ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

১শ’২৫ জনের নামে মামলা : গ্রেফতার হয়নি কেউ

শাহজাদপুরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ : পুরুষশুণ্য এলাকা

মোঃ শামছুর রহমান শিশির
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪
  • / ৫০১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের দুর্গম চরবর্ণিয়া গ্রামে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জনে।

২০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার চরবর্ণিয়া গ্রাম পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে ৩ জন নিহতের পর থেকে পুরো এলাকা পুরুষশুণ্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বৃহৎ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এদিকে, এদিন দুপুরে দিনামোল্লার চর, চরবর্ণিয়া ও গোবিন্দপুর সম্মিলিত ঈদগাহ ময়দানে নিহতদের জানাজার নামাজ শেষে দিনামোল্লার চর, চরবর্ণিয়া ও গোবিন্দপুর সম্মিলিত কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

বুধবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়েম গ্রুপের সদস্য আব্দুস সোবাহানের ছেলে তামিম হোসেন গালিব (১৫) নিহত হয়। তার মরদেহ এদিন দুপুরে শাহজাদপুর থানায় এসে পৌঁছায়। একইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আখের গ্রুপের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফালাবিদ্ধ ফরহাদ হোসেনকে (৪০) পাবনা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নেয়ার পথে সে মারা যায়। পুলিশ রাত ১১টার দিকে তার মরদেহ চরবর্ণিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে আসে। এর আগে টেটাবিদ্ধ হয়ে মো: সানোয়ার ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

এদিকে, সায়েম গ্রুপের মো: সানোয়ার ফকির হত্যার ঘটনায় মা আনতিরি খাতুন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ১শ’ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, গালিব ঢাকার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তার মরদেহ থানায় এসে পৌঁছায়। অপরদিকে, ফালাবিদ্ধ ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু সংবাদ রাত সাড়ে ৮টার দিকে পেয়ে চরবর্ণিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে থানায় এনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ২ নিহতের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। এ সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষের নারী, পুরুষ ও শিশু গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে থাকায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চরবর্ণিয়া গ্রামের আখের, গ্রুপের সাথে সায়েম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১ জন নিহত উভয়পক্ষের অন্তত: ১০ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহতদের ২জন মারা যায়।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

১শ’২৫ জনের নামে মামলা : গ্রেফতার হয়নি কেউ

শাহজাদপুরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ : পুরুষশুণ্য এলাকা

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

পূর্ব বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের দুর্গম চরবর্ণিয়া গ্রামে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জনে।

২০ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার চরবর্ণিয়া গ্রাম পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে ৩ জন নিহতের পর থেকে পুরো এলাকা পুরুষশুণ্য হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শাহজাদপুর সার্কেল) মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বৃহৎ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এদিকে, এদিন দুপুরে দিনামোল্লার চর, চরবর্ণিয়া ও গোবিন্দপুর সম্মিলিত ঈদগাহ ময়দানে নিহতদের জানাজার নামাজ শেষে দিনামোল্লার চর, চরবর্ণিয়া ও গোবিন্দপুর সম্মিলিত কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

বুধবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সায়েম গ্রুপের সদস্য আব্দুস সোবাহানের ছেলে তামিম হোসেন গালিব (১৫) নিহত হয়। তার মরদেহ এদিন দুপুরে শাহজাদপুর থানায় এসে পৌঁছায়। একইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আখের গ্রুপের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ফালাবিদ্ধ ফরহাদ হোসেনকে (৪০) পাবনা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার নেয়ার পথে সে মারা যায়। পুলিশ রাত ১১টার দিকে তার মরদেহ চরবর্ণিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে আসে। এর আগে টেটাবিদ্ধ হয়ে মো: সানোয়ার ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

এদিকে, সায়েম গ্রুপের মো: সানোয়ার ফকির হত্যার ঘটনায় মা আনতিরি খাতুন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় ১শ’ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন বলেন, গালিব ঢাকার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সেখান থেকে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে তার মরদেহ থানায় এসে পৌঁছায়। অপরদিকে, ফালাবিদ্ধ ফরহাদ হোসেনের মৃত্যু সংবাদ রাত সাড়ে ৮টার দিকে পেয়ে চরবর্ণিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে থানায় এনে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ২ নিহতের ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। এ সংঘর্ষের পর উভয়পক্ষের নারী, পুরুষ ও শিশু গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে থাকায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকালে শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের চরবর্ণিয়া গ্রামের আখের, গ্রুপের সাথে সায়েম গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১ জন নিহত উভয়পক্ষের অন্তত: ১০ জন আহত হন। পরে গুরুতর আহতদের ২জন মারা যায়।