ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ডে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদকের বসতঘর পুড়ে ছাই

রাহাদ সুমন, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪
  • / ৬০৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বানারীপাড়ায় গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেব কুমার সরকারের বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটির দাবি।

 

জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর সৈয়দ আজিজুল হক কলেজের অধ্যাপক দেব কুমার সরকার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার জন্য বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করেন। বানারীপাড়া  পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তার বাড়ির টিন-কাঠের চৌ-চালা বসতঘরে তার বৃদ্ধা মা আলো রাণী (৭৫)ও কাকীমা ছায়া রাণী (৭০) বসবাস করেন। প্রতি শুক্র ও শনিবার অধ্যাপক দেব কুমার সরকার বানারীপাড়ার ওই বাড়িতে এসে থাকেন। কলেজ পড়ুয়া মেয়ের কোচিংয়ে সেমিনার থাকায় শুক্রবার তারা বানারীপাড়ায় আসতে পারেননি। ওই দিন রাত আড়াই টার দিকে প্রকৃতির ডাকে তার বৃদ্ধা মা আলো রাণীর ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় দেখতে পান  ঘরের বারান্দার কর্ণারে আগুন জ্বলছে। এ দৃশ্য দেখে ঘরের আরেক বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা তার দেবরের স্ত্রী ছায়া রাণীকে তিনি ডেকে  তোলেন । তারা  দু’জন তাৎক্ষনিক ঘর থেকে বোিড়য়ে গিয়ে বাড়ির অন্যদের ডেকে তোলেন। ডাক শুনে বাহিরে এসে ওই বসত ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে এসময় বাড়ির লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসে ফোন দেন। ঘটনাস্থলের আনুমানিক ৩০০ গজের মধ্যে থাকা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আসতে বিলম্ব দেখে তারা অফিসে ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই আসবারপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বসত ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ ব্যপারে ক্ষতিগ্রস্থ অধ্যাপক দেব কুমার সরকার শনিবার সকালে বানারীপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়ের কোচিংয়ে সেমিনার থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে শুক্রবার বানারীপাড়ার বাড়িতে আসতে পারেননি। অল্পের জন্য তার মা ও কাকীমার জীবন রক্ষা পেয়েছে। এক সঙ্গে পুরো ঘরটি দাউ দাউ করে যেভাবে জ্বলে ছাই হয়ে গেছে তা থেকে এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি পরিবার নিয়ে বাড়িতে থাকলে হয়তো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তিনি শুক্র ও শনিবার বাড়িতে আসেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনাও শুক্রবার রাতে তাই হয়তো তিনি পরিবারসহ ‘টার্গেট’ ছিলেন। এ ব্যপারে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসারের দায়িত্বে থাকা মো. আনোয়ার হোসেন বিলম্বে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ফায়ার সার্ভিস অফিসে লোকজন এসে অগ্নিকান্ডের বিষয়টি জানালে তাদের সঙ্গে নিয়ে রাত ৩টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে যান। ওই বসত ঘরটি একসঙ্গে যেভাবে জ্বলে ভস্মিভূত হয়েছে তা রহস্যজনক। বিদ্যুতের শর্টশার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইনুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে শনিবার সকালে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা.অন্তরা হালদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ডে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সম্পাদকের বসতঘর পুড়ে ছাই

আপডেট সময় : ০৭:২৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মার্চ ২০২৪

বরিশালের বানারীপাড়ায় গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকান্ডে উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক দেব কুমার সরকারের বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটির দাবি।

 

জানা গেছে, উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর সৈয়দ আজিজুল হক কলেজের অধ্যাপক দেব কুমার সরকার ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার জন্য বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করেন। বানারীপাড়া  পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তার বাড়ির টিন-কাঠের চৌ-চালা বসতঘরে তার বৃদ্ধা মা আলো রাণী (৭৫)ও কাকীমা ছায়া রাণী (৭০) বসবাস করেন। প্রতি শুক্র ও শনিবার অধ্যাপক দেব কুমার সরকার বানারীপাড়ার ওই বাড়িতে এসে থাকেন। কলেজ পড়ুয়া মেয়ের কোচিংয়ে সেমিনার থাকায় শুক্রবার তারা বানারীপাড়ায় আসতে পারেননি। ওই দিন রাত আড়াই টার দিকে প্রকৃতির ডাকে তার বৃদ্ধা মা আলো রাণীর ঘুম ভেঙ্গে গেলে তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় দেখতে পান  ঘরের বারান্দার কর্ণারে আগুন জ্বলছে। এ দৃশ্য দেখে ঘরের আরেক বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা তার দেবরের স্ত্রী ছায়া রাণীকে তিনি ডেকে  তোলেন । তারা  দু’জন তাৎক্ষনিক ঘর থেকে বোিড়য়ে গিয়ে বাড়ির অন্যদের ডেকে তোলেন। ডাক শুনে বাহিরে এসে ওই বসত ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে এসময় বাড়ির লোকজন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসে ফোন দেন। ঘটনাস্থলের আনুমানিক ৩০০ গজের মধ্যে থাকা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আসতে বিলম্ব দেখে তারা অফিসে ছুটে যান। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই আসবারপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বসত ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ ব্যপারে ক্ষতিগ্রস্থ অধ্যাপক দেব কুমার সরকার শনিবার সকালে বানারীপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়ের কোচিংয়ে সেমিনার থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে শুক্রবার বানারীপাড়ার বাড়িতে আসতে পারেননি। অল্পের জন্য তার মা ও কাকীমার জীবন রক্ষা পেয়েছে। এক সঙ্গে পুরো ঘরটি দাউ দাউ করে যেভাবে জ্বলে ছাই হয়ে গেছে তা থেকে এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে বলে তার ধারণা। তিনি পরিবার নিয়ে বাড়িতে থাকলে হয়তো বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। তিনি শুক্র ও শনিবার বাড়িতে আসেন। অগ্নিকান্ডের ঘটনাও শুক্রবার রাতে তাই হয়তো তিনি পরিবারসহ ‘টার্গেট’ ছিলেন। এ ব্যপারে বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ষ্টেশন অফিসারের দায়িত্বে থাকা মো. আনোয়ার হোসেন বিলম্বে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ফায়ার সার্ভিস অফিসে লোকজন এসে অগ্নিকান্ডের বিষয়টি জানালে তাদের সঙ্গে নিয়ে রাত ৩টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে যান। ওই বসত ঘরটি একসঙ্গে যেভাবে জ্বলে ভস্মিভূত হয়েছে তা রহস্যজনক। বিদ্যুতের শর্টশার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বলেও তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাইনুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে শনিবার সকালে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা.অন্তরা হালদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে সহায়তার আশ্বাস দেন।