ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাজারহাটে ৭টি ফ্রিল্যান্সিং আইটি সেন্টারের সফল উদ্যোক্তা আতাউর

আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৫৮১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাসান মাসুদ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিষয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় পড়া লেখার খরচ জোগানোই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তিনি আউটসোর্সিংয়ে কাজ করে উপার্জনের বিষয় জানতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি আইটি সেন্টারের উদ্যোক্তা আতাউর রহমানের কাছ থেকে মাত্র ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তার সাথে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে ১৫থেকে ২০হাজার টাকা উপার্জন করছেন। এখন তিনি নিজের পড়া লেখার খরচ মেটানোর পরও প্রতিমাসে পরিবারকে সাহায্য করতে পারছেন।

মশিউর রহমান একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী কাম দপ্তরী। চাকুরীর সামান্য বেতনে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল তার জন্য। ৩মাস পূর্বে জানতে পারেন তারই এলাকার সন্তান আতাউরের অধীনে অনেক বেকার যুবক-যুবতি আউটসোর্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনিও প্রশিক্ষণ নিয়ে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাত্র ১৫দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আতাউর রহমানের সুকদেব আইটি সেন্টারে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করছেন তিনি। এতে চাকুরীর পাশাপাশি অবসর সময়ে কাজ করে প্রতি মাসে তিনি উপার্জন করছেন ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা।

আইটি উদ্যোক্তা সেন্টারের কর্মী কৃষ্ণ কমল রায় বলেন, আমি ২০১২ সনে এইচএসসি পাস করার পর বিভিন্ন জায়গায় চাকুরির জন্য ঘুরেও কোন চাকুরি সংগ্রহ করতে পারিনি। বাড়িতে অনেকটা বেকারত্ব নিয়েই সংসারের বোঝা হয়ে ছিলাম। পরে গত অক্টোবর মাসে আতাউর রহমানের কাছ থেকে আউট সোর্সিংয়ে কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কাজ শুরু করি। প্রথম মাসেই আমার উপার্জন হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।

একই গ্রামের এনামুল হক বলেন, আলিম পাস করার পর প্রায় ৮ বছর বেকার ছিলাম। সুকদেব আইটি সেন্টারে ডিজিটাল মার্কেটিং ও সার্চ আরবিটেজ এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে পারিবারিক কাজকর্মের পরও প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ঘন্টা করে কাজ করি। এতে মাসিক ১৫ থেকে ১৮হাজার উপার্জন হচ্ছে।

এভাবে একজন উদ্যোক্তার সাথে কাজ করে শতাধিক বেকার যুবক-যুবতি জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই আইটি কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী সুকদেব বাজারে। সুকদেব গ্রামের আতাউর রহমান এটি পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়,তার তত্তাবধায়নে রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী আইটি সেন্টারে ৩০জন, রতিগ্রাম টুঙ্গারকুটি ভেন্যুতে ১২ জন, নাজিমখাঁনে ১৫জন, মিলেরপাড়ে ১০ জন, কালিরহাটে ১৫ জন ও রাজারহাটের পূনঃকরে ৮জন সহ আরও ৭টি আইটি ভেন্যুতে ১১০জন যুবক-যুবতি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। এছাড়া তার মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহনসহ আউট সোর্সিংয়ের কাজ করে উপার্জন করছেন। সফল উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সুকদেব গ্রামের মোঃ আব্দুল হাইয়ের পুত্র।

সরেজমিন সুকদেব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ, অথচ ভিতরে অনেক মানুষের আলাপন। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, পুরো কক্ষ জুড়ে দুটি বড় টেবিল। দু’পাশে সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে যুবকরা ১৮-২০টি ল্যাপটপে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কর্মরতরা জানালেন, এটি একটি আইটি ভেন্যু। প্রতিদিন এখানে আতাউর রহমানের তত্তাবধায়নে ২০ জন যুবক আউট সোর্সিংয়ের কাজ করেন।

আউট সোর্সিংয়ের কর্মীরা জানান, বর্তমানে রাজারহাটের এই ৭টি আইটি ভেন্যুতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইউএসএ, ইউকে, সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, ইসরাইল এর ৭-৮টি কোম্পানীতে লিড জেনারেশন, সার্চ আরবিটেজ, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং মার্কেট প্লেস, ফাইবার ও আপওয়ার্ক এর কাজ চলছে। কাজের বিনিময়ে কর্মীরা একেকজন সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন বলে জানান।

এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অনেকেই আতাউর রহমানের কাছে অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করে সফল হয়েছেন। তাদের মধ্যে চট্রগ্রামের বন্দর থানার জুলেখা আক্তার, লালমনির হাট সদরের শুভ রায় এবং কুড়িগ্রাম সদরের ছাব্বির হাসান অন্যতম। অনেকে সফলতার পাশাপাশি নিজেও সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ।

মুঠো ফোনে বন্দর থানার জুলেখা আক্তার বলেন, আতাউর ভাইয়ের কাছ থেকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২বছর পূর্বে কাজ শুরু করেছি। আমি একজন গৃহীনি হিসেবে বাড়ির সব কাজ করার পরও এই কাজে ১০থেকে ১৫হাজার টাকা উপার্জন করে আসছি।

কুড়িগ্রামের ছাব্বির হাসান বলেন, আতাউর ভাইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কাজ করার পাশাপাশি ১০ জনের একটি টিম গঠন করেছি। তারাও আমার সাথে কাজ করেন। এতে প্রতিমাসে আমার ২০ থেকে ২৫হাজার টাকা উপার্জন হয়। ছাব্বির নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার আশা রাখেন।

আতাউর রহমান বলেন, আমি ২০১৬ সনে ঢাকা কলেজে এমএসএসে অধ্যায়নরত অবস্থায় আইডিবির স্কলারশীপের আওতায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ডিপ্লোমার একটি দু’বছরের কোর্স সম্পূন্ন করি। এরপর ২০১৮ সনে একটি আইটি ফার্মে চাকুরীতে যোগদান করি এবং অবসর সময়ে আউট সোর্সিংয়ের কাজ শুরু করি। ২০২২সনের জানুয়ারী মাসে নিজের পাশাপাশি আমার এলাকার বেকার যুবতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রথম উপজেলার চাঁন্দামারী বাজারে আইটি সেন্টার চালু করি। এরপর ধীরে ধীরে একজন দু’জন করে এখন ৭টি ভেন্যুতে ১১০জন যুবক-যুবতি জীবন-জীবিকার পথ খুজে পেয়েছেন। বর্তমানে আমার মাসিক উপার্জন লক্ষাধিক টাকা। নিজের এবং অন্যদের জন্য কিছু করতে পারায় আমি আনন্দিত।

সুকদেব বাজারের ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই আইটি সেন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকে এলাকার বহু বেকার যুবক এখানে কাজ করছেন, এটা প্রসংশার দাবি রাখে।

রাজারভিটা ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান বলেন, এখানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃস্টি হয়েছে, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তারা এখন নিজের এবং পরিবারের জন্য কিছু করতে পারছেন। এছাড়া যুবকরা যদি এমন কাজে ব্যস্ত থাকেন তাহলে মাদকাসক্ততা সহ সমস্ত প্রকার অপরাধ মূলক কাজ থেকে তারা বিরত থাকতে পারবেন।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজারহাটে ৭টি ফ্রিল্যান্সিং আইটি সেন্টারের সফল উদ্যোক্তা আতাউর

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৩

হাসান মাসুদ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিদ্যা বিষয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় পড়া লেখার খরচ জোগানোই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তিনি আউটসোর্সিংয়ে কাজ করে উপার্জনের বিষয় জানতে পারেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি আইটি সেন্টারের উদ্যোক্তা আতাউর রহমানের কাছ থেকে মাত্র ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তার সাথে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে ১৫থেকে ২০হাজার টাকা উপার্জন করছেন। এখন তিনি নিজের পড়া লেখার খরচ মেটানোর পরও প্রতিমাসে পরিবারকে সাহায্য করতে পারছেন।

মশিউর রহমান একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী কাম দপ্তরী। চাকুরীর সামান্য বেতনে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল তার জন্য। ৩মাস পূর্বে জানতে পারেন তারই এলাকার সন্তান আতাউরের অধীনে অনেক বেকার যুবক-যুবতি আউটসোর্সিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে তারই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনিও প্রশিক্ষণ নিয়ে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করবেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাত্র ১৫দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আতাউর রহমানের সুকদেব আইটি সেন্টারে আউট সোর্সিংয়ের কাজ করছেন তিনি। এতে চাকুরীর পাশাপাশি অবসর সময়ে কাজ করে প্রতি মাসে তিনি উপার্জন করছেন ১০ থেকে ১৫হাজার টাকা।

আইটি উদ্যোক্তা সেন্টারের কর্মী কৃষ্ণ কমল রায় বলেন, আমি ২০১২ সনে এইচএসসি পাস করার পর বিভিন্ন জায়গায় চাকুরির জন্য ঘুরেও কোন চাকুরি সংগ্রহ করতে পারিনি। বাড়িতে অনেকটা বেকারত্ব নিয়েই সংসারের বোঝা হয়ে ছিলাম। পরে গত অক্টোবর মাসে আতাউর রহমানের কাছ থেকে আউট সোর্সিংয়ে কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে কাজ শুরু করি। প্রথম মাসেই আমার উপার্জন হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।

একই গ্রামের এনামুল হক বলেন, আলিম পাস করার পর প্রায় ৮ বছর বেকার ছিলাম। সুকদেব আইটি সেন্টারে ডিজিটাল মার্কেটিং ও সার্চ আরবিটেজ এর উপর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে পারিবারিক কাজকর্মের পরও প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ঘন্টা করে কাজ করি। এতে মাসিক ১৫ থেকে ১৮হাজার উপার্জন হচ্ছে।

