ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাতের বেলায় বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস : 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বিভিন্ন দূতাবাসে রাত-বিরাতে ধরনা দেয়। তারা যত না জনগণের কাছে যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি রাতের বেলা দূতাবাসে গিয়ে ধরনা দেয়। বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে। হাতে পায়ে ধরে বলেন, আপনারা কিছু বলুন। সেই কারণে কেউ কেউ কোনও কোনও সময় বক্তব্য দেন। এই মন্তব্য করার জন্য বিএনপিই তাদের উৎসাহিত করেন।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের সমন্বয় সভায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিদেশিদের বিভিন্ন বক্তব্য বর্তমান সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করেছে পরপর তিনবার। কোনও বিদেশি শক্তি আমাদেরকে ক্ষমতায় বসায়নি, কোনও বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনও করতে পারে না। বিএনপি বিদেশিদের পদলেহন করে বলে তাদের মন্তব্য নিয়ে বিএনপির এত মাথা ব্যথা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় অবশ্যই কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যখন বিএনপিসহ তাদের দোসররা তাদের কাছে গিয়ে ধরনা দেয়, সেই কারণে কেউ কেউ কোনও কোনও সময় বক্তব্য দেন। এই মন্তব্য করার জন্য বিএনপিই তাদের উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, কোন বিদেশি কী বললো, কে কী করলো তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। যারা বিদেশি শক্তির পদলেহন করে তারা এরকম বক্তব্য রাখতে পারেন। আমির খসরু সাহেবরা বিদেশিদের পদলেহন করতো, সেজন্য বিদেশিরা কী বললো, না বললো সেটা নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি সারা দেশে নানা ধরনের সমাবেশ করছে। এই সমাবেশ করতে গিয়ে তারা চাঁদাবাজি করছে। চট্টগ্রামের সমাবেশের জন্য তারা ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছে। চট্টগ্রামের বহু ব্যবসায়ী আমাদের কাছে অভিযোগ করে বলেছে, তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপি চাঁদা আদায় করেছে। আবার জনসভার নামে তারা বিভিন্ন জায়গায় পিকনিকের মতো আয়োজন করছে।

তিনি বলেন, শনিবার (২৬ নভেম্বর) তাদের কুমিল্লায় জনসভা। সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাক্কু বলেছেন, ‘তার পরিবারের ৭৬টি ফ্ল্যাট নেতাকর্মীদের থাকার জন্য দিয়েছেন’’। প্রথমত ৭৬টি ফ্ল্যাট কীভাবে এলো সেটা একটা বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীদের এনে সেখানে তারা পিকনিকের আয়োজন করছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন শুক্রবার যশোরে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত জনস্রোত ছিল। চট্টগ্রামের জনসভাও পলোগ্রাউন্ড ছাড়িয়ে বহু বিস্তৃত হবে। পলোগ্রাউন্ডে যত মানুষ হবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ হবে পলোগ্রাউন্ডের বাইরে। লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটবে। সেই জনসভাকে সফল করার উদ্দেশ্যেই আজকে আমরা এখানে বসেছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান মিতা, দিদারুল আলম, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে মন্ত্রী চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বহির্বিভাগে সেবাদানের মধ্যে দিয়ে চালু হচ্ছে হৃদরোগের জন্য বিশেষায়িত এই হাসপাতাল।

চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে ও হার্ট ফাউন্ডেশনের সদস্য এস এম আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আকতার। এই হার্ট ফাউন্ডেশনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাতের বেলায় বিদেশি দূতাবাসে গিয়ে হাতে-পায়ে ধরছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিস : 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি বিভিন্ন দূতাবাসে রাত-বিরাতে ধরনা দেয়। তারা যত না জনগণের কাছে যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি রাতের বেলা দূতাবাসে গিয়ে ধরনা দেয়। বিদেশিদের হাতে-পায়ে ধরে। হাতে পায়ে ধরে বলেন, আপনারা কিছু বলুন। সেই কারণে কেউ কেউ কোনও কোনও সময় বক্তব্য দেন। এই মন্তব্য করার জন্য বিএনপিই তাদের উৎসাহিত করেন।

শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আগামী ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের সমন্বয় সভায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিদেশিদের বিভিন্ন বক্তব্য বর্তমান সরকারের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া জানান।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের ভিত্তি হচ্ছে জনগণ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠন করেছে পরপর তিনবার। কোনও বিদেশি শক্তি আমাদেরকে ক্ষমতায় বসায়নি, কোনও বিদেশি শক্তি বাংলাদেশের সরকার পরিবর্তনও করতে পারে না। বিএনপি বিদেশিদের পদলেহন করে বলে তাদের মন্তব্য নিয়ে বিএনপির এত মাথা ব্যথা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথমত বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় অবশ্যই কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলা উচিত। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও যখন বিএনপিসহ তাদের দোসররা তাদের কাছে গিয়ে ধরনা দেয়, সেই কারণে কেউ কেউ কোনও কোনও সময় বক্তব্য দেন। এই মন্তব্য করার জন্য বিএনপিই তাদের উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, কোন বিদেশি কী বললো, কে কী করলো তা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। যারা বিদেশি শক্তির পদলেহন করে তারা এরকম বক্তব্য রাখতে পারেন। আমির খসরু সাহেবরা বিদেশিদের পদলেহন করতো, সেজন্য বিদেশিরা কী বললো, না বললো সেটা নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বিএনপি সারা দেশে নানা ধরনের সমাবেশ করছে। এই সমাবেশ করতে গিয়ে তারা চাঁদাবাজি করছে। চট্টগ্রামের সমাবেশের জন্য তারা ব্যাপক চাঁদাবাজি করেছে। চট্টগ্রামের বহু ব্যবসায়ী আমাদের কাছে অভিযোগ করে বলেছে, তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিএনপি চাঁদা আদায় করেছে। আবার জনসভার নামে তারা বিভিন্ন জায়গায় পিকনিকের মতো আয়োজন করছে।

তিনি বলেন, শনিবার (২৬ নভেম্বর) তাদের কুমিল্লায় জনসভা। সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাক্কু বলেছেন, ‘তার পরিবারের ৭৬টি ফ্ল্যাট নেতাকর্মীদের থাকার জন্য দিয়েছেন’’। প্রথমত ৭৬টি ফ্ল্যাট কীভাবে এলো সেটা একটা বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীদের এনে সেখানে তারা পিকনিকের আয়োজন করছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন শুক্রবার যশোরে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। স্টেডিয়াম ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত জনস্রোত ছিল। চট্টগ্রামের জনসভাও পলোগ্রাউন্ড ছাড়িয়ে বহু বিস্তৃত হবে। পলোগ্রাউন্ডে যত মানুষ হবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি মানুষ হবে পলোগ্রাউন্ডের বাইরে। লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটবে। সেই জনসভাকে সফল করার উদ্দেশ্যেই আজকে আমরা এখানে বসেছি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী, সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান মিতা, দিদারুল আলম, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে মন্ত্রী চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বহির্বিভাগে সেবাদানের মধ্যে দিয়ে চালু হচ্ছে হৃদরোগের জন্য বিশেষায়িত এই হাসপাতাল।

চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে ও হার্ট ফাউন্ডেশনের সদস্য এস এম আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও চমেক অধ্যক্ষ ডা. সাহেনা আকতার। এই হার্ট ফাউন্ডেশনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ।