ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনৈতিক: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৭৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন আর রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনৈতিক। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ হাসিনা মেলা প্রাঙ্গণে আসেন। পরে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এসময় বাংলাদেশের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবকে দায়ী করেন সরকার প্রধান। বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশীয় পণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং তার ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজে বের করতে হবে। একটা পণ্য (তৈরি পোশাক) নিয়ে বসে থাকলে হবে না।

দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের রপ্তানিও বাড়ছে। এই রপ্তানি দিন দিন আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।‘আমদানি রপ্তানিতে অবশ্যই একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রপ্তানি যে হারে হয়, সে হারে রিটার্ন আসে না। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’এবারের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে হস্তশিল্পকে। এর ফলে নারীর কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না তা আবারো প্রমাণ হয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আবারো জয়ী করায় জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও রাজধানীতে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার না ঘটলে দেশ এগোতে পারে না। বলেন, যুদ্ধ-করোনা এসব বাধা পেরিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য সচল রাখতে তার সরকার বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে বলেও মন্তব্য তার। জানান, এখন আর রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনীতি নির্ভর। এ লক্ষ্যেই বিদেশি মিশনগুলোকে কাজ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এনিয়ে তিনবার বাণিজ্যমেলা হচ্ছে এই এক্সিবিশন সেন্টারে। প্রতি বছর জানুয়ারির একদম শুরুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা শুরু হলেও এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে পেছানো হয়েছিল। এবারে মেলার মূল গেট সাজানো হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর আদলে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৫১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এর মধ্যে ১৫-১৮টি বিদেশি স্টল রয়েছে।

এবার ছোটদের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২৫ টাকা, বড়দের ৫০ টাকা। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় কুড়িল থেকে থাকছে বিশেষ বাস সার্ভিস। ফার্মগেট থেকেও বাস থাকবে মেলায় যাওয়ার।

দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন এই বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়।

এর আগে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনৈতিক: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখন আর রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনৈতিক। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর পূর্বাচলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শেখ হাসিনা মেলা প্রাঙ্গণে আসেন। পরে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এসময় বাংলাদেশের বাজারে অস্থিতিশীলতার জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবকে দায়ী করেন সরকার প্রধান। বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশীয় পণ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং তার ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নতুন নতুন পণ্য ও বাজার খুঁজে বের করতে হবে। একটা পণ্য (তৈরি পোশাক) নিয়ে বসে থাকলে হবে না।

দেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতের রপ্তানিও বাড়ছে। এই রপ্তানি দিন দিন আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।‘আমদানি রপ্তানিতে অবশ্যই একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রপ্তানি যে হারে হয়, সে হারে রিটার্ন আসে না। এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’এবারের বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে হস্তশিল্পকে। এর ফলে নারীর কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না তা আবারো প্রমাণ হয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আবারো জয়ী করায় জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও রাজধানীতে পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার না ঘটলে দেশ এগোতে পারে না। বলেন, যুদ্ধ-করোনা এসব বাধা পেরিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য সচল রাখতে তার সরকার বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে বলেও মন্তব্য তার। জানান, এখন আর রাজনৈতিক নয়, কূটনীতি হবে অর্থনীতি নির্ভর। এ লক্ষ্যেই বিদেশি মিশনগুলোকে কাজ করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এনিয়ে তিনবার বাণিজ্যমেলা হচ্ছে এই এক্সিবিশন সেন্টারে। প্রতি বছর জানুয়ারির একদম শুরুতে ঢাকা আন্তর্জাতিক মেলা শুরু হলেও এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে পেছানো হয়েছিল। এবারে মেলার মূল গেট সাজানো হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পদ্মা সেতুর আদলে।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৫১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এর মধ্যে ১৫-১৮টি বিদেশি স্টল রয়েছে।

এবার ছোটদের টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ২৫ টাকা, বড়দের ৫০ টাকা। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধায় কুড়িল থেকে থাকছে বিশেষ বাস সার্ভিস। ফার্মগেট থেকেও বাস থাকবে মেলায় যাওয়ার।

দেশের পণ্য প্রদর্শনীর সব থেকে বড় আয়োজন এই বাণিজ্য মেলা। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি প্রতিবছর ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, হংকং, সিঙ্গাপুর, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য শোভা পায় এ মেলায়।

এর আগে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতো।