ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাজশাহীতে সমাজ সংস্কারক ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৯০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীতে বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,শিক্ষা প্রসারক,জনদরদী সমাজ সংস্কারক,প্রজা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী জননেতা ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে এ মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।
রাজশাহী প্রেস ক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠন দুটির সভাপতি ও ভাষাসৈনিক পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলা। স্মরণ সভায় ক্ষণজন্মা মহান এ ব্যক্তির জীবনী তুলে ধরেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান। ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র দৌহিত্র ও সাবেক ছাত্রনেতা বেলাল-ই-বাকি।
সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু,জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন  মিন্টু, সদস্য মো. সেলিম প্রমুখ।
এ সময় জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহবায়ক মো. ইউসুফ,সদস্য আরিফুল ইসলাম,খালেকুল আলম পল্টু, রফিকুল হাসান চন্দনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রকৃত জনসেবক ছিলেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা। তার অবদান অবশ্যই স্মরণীয়। তিনি পারিবারিকভাবে জমিদার না হলেও অনেকে জমিদারের চেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন জনগণের জন্য।যা অবশ্যই কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণীয়।
উল্লেখ্য, ১৮৯৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক গ্রামে জন্ম নেয়া ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা প্রসারক, জনদরদী সমাজ সংস্কারক, প্রজা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী জননেতা।১৯১০ সালে তিনি যখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র, তখন নিজ উদ্যোগে নিজ গ্রামে নারী শিক্ষার জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ১৯১৩ সালে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্টিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১৫ সালে রাজশাহী কলেজ হতে প্রথম বিভাগে আই.এ পাশ করেন ও একই কলেজ হতে ১৯১৭ সালে প্রথম শ্রেণী ও ডিষ্টিংসন সহ বি.এ পাশ করেন তিনি।
জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের চাকরী পরিহার করে জনসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা। ১৯২৬ সালে দূর্লভপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে প্রথম ব্যালটের মাধ্যমে তৎকালীন দক্ষিন মালদা আসন হতে এম.এল.এ নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনোনীত হন। দীর্ঘ ৯ বছর অর্থাৎ ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যান।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট এর নৌকার প্রার্থী হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ আসন হইতে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা এবং পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী হিসেবে নির্বাচিত হন।শের-ই-বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল তার।ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ১৯৬৬ সালের ৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।তাকে বিখ্যাত আদিনা কলেজ চত্বরে সমাহিত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীতে সমাজ সংস্কারক ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আপডেট সময় : ০৫:১৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২
রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীতে বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,শিক্ষা প্রসারক,জনদরদী সমাজ সংস্কারক,প্রজা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী জননেতা ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। রবিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে এ মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়।
রাজশাহী প্রেস ক্লাব ও জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠন দুটির সভাপতি ও ভাষাসৈনিক পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান। সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আসলাম-উদ-দৌলা। স্মরণ সভায় ক্ষণজন্মা মহান এ ব্যক্তির জীবনী তুলে ধরেন জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান। ভার্চুয়ালি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা‘র দৌহিত্র ও সাবেক ছাত্রনেতা বেলাল-ই-বাকি।
সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান বাবু,জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন  মিন্টু, সদস্য মো. সেলিম প্রমুখ।
এ সময় জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের আহবায়ক মো. ইউসুফ,সদস্য আরিফুল ইসলাম,খালেকুল আলম পল্টু, রফিকুল হাসান চন্দনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রকৃত জনসেবক ছিলেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা। তার অবদান অবশ্যই স্মরণীয়। তিনি পারিবারিকভাবে জমিদার না হলেও অনেকে জমিদারের চেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন জনগণের জন্য।যা অবশ্যই কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণীয়।
উল্লেখ্য, ১৮৯৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক গ্রামে জন্ম নেয়া ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বলিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষা প্রসারক, জনদরদী সমাজ সংস্কারক, প্রজা আন্দোলনের অন্যতম সংগ্রামী জননেতা।১৯১০ সালে তিনি যখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র, তখন নিজ উদ্যোগে নিজ গ্রামে নারী শিক্ষার জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।
ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ১৯১৩ সালে প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্টিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১৫ সালে রাজশাহী কলেজ হতে প্রথম বিভাগে আই.এ পাশ করেন ও একই কলেজ হতে ১৯১৭ সালে প্রথম শ্রেণী ও ডিষ্টিংসন সহ বি.এ পাশ করেন তিনি।
জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের চাকরী পরিহার করে জনসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করেন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা। ১৯২৬ সালে দূর্লভপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৩৭ সালে প্রথম ব্যালটের মাধ্যমে তৎকালীন দক্ষিন মালদা আসন হতে এম.এল.এ নির্বাচিত হন এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মনোনীত হন। দীর্ঘ ৯ বছর অর্থাৎ ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যান।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট এর নৌকার প্রার্থী হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জ আসন হইতে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন ইদ্রিস আহমেদ মিঞা এবং পার্লামেন্টারী সেক্রেটারী হিসেবে নির্বাচিত হন।শের-ই-বাংলা এ.কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল তার।ইদ্রিস আহমেদ মিঞা ১৯৬৬ সালের ৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।তাকে বিখ্যাত আদিনা কলেজ চত্বরে সমাহিত করা হয়।