ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রাখাইনে ৮০ সেনা হারিয়েছে জান্তা: আরাকান আর্মি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৩০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাখাইনের উপকূলীয় শহর রামরি পুনর্দখলে আকাশপথে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৮০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। তাদের দাবি, তিন দিনের যুদ্ধে ওই সেনারা নিহত হয়েছে।

থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি বলছে, আরাকান আর্মিদের রুখতে গত শনিবার চারটি হেলিকপ্টারে রামরি শহরে ১২০ জন সেনা সদস্যকে পাঠানো হয়েছিল। এই সেনা সদস্যরা আইয়ারওয়দি অঞ্চলের কিউনপও শহরের ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৬ এবং রাখাইনের আন শহরের লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৭৩ এ কর্মরত ছিলেন।

আরাকান আর্মি বলছে, গত শনিবারের যুদ্ধে এদের মধ্যে ৬০ জন নিহত হয়। এ সময় সেনা সদস্যদের সহায়তায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। সেনাদের মৃতদেহের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। আর গত সোমবার পালানোর সময় বাকি ২০ জনের মৃত্যু হয়।

আরাকান আর্মির দাবি, তারা জান্তা সরকারের হারবিন ওয়াই–১২ পরিবহন উড়োজাহাজ থেকে ফেলা বিপুল গোলাবারুদ ও খাদ্য সামগ্রী জব্দ করেছে।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে উত্তর রাখাইন ও প্রতিবেশী দক্ষিণ চিন রাজ্যে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সেনা সদরদপ্তরের দখল নিয়েছে তারা।

সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ, আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে।

আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী–বিজিপি, সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের ৩৩০ কর্মকর্তা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে সমুদ্রপথে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

কয়েকদিন আগে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কাছের পোনাজিউন পুলিশ স্টেশন দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। পোনাজিউনের অবস্থান সিত্তের ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ইয়াংগুন–সিত্তে সড়কের পাশে।

এছাড়াও সম্প্রতি আরাকান আর্মি পউকতাও শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই শহরটিও সিত্তের কাছে। রাখাইনের গণমাধ্যমগুলো বলছে, আরাকান আর্মি সিত্তে সামরিক কমান্ডকে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানিয়েছে, নতুবা পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

এদিকে দেশটির উত্তর শান রাজ্যের ৭টি শহরে আগামী বছরের মধ্যে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আরেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ)। পিএসএলএফ হলো টাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) রাজনৈতিক শাখা। গোষ্ঠীটি ১৯৯২ সালে থাইল্যান্ড সীমান্তে গঠিত হয়।

টিএনএলএ দেশটির ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য। জোটটির অন্যতম সদস্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এবং আরাকান আর্মি। এই জোট গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে উত্তর শান রাজ্য থেকে তাদের তৎপরতা শুরু করে। তাদের হাতে এখন পর্যন্ত জান্তার ২০ শহর ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের পতন হয়েছে।

ইরাবতি বলছে, টিএনএলএ নামসান, মানটং, নামকেম, কুতকাই, নামতু, মংলন এবং মঙ্গজিউয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাখাইনে ৮০ সেনা হারিয়েছে জান্তা: আরাকান আর্মি

আপডেট সময় : ১১:০৯:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাখাইনের উপকূলীয় শহর রামরি পুনর্দখলে আকাশপথে আসা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৮০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। তাদের দাবি, তিন দিনের যুদ্ধে ওই সেনারা নিহত হয়েছে।

থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইরাবতি বলছে, আরাকান আর্মিদের রুখতে গত শনিবার চারটি হেলিকপ্টারে রামরি শহরে ১২০ জন সেনা সদস্যকে পাঠানো হয়েছিল। এই সেনা সদস্যরা আইয়ারওয়দি অঞ্চলের কিউনপও শহরের ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৬ এবং রাখাইনের আন শহরের লাইট ইনফ্যানট্রি ব্যাটালিয়ন ৩৭৩ এ কর্মরত ছিলেন।

আরাকান আর্মি বলছে, গত শনিবারের যুদ্ধে এদের মধ্যে ৬০ জন নিহত হয়। এ সময় সেনা সদস্যদের সহায়তায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। সেনাদের মৃতদেহের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। আর গত সোমবার পালানোর সময় বাকি ২০ জনের মৃত্যু হয়।

আরাকান আর্মির দাবি, তারা জান্তা সরকারের হারবিন ওয়াই–১২ পরিবহন উড়োজাহাজ থেকে ফেলা বিপুল গোলাবারুদ ও খাদ্য সামগ্রী জব্দ করেছে।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর থেকে উত্তর রাখাইন ও প্রতিবেশী দক্ষিণ চিন রাজ্যে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। গোষ্ঠীটি বলছে, রাখাইনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সেনা সদরদপ্তরের দখল নিয়েছে তারা।

সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহীদের এ সংঘর্ষে বাংলাদেশ সীমান্তেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা গোলার আঘাতে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। দিনভর সংঘর্ষ, আর ওপার থেকে ভেসে আসা তীব্র গোলা–বারুদের শব্দে আতঙ্ক কাটছে না মিয়ানমার সীমান্তে থাকা বাংলাদেশি জনপদগুলোতে।

আরাকান আর্মির সঙ্গে চলমান সংঘাতে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী–বিজিপি, সেনা সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের ৩৩০ কর্মকর্তা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই ধাপে সমুদ্রপথে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।

কয়েকদিন আগে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কাছের পোনাজিউন পুলিশ স্টেশন দখলে নেওয়ার দাবি করেছে। পোনাজিউনের অবস্থান সিত্তের ৩০ কিলোমিটার উত্তরে ইয়াংগুন–সিত্তে সড়কের পাশে।

এছাড়াও সম্প্রতি আরাকান আর্মি পউকতাও শহরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এই শহরটিও সিত্তের কাছে। রাখাইনের গণমাধ্যমগুলো বলছে, আরাকান আর্মি সিত্তে সামরিক কমান্ডকে আত্মসমর্পনের আহ্বান জানিয়েছে, নতুবা পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।

এদিকে দেশটির উত্তর শান রাজ্যের ৭টি শহরে আগামী বছরের মধ্যে সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে আরেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট (পিএসএলএফ)। পিএসএলএফ হলো টাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) রাজনৈতিক শাখা। গোষ্ঠীটি ১৯৯২ সালে থাইল্যান্ড সীমান্তে গঠিত হয়।

টিএনএলএ দেশটির ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য। জোটটির অন্যতম সদস্য মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এবং আরাকান আর্মি। এই জোট গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে উত্তর শান রাজ্য থেকে তাদের তৎপরতা শুরু করে। তাদের হাতে এখন পর্যন্ত জান্তার ২০ শহর ও চীন সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটের পতন হয়েছে।

ইরাবতি বলছে, টিএনএলএ নামসান, মানটং, নামকেম, কুতকাই, নামতু, মংলন এবং মঙ্গজিউয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।