শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে কুখ্যাত ভূমি প্রতারক ফারজানাসহ আটক-৩ রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্বিরাত সম্মেলন কলমাকান্দায় সচেতনতা তৈরিতে বৈঠক শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী পিঠা উৎসব শুরু শ্রীমঙ্গলে টপসয়েল কাটার দায়ে ১ জনের ৫০ হাজার টাকা দন্ড রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্ঘটনা অনেক বেড়েছে : সংসদে হানিফ সোনার চামচে রাজ-পরীমণির ছেলের মুখে ভাত! বাংলাদেশ সফরে ইংল্যান্ডের দল ঘোষণা চীন বাংলাদেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অংশীদার : বাণিজ্যমন্ত্রী স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সরকার কাজ করছে : স্পিকার হিরো আলমের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই : ইসি রাশেদা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০৩১৬ : সংসদে শিক্ষামন্ত্রী রাজউকে অনলাইনে নকশার আবেদন ৩৪ হাজার : সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি পেল বাংলাদেশ নোবিপ্রবিতে আট দাবিতে তৃতীয় দিনও আন্দোলন অব্যহত

রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ : মির্জা ফখরুল

রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ : মির্জা ফখরুল
বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগ দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষতি ও ধ্বংস সাধন করেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেক কষ্ট ও ঘাত-প্রতিঘাতের পরেও ১৯৯১ সালের পর একটা রাজনৈতিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সেটাকে নষ্ট করার জন্য ১৭৩ দিন হরতাল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছে। তাদের সঙ্গে সে সময় জাতীয় পার্টি ও জামায়াতও ছিল। আমরা সব সময় জনগণের জন্য রাজনীতি করি। জনগণের পক্ষে কাজ করি। তাই এক রাতে সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পাস করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে আমরা হেরে গেছি। কিন্তু সেই ব্যবস্থার পরিবর্তন করিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ৪ বার নির্বাচন হয়েছে, সেগুলা সুষ্ঠু এবং অবাধ বলেছে সবাই। কিন্তু যখনই আওয়ামী লীগ দেখেছে, ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তারা এতো খারাপ কাজ করতে শুরু করেছে, এখন আর জনগণ ভোট দেবে না, তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দিল। তাদের সাহায্য করলেন বিচারপতি খায়রুল হক। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দলীয়করণ করল। এভাবে তারা আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোও ধ্বংস করল।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী খুব কষ্ট করে বলেছেন, পয়সাই নেই, বিদ্যুৎ দেব কোথা থেকে? আরে কিছুদিন আগেই তো বললেন, পয়সার কোনো অভাব নেই! ৪২ বিলিয়ন রিজার্ভ আছে। সেটা এখন গেলো কোথায়? অসহায় এ উপদেষ্টা বলেছেন, বিদ্যুৎ আমি দিনে দিতে পারব না, রাতে দেব। পত্রিকা কার্টুন দিয়েছে, অসহায় উপদেষ্টা, উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। এ হচ্ছে তাদের উন্নয়ন। এই হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। এ হচ্ছে বাংলাদেশকে বিশ্বের মানুষ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে। এই আওয়ামী লীগ বারবার বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে, ধ্বংস করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাতে কলমে কাজ করেছেন। তারই উত্তরসূরি খালেদা জিয়া বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকা তুলে ধরে সারাবাংলা ঘুরে বেরিয়েছেন। ৯ বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এখন তিনি গৃহবন্দি। পতাকা কিন্তু থেমে নেই। আজ সেই পতাকা তুলে নিয়েছেন তাদেরই সন্তান তারেক রহমান। তিনি ৮ হাজার মাইল দূরে থেকেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার নেতৃত্বে দেশের জনগণ জেগে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আওয়ামী লীগের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আজকে ৩৫ লাখ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অসংখ্য সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীকে আটক করা হয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেই বাংলাদেশ চেয়েছিলেন সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গড়বো। সুশাসন ও সততার মধ্য দিয়ে দেশকে পরিচালনা করবো। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে বর্তমান যুদ্ধে জয়লাভ করবো। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আজ দেশ না কি বিদ্যুতের উৎপাদনে ভেসে যাচ্ছে। কেন এত লোডশেডিং? তো এত বিদ্যুৎ গেলো কোথায়? সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা কেন বললেন দিনে বাতি বন্ধ করতে হবে? বাংলাদেশ না কি বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পন্ন? হাতিরঝিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে উৎসব পালন করা হয়েছিল। এতো বিদ্যুৎ গেলো কোথায়?

জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভুইয়া প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *