ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ইউএনও বললেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউপি’র কর্মসৃজনের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৯৩৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে পোতাজিয়া ইউনিয়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৪টি প্রকল্পের আওতায় ২৬২ জনের নাম তালিকায় থাকলেও তদস্থলে কাজ করছে ২০১ জন । তার মধ্যে ৬৭ জনই তালিকার বাইরের শ্রমিক। তালিকাভুক্ত ১৩৪ জন শ্রমিক নিয়েই চলছে উক্ত ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্প। শর্ত মেনে নতুন শ্রমিক নেয়ার নিয়ম থাকলেও সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে এবং কোন প্রকার রেজুলেশন না করেই নতুন শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ও অত্র ইউনিয়ন পরিষদ। এমনও প্রকল্প রয়েছে যেখানে বরাদ্দের চেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করছে, সেই সব শ্রমিকদের বিল কে পরিশোধ করবে ? তা নিয়েও রয়েছে ধোয়াশা। উক্ত প্রকল্পে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের নামের তালিকায় অনিয়ম হয়েছে বলেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে ও প্রকল্প চলাকালীন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পোতাজিয়া তিনমাথা ধলাই নদী পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৭৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ৯০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ৩০ জন শ্রমিকই নতুন। অন্য একটি প্রকল্পে ছোট বায়ড়া বিশ্ব রোড হইতে ছোট বাড়য়া মসজিদ ও মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৭৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ৫০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ৯ জন শ্রমিকই নতুন। ইউনিয়নের চড়া চিথুলিয়া পুরান পাড়া হইতে মোনামারা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৬০ জন শ্রমিকের জায়গায় ৩৮ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১৮ জন শ্রমিকই নতুন। আর একটি প্রকল্পে রেশমবাড়ী শিতলাই হইতে বটতলা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৫২ জন শ্রমিকের জায়গায় মাত্র ২৫ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১০ জন শ্রমিকই নতুন। ৪টি প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দল নেতা ৬৭ জন নতুন শ্রমিক কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন।

বরাদ্দের চেয়ে বেশি শ্রমিক ও নতুন শ্রমিক কিভাবে প্রকল্পে কাজ করছে জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর জাহান বাচ্চু জানান, এখন পর্যন্ত কোন রেজুলেশন হয়নি। তাই আমি সঠিক জানি না। কে কয়টা নতুন শ্রমিক দিলো এটা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে উক্ত প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল-আমীনের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ ব্যপারে উপজেলা প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, নতুন শ্রমিক আনার কোন সুযোগ নেই। কোন ইউনিয়ন যদি এমন করে থাকে তাহলে তার দায়ভার সেই ইউনিয়ন পরিষদ নেবে।

অপরদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, তালিকায় নাম ব্যতিত শ্রমিকেরা বিল পাবে না এবং এ অনিয়মের বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউএনও বললেন, ‘অনিয়মের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে’

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউপি’র কর্মসৃজনের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০২৩

সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরে পোতাজিয়া ইউনিয়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৪টি প্রকল্পের আওতায় ২৬২ জনের নাম তালিকায় থাকলেও তদস্থলে কাজ করছে ২০১ জন । তার মধ্যে ৬৭ জনই তালিকার বাইরের শ্রমিক। তালিকাভুক্ত ১৩৪ জন শ্রমিক নিয়েই চলছে উক্ত ইউনিয়নের ইজিপিপি প্রকল্প। শর্ত মেনে নতুন শ্রমিক নেয়ার নিয়ম থাকলেও সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে এবং কোন প্রকার রেজুলেশন না করেই নতুন শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় ও অত্র ইউনিয়ন পরিষদ। এমনও প্রকল্প রয়েছে যেখানে বরাদ্দের চেয়ে বেশি শ্রমিক কাজ করছে, সেই সব শ্রমিকদের বিল কে পরিশোধ করবে ? তা নিয়েও রয়েছে ধোয়াশা। উক্ত প্রকল্পে অনিয়মই যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের নামের তালিকায় অনিয়ম হয়েছে বলেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে ও প্রকল্প চলাকালীন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পোতাজিয়া তিনমাথা ধলাই নদী পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৭৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ৯০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে ৩০ জন শ্রমিকই নতুন। অন্য একটি প্রকল্পে ছোট বায়ড়া বিশ্ব রোড হইতে ছোট বাড়য়া মসজিদ ও মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৭৫ জন শ্রমিকের জায়গায় ৫০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ৯ জন শ্রমিকই নতুন। ইউনিয়নের চড়া চিথুলিয়া পুরান পাড়া হইতে মোনামারা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৬০ জন শ্রমিকের জায়গায় ৩৮ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১৮ জন শ্রমিকই নতুন। আর একটি প্রকল্পে রেশমবাড়ী শিতলাই হইতে বটতলা পর্যন্ত রাস্তা পুণঃনির্মাণে ৫২ জন শ্রমিকের জায়গায় মাত্র ২৫ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। এর মধ্যে ১০ জন শ্রমিকই নতুন। ৪টি প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের দল নেতা ৬৭ জন নতুন শ্রমিক কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন।

বরাদ্দের চেয়ে বেশি শ্রমিক ও নতুন শ্রমিক কিভাবে প্রকল্পে কাজ করছে জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর জাহান বাচ্চু জানান, এখন পর্যন্ত কোন রেজুলেশন হয়নি। তাই আমি সঠিক জানি না। কে কয়টা নতুন শ্রমিক দিলো এটা আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে উক্ত প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা উপজেলা প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল-আমীনের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ ব্যপারে উপজেলা প্রকল্প ব্যাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, নতুন শ্রমিক আনার কোন সুযোগ নেই। কোন ইউনিয়ন যদি এমন করে থাকে তাহলে তার দায়ভার সেই ইউনিয়ন পরিষদ নেবে।

অপরদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, তালিকায় নাম ব্যতিত শ্রমিকেরা বিল পাবে না এবং এ অনিয়মের বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।