে বলে খামারীরা জানিয়েছে। গবাদীপশুর দানাদার খাদ্যের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবার গবাদীপশু প্রতিপালন ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা পশুসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পরিসংখ্যানুসারে শুধুমাত্র শাহজাদপুর উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক গো-সম্পদ। এখানে গবাদীপশুর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’ ৮৫ টি।এর মধ্যে দেশী জাতের গরুর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩শ’ ৭৬ টি। সংকর জাতের গরুর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ১শ’ ২০টি। রেজিষ্ট্রিকৃত খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৫ শ’ ৮৮ টি। দেশী বক্না গরুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬শ’ ৯২ টি,দেশী এঁড়ে বাছুরের সংখ্যা ২৮ হাজার ৩ শ’২০টি, বক্না বাছুরের সংখ্যা ১৯ হাজার ৫ শ’ ৩৬ টি। সংকর জাতের বকনার সংখ্যা ১৪ হাজার ২শ’টি, সংকর জাতের বকনা বাছুরের সংখ্যা ২৫ হাজার ৪ শ’ ৭৫ টি। শাহজাদপুরে কাগজে কলমে গবাদী পশুর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’৮৫ টি হলেও বাস্তবে গবাদীপশুর মোট সংখ্যা ওই পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদে শাহজাদপুর উপজেলার টেপরি, পুরান টেপরি, পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, আঙ্গারু, বাড়াবিল, রূপবাটি, রাউতারা, পোরজনা, পুঠিয়া, ডায়া, নগরডালা, কাকুরিয়া, কাদাইবাদলা, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, বনগ্রাম, সরিষাকোল, আহম্মদপুর, মশিপুর, নুকালী, শেলাচাপড়ী, চরাচিথুলিয়া, ভাইমারা, বহলবাড়ী, বিন্নাদায়ের, মাদলা, টিয়ারবন্দ, শাকতোলা, বিলকলমীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য উন্নতজাতের দেশী ও বিদেশী ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশী শংকর, অষ্ট্রেলিয়ান, জার্সিসহ বিভিন্ন জাতের গরু ও বিভিন্ন জাতের ছাগল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ হওয়ায় প্রতি বছর কোববানীর ঈদে এসব গরুর ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে বেশ ভালো দামে গরুগুলো বিক্রি করা হয়ে থাকে।

বিশিষ্ট পশুবিজ্ঞানী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকার গাবতলী কোরবানীর পশুর হাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কোনবানি পশুর হাটগুলোতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও গো-সমৃদ্ধ জনপদ শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক গবাদীপশু ট্রাকযোগে ও নৌপথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কোরবানির হাটগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে যা দেশে কোরবানি পশুর চাহিদার একটি বৃহৎ অংশের যোগান দিচ্ছে।

এদিকে, দেশের গবাদী পশুর রাজধানী শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী কোনবানি পশুর হাটগুলোতে জালনোটের বিস্তর রোধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শাহজাদপুর থেকে কোরবানির গরু যাচ্ছে ঢাকাসহ সারাদেশে

আপডেট সময় : ০৭:১৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

// শামছুর রহমান শিশির //

পবিত্র ঈদুল আযহা সমাগত। চারদিকে চলছে কোরবানির প্রস্তুতি। প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ ও গবাদীপশুর কেন্দ্রবিন্দু শাহজাদপুর থেকে দেশে কোরবানির পশুর মোট চাহিদার একটা বড় অংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চলতি বছরও এর ব্যাত্যয় ঘটছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার গবাদী পশুর হাটগুলো থেকে দেশের নিউজিল্যান্ড খ্যাত জনপদ ও গবাদীপশুর রাজধানী শাহজাদপুর থেকে প্রতিদিন ট্রাক ও নৌপথে হাজার হাজার গরু যাচ্ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। ওইসব গবাদীপশু চড়া দামে হাঁকা হচ্ছে। ক্রেতারা দরকষাকষি করে চড়া দামেই গবাদীপশু কিনছেন।

শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। গবাদী পশুর দানাদার খাদ্যের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ বছর শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে গবাদীপশুর হাটগুলোতে গবাদীপশুর দাম চড়া লক্ষ করা গেলেও ব্যাপক সরবরাহ থাকায় কোরবানির পশুর সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি উপলক্ষে ক্রেতাদের মাঝে এবার আগেভাগেই গরু ও ছাগল ক্রয় করার প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে ঈদের এখনো কয়েক দিন বাকি থাকতেই গবাদী পশু কেনা বেচা শুরু হয়েছে। এবার প্রতিদিন শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শখের বশে ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রতিপালিত হাজার হাজার গো-খামাওে লক্ষাধিক মোটাতাজাকরণকৃত পর্যাপ্ত গরু ছাগল সরবরাহ করছে খামারী ও গবাদীপশু ব্যবসায়ীরা।

কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছী, নরিনা, বাতিয়া, জামিরতা, পার্শ্ববর্তী উল্লাপাড়ার কয়রা, বোয়ালিয়া, গ্যাসের হাট, বড়হর, বেড়া উপজেলার সিএন্ডবি বাসষ্ট্যান্ড এলাকাস্থ কোরবানির পশুর হাটে গরু ও ছাগল ক্রেতা বিক্রেতাদের ভীড় ক্রমেই বাড়ছে। খামারীরা জানান, এবার গবাদীপশুর দানাদার খাদ্যের দাম রেকর্ড পরিমান বৃদ্ধিতে গত বছরের তুলনায় ছোট, মাঝারী ও বৃহদাকার গরুপ্রতি ১০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। তবে দাম বাড়লেও গরু ছাগলের আমদানী হচ্ছে বেশী। বিভিন্ন জাতের ছাগল প্রকারভেদে ১০ হাজার থেকে ৪০/৫০ হাজার টাকায় ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।

খামারীরা জানায়, কোনরানির ঈদকে সামনে রেখে প্রায় ৮/৯ মাস আগ থেকেই গবাদীপশুর রাজধানীখ্যাত এলাকা শাহজাদপুরে শুরু হয় গবাদীপশু মোটাতাজাকরণের কাজ। এ এলাকার হাজার হাজার গবাদীপশুর খামারে দেশী ও বিদেশী বিভিন্ন উন্নতজাতের লাখ লাখ গবাদীপশুকে বেশী বেশী দানাদার খাদ্য ও কাঁচা ঘাস খাওয়াইয়ে মোটা তাজা করা হয়েছে। মোটাতাজাকরণকৃত ওইসব লাখ লাখ গবাদী পশুকে স্থানীয় খামার থেকে ও কোরবানির পশুর হাট থেকে ট্রাক ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির হাটগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে চলতি বছর গবাদীপশুর দাম বেশ চড়া আকার ধারণ করেছে বলে খামারীরা জানিয়েছে। গবাদীপশুর দানাদার খাদ্যের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবার গবাদীপশু প্রতিপালন ব্যায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

শাহজাদপুর উপজেলা পশুসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পরিসংখ্যানুসারে শুধুমাত্র শাহজাদপুর উপজেলাতেই রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক গো-সম্পদ। এখানে গবাদীপশুর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’ ৮৫ টি।এর মধ্যে দেশী জাতের গরুর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৩শ’ ৭৬ টি। সংকর জাতের গরুর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ১শ’ ২০টি। রেজিষ্ট্রিকৃত খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৫ শ’ ৮৮ টি। দেশী বক্না গরুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬শ’ ৯২ টি,দেশী এঁড়ে বাছুরের সংখ্যা ২৮ হাজার ৩ শ’২০টি, বক্না বাছুরের সংখ্যা ১৯ হাজার ৫ শ’ ৩৬ টি। সংকর জাতের বকনার সংখ্যা ১৪ হাজার ২শ’টি, সংকর জাতের বকনা বাছুরের সংখ্যা ২৫ হাজার ৪ শ’ ৭৫ টি। শাহজাদপুরে কাগজে কলমে গবাদী পশুর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭শ’৮৫ টি হলেও বাস্তবে গবাদীপশুর মোট সংখ্যা ওই পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন কোরবানির ঈদে শাহজাদপুর উপজেলার টেপরি, পুরান টেপরি, পোতাজিয়া, রেশমবাড়ী, আঙ্গারু, বাড়াবিল, রূপবাটি, রাউতারা, পোরজনা, পুঠিয়া, ডায়া, নগরডালা, কাকুরিয়া, কাদাইবাদলা, চিথুলিয়া, কাশিনাথপুর, বনগ্রাম, সরিষাকোল, আহম্মদপুর, মশিপুর, নুকালী, শেলাচাপড়ী, চরাচিথুলিয়া, ভাইমারা, বহলবাড়ী, বিন্নাদায়ের, মাদলা, টিয়ারবন্দ, শাকতোলা, বিলকলমীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য উন্নতজাতের দেশী ও বিদেশী ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, দেশী শংকর, অষ্ট্রেলিয়ান, জার্সিসহ বিভিন্ন জাতের গরু ও বিভিন্ন জাতের ছাগল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম মুসলিম দেশ হওয়ায় প্রতি বছর কোববানীর ঈদে এসব গরুর ব্যাপক চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে বেশ ভালো দামে গরুগুলো বিক্রি করা হয়ে থাকে।

বিশিষ্ট পশুবিজ্ঞানী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকার গাবতলী কোরবানীর পশুর হাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কোনবানি পশুর হাটগুলোতে অন্যান্য বছরের মতো এবারও গো-সমৃদ্ধ জনপদ শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক গবাদীপশু ট্রাকযোগে ও নৌপথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের কোরবানির হাটগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে যা দেশে কোরবানি পশুর চাহিদার একটি বৃহৎ অংশের যোগান দিচ্ছে।

এদিকে, দেশের গবাদী পশুর রাজধানী শাহজাদপুরসহ পার্শ্ববর্তী কোনবানি পশুর হাটগুলোতে জালনোটের বিস্তর রোধ, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।