এভাবে একজন উদ্যোক্তার সাথে কাজ করে শতাধিক বেকার যুবক-যুবতি জীবন-জীবিকার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই আইটি কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পল্লী সুকদেব বাজারে। সুকদেব গ্রামের আতাউর রহমান এটি পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়,তার তত্তাবধায়নে রাজারহাট উপজেলার চাঁন্দামারী আইটি সেন্টারে ৩০জন, রতিগ্রাম টুঙ্গারকুটি ভেন্যুতে ১২ জন, নাজিমখাঁনে ১৫জন, মিলেরপাড়ে ১০ জন, কালিরহাটে ১৫ জন ও রাজারহাটের পূনঃকরে ৮জন সহ আরও ৭টি আইটি ভেন্যুতে ১১০জন যুবক-যুবতি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন। এছাড়া তার মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহনসহ আউট সোর্সিংয়ের কাজ করে উপার্জন করছেন। সফল উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সুকদেব গ্রামের মোঃ আব্দুল হাইয়ের পুত্র।

সরেজমিন সুকদেব বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ, অথচ ভিতরে অনেক মানুষের আলাপন। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, পুরো কক্ষ জুড়ে দুটি বড় টেবিল। দু’পাশে সারিবদ্ধ চেয়ারে বসে যুবকরা ১৮-২০টি ল্যাপটপে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কর্মরতরা জানালেন, এটি একটি আইটি ভেন্যু। প্রতিদিন এখানে আতাউর রহমানের তত্তাবধায়নে ২০ জন যুবক আউট সোর্সিংয়ের কাজ করেন।

আউট সোর্সিংয়ের কর্মীরা জানান, বর্তমানে রাজারহাটের এই ৭টি আইটি ভেন্যুতে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইউএসএ, ইউকে, সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, ইসরাইল এর ৭-৮টি কোম্পানীতে লিড জেনারেশন, সার্চ আরবিটেজ, এসইও, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং মার্কেট প্লেস, ফাইবার ও আপওয়ার্ক এর কাজ চলছে। কাজের বিনিময়ে কর্মীরা একেকজন সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন বলে জানান।

এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অনেকেই আতাউর রহমানের কাছে অনলাইন ভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করে সফল হয়েছেন। তাদের মধ্যে চট্রগ্রামের বন্দর থানার জুলেখা আক্তার, লালমনির হাট সদরের শুভ রায় এবং কুড়িগ্রাম সদরের ছাব্বির হাসান অন্যতম। অনেকে সফলতার পাশাপাশি নিজেও সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ।

মুঠো ফোনে বন্দর থানার জুলেখা আক্তার বলেন, আতাউর ভাইয়ের কাছ থেকে অনলাইনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২বছর পূর্বে কাজ শুরু করেছি। আমি একজন গৃহীনি হিসেবে বাড়ির সব কাজ করার পরও এই কাজে ১০থেকে ১৫হাজার টাকা উপার্জন করে আসছি।

কুড়িগ্রামের ছাব্বির হাসান বলেন, আতাউর ভাইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে কাজ করার পাশাপাশি ১০ জনের একটি টিম গঠন করেছি। তারাও আমার সাথে কাজ করেন। এতে প্রতিমাসে আমার ২০ থেকে ২৫হাজার টাকা উপার্জন হয়। ছাব্বির নিজেও একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার আশা রাখেন।

আতাউর রহমান বলেন, আমি ২০১৬ সনে ঢাকা কলেজে এমএসএসে অধ্যায়নরত অবস্থায় আইডিবির স্কলারশীপের আওতায় কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ডিপ্লোমার একটি দু’বছরের কোর্স সম্পূন্ন করি। এরপর ২০১৮ সনে একটি আইটি ফার্মে চাকুরীতে যোগদান করি এবং অবসর সময়ে আউট সোর্সিংয়ের কাজ শুরু করি। ২০২২সনের জানুয়ারী মাসে নিজের পাশাপাশি আমার এলাকার বেকার যুবতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে প্রথম উপজেলার চাঁন্দামারী বাজারে আইটি সেন্টার চালু করি। এরপর ধীরে ধীরে একজন দু’জন করে এখন ৭টি ভেন্যুতে ১১০জন যুবক-যুবতি জীবন-জীবিকার পথ খুজে পেয়েছেন। বর্তমানে আমার মাসিক উপার্জন লক্ষাধিক টাকা। নিজের এবং অন্যদের জন্য কিছু করতে পারায় আমি আনন্দিত।

সুকদেব বাজারের ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই আইটি সেন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকে এলাকার বহু বেকার যুবক এখানে কাজ করছেন, এটা প্রসংশার দাবি রাখে।

রাজারভিটা ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক ও স্থানীয় বাসিন্দা মহুবর রহমান বলেন, এখানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে যুবকদের কর্মসংস্থান সৃস্টি হয়েছে, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তারা এখন নিজের এবং পরিবারের জন্য কিছু করতে পারছেন। এছাড়া যুবকরা যদি এমন কাজে ব্যস্ত থাকেন তাহলে মাদকাসক্ততা সহ সমস্ত প্রকার অপরাধ মূলক কাজ থেকে তারা বিরত থাকতে পারবেন।

 

বাখ//আর