ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রপ্তানি বন্ধের খবরে এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ

মোঃ আবু শহীদ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / ৪৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রপ্তানি বন্ধের খবরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিন ব্যবসায়ীকে ৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

গত শুক্রবার (৮ডিসেম্বর) যে পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে তা,শনিবার (৯ডিসেম্বর) সকাল থেকেই দ্বিগুণ দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে মশলা জাতীয় এই পণ্যটি ক্রয় করতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

জানা যায়,২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুলবাড়ী পৌর বাজারে পাইকারী এবং খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। একরাতের ব্যবধানেই এক লাফে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে পেঁয়াজের।

শনিবার সকালে পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার সকালেই ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা কেজি পর্যন্ত, যা একদিন আগেও ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। এছাড়াও পাবনা ও তাহেরপুরের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত একদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা করে। তবে শনিবার সকালেই পাল্টে যায় পেঁয়াজের বাজারের দৃশ্যপট। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে।

পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আসাদুজ্জামান, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান,ভারতীয় পেঁয়াজ একদিন আগেও ১০০ টাকা কেজি কিনেছি, আজ কিনতে হয়েছে ১৮০ টাকা করে। হঠাৎ একরাতের ব্যবধানে কীভাবে এত দাম বৃদ্ধি পেল তা বুঝে আসছে না। বিষয়টি প্রশানের নজরদারী প্রয়োজন।

এদিকে পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শাহজামাল, হারুনুর রশীদ ও মমতাজ জানান, আমরা পাইকারী বাজারেই বেশী দামে কিনছি সেই অনুয়ায়ী ৫/১০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের হাতে নেই।
অপরদিকে পৌর বাজারের পাইকারী বাজারে গিয়ে কথা হয় আতাউর, মিহির, বক্কর, জলিলের সাথে তারা বলেন, এলসি বন্ধ এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বেশী হয়ে গেছে। তাছাড়া হিলি স্থলবন্দর থেকেই বেশী দামে কিনতে হচ্ছে এবং সেই অনুপাতেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শনিবার বেলা ১২টায় পৌর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তিন ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, পেঁয়াজ ক্রয়ের চালান (রশিদ