ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাশিয়ার তেলের দাম ৬০ ডলার বেঁধে দিলো ইইউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২
  • / ৪৫৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
রাশিয়া থেকে ব্যারেল প্রতি তেল ৬০ ডলারে কেনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) পোল্যান্ড এই বিষয়ে সমর্থন দিলে ইইউভুক্ত দেশগুলো ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারের বেশি দিয়ে তেল কেনা বন্ধ করার ব্যাপারে একমত হয় এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) ইইউ-এর আইনি জার্নালে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আল- জাজিরা।

চুক্তিটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে, যার লক্ষ্য মূল্য বৃদ্ধি রোধে বিশ্ব তেলের বাজারকে পুনর্বিন্যাস করা। শেষ মুহূর্তের আলোচনার পর, ইইউ প্রেসিডেন্সি অয়েল হ্যাশট্যাগ সম্বলিত এক টুইট বার্তায় জানায় যে, রাষ্ট্রদূতরা সবেমাত্র রাশিয়ান সামুদ্রিক তেলের মূল্য নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।

চুক্তিটি মূলত গ্রুপ অব সেভেনের (জি-৭) নেতৃত্বে হয়েছে। এর লক্ষ্য তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার রাজস্ব সীমিত করা। কারণ এই তেল বিক্রির রাজস্বই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করে দেশটি।

এই পদক্ষেপের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে রাশিয়ান তেল পরিবহনে বাধা দেবে।

একই সময়ে, চুক্তিটি রাশিয়ান তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে একটি নমনীয় পদ্ধতি বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ৫ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার পরে আন্তর্জাতিক তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে।

তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, এই ধরনের চুক্তি তেলের দাম আকাশচুম্বী করতে পারে, কারণ রাশিয়া বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ করে।

তেলের মূল্যসীমা প্রবর্তনের অর্থ হলো, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কেবলমাত্র সমুদ্রপথে পরিবহণ করা তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো কেনার অনুমতি পাবে, যা নির্ধারিত মূল্যে বা তার নীচে বিক্রি হবে।

যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং এবং বীমা সংস্থাগুলো জি-৭ দেশগুলোতে অবস্থিত, তাই এই মূল্যসীমা রাশিয়ার পক্ষে তার তেল বেশি দামে বিক্রি করা খুব কঠিন করে তুলবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন যে, এই মূল্যসীমা রাশিয়ার রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।

এদিকে, রাশিয়ার নিম্নকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান লিওনিড স্লুটস্কি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, ব্লকটি তার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এটি চলমান বাজারের আইনও লঙ্ঘন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এই মূল্যসীমা নির্ধারণ ‘সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যযোগ্য’ হবে মন্তব্য করে ইইউ প্রধান ফন ডার লেয়েন টুইটারে বলেন, এটি আমাদের বিশ্বব্যাপী জ্বালানি শক্তির দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে, সারা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে উপকৃত করবে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার তেলের দাম ৬০ ডলার বেঁধে দিলো ইইউ

আপডেট সময় : ০১:২৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
রাশিয়া থেকে ব্যারেল প্রতি তেল ৬০ ডলারে কেনার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) পোল্যান্ড এই বিষয়ে সমর্থন দিলে ইইউভুক্ত দেশগুলো ব্যারেল প্রতি ৬০ ডলারের বেশি দিয়ে তেল কেনা বন্ধ করার ব্যাপারে একমত হয় এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) ইইউ-এর আইনি জার্নালে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আল- জাজিরা।

চুক্তিটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে, যার লক্ষ্য মূল্য বৃদ্ধি রোধে বিশ্ব তেলের বাজারকে পুনর্বিন্যাস করা। শেষ মুহূর্তের আলোচনার পর, ইইউ প্রেসিডেন্সি অয়েল হ্যাশট্যাগ সম্বলিত এক টুইট বার্তায় জানায় যে, রাষ্ট্রদূতরা সবেমাত্র রাশিয়ান সামুদ্রিক তেলের মূল্য নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন।

চুক্তিটি মূলত গ্রুপ অব সেভেনের (জি-৭) নেতৃত্বে হয়েছে। এর লক্ষ্য তেল বিক্রি থেকে রাশিয়ার রাজস্ব সীমিত করা। কারণ এই তেল বিক্রির রাজস্বই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ব্যবহার করে দেশটি।

এই পদক্ষেপের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোতে একটি নির্দিষ্ট সীমার ওপরে রাশিয়ান তেল পরিবহনে বাধা দেবে।

একই সময়ে, চুক্তিটি রাশিয়ান তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে একটি নমনীয় পদ্ধতি বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা ৫ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার পরে আন্তর্জাতিক তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধি রোধ করার লক্ষ্যে।

তবে অনেকেই আশঙ্কা করছেন যে, এই ধরনের চুক্তি তেলের দাম আকাশচুম্বী করতে পারে, কারণ রাশিয়া বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ তেল সরবরাহ করে।

তেলের মূল্যসীমা প্রবর্তনের অর্থ হলো, অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কেবলমাত্র সমুদ্রপথে পরিবহণ করা তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্যগুলো কেনার অনুমতি পাবে, যা নির্ধারিত মূল্যে বা তার নীচে বিক্রি হবে।

যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং এবং বীমা সংস্থাগুলো জি-৭ দেশগুলোতে অবস্থিত, তাই এই মূল্যসীমা রাশিয়ার পক্ষে তার তেল বেশি দামে বিক্রি করা খুব কঠিন করে তুলবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন যে, এই মূল্যসীমা রাশিয়ার রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।

এদিকে, রাশিয়ার নিম্নকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান লিওনিড স্লুটস্কি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে বলেছেন, ব্লকটি তার নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এটি চলমান বাজারের আইনও লঙ্ঘন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এই মূল্যসীমা নির্ধারণ ‘সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যযোগ্য’ হবে মন্তব্য করে ইইউ প্রধান ফন ডার লেয়েন টুইটারে বলেন, এটি আমাদের বিশ্বব্যাপী জ্বালানি শক্তির দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে, সারা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলোকে উপকৃত করবে।