ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রিমালের আঘাতে বাউফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী (মাসুম)
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪
  • / ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়ক ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে পাঁচশতাধিক পরিবার। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে চার দিন ধরে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভতির্ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ঘর চাপায় মৃত্যু হয়েছে আব্দুল করিম(৬৫) নামে এক বৃদ্ধের।

এদিকে সাত থেকে আট ফুট উচ্চতার অস্বাভাবিক জোয়ারে কালাইয়া-ভরিপাশা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়কের ছয়টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়। এতে, চন্দ্রদ্বীপ নাজিরপুর, ধুলিয়া, কাছিপাড়া, কালাইয়া, কেশবপুর এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ সহাস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কালাইয়া-ভরিপাশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করে।
এছাড়াও জোয়ারের তোড়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরকচুয়া এলাকার আধা কিলোমিটারেরও বেশি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ওই ইউনিয়নের পাঁচশতাধিক পরিবার।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে এ উপজেলার ১ লাখ ৫ হাজার গ্রাহক। বিশেষকরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তিরোগী ও তাদের স্বজনেরা আছেন চরম ভোগান্তিতে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি আছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। বিদ্যুৎ না থাকায় সব ধরনের পরীক্ষা বন্ধ। বন্ধ রয়েছে পানি সরবরাহ । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা আবদুর রউফ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনিবলেন, একটি জেনারেটর আছে, সেটি দিয়ে পানি উঠানো যায় না। এমনকি কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করানো সম্ভব না।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুজিবুররহমান চৌধুরী বলেন, শনিবার বিদ্যুৎ সরনরাহ লাইনের কাজ করার কারণে বন্ধ ছিল।পরের দিন ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ওপর গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৫ টি খুটি ভেঙে গেছে। দুইশ যায়গায় তার ছিড়ে গেছে। এ কারণে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।মাঠ কর্মীরা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যায়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, দেড় সহাস্রাধিক ঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সহ দুইশ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য সব দপ্তরের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

রিমালের আঘাতে বাউফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়ক ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে পাঁচশতাধিক পরিবার। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে চার দিন ধরে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভতির্ রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ঘর চাপায় মৃত্যু হয়েছে আব্দুল করিম(৬৫) নামে এক বৃদ্ধের।

এদিকে সাত থেকে আট ফুট উচ্চতার অস্বাভাবিক জোয়ারে কালাইয়া-ভরিপাশা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়কের ছয়টি স্থান ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়। এতে, চন্দ্রদ্বীপ নাজিরপুর, ধুলিয়া, কাছিপাড়া, কালাইয়া, কেশবপুর এলাকার মানুষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ সহাস্রাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কালাইয়া-ভরিপাশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করে।
এছাড়াও জোয়ারের তোড়ে নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরকচুয়া এলাকার আধা কিলোমিটারেরও বেশি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ওই ইউনিয়নের পাঁচশতাধিক পরিবার।
বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে এ উপজেলার ১ লাখ ৫ হাজার গ্রাহক। বিশেষকরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তিরোগী ও তাদের স্বজনেরা আছেন চরম ভোগান্তিতে। বর্তমানে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি আছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে। বিদ্যুৎ না থাকায় সব ধরনের পরীক্ষা বন্ধ। বন্ধ রয়েছে পানি সরবরাহ । স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা আবদুর রউফ এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনিবলেন, একটি জেনারেটর আছে, সেটি দিয়ে পানি উঠানো যায় না। এমনকি কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষাও করানো সম্ভব না।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের উপ মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মুজিবুররহমান চৌধুরী বলেন, শনিবার বিদ্যুৎ সরনরাহ লাইনের কাজ করার কারণে বন্ধ ছিল।পরের দিন ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ওপর গাছ পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৫ টি খুটি ভেঙে গেছে। দুইশ যায়গায় তার ছিড়ে গেছে। এ কারণে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।মাঠ কর্মীরা নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছে যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা যায়।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, দেড় সহাস্রাধিক ঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সহ দুইশ কিলোমিটারের বেশি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য সব দপ্তরের লোকজন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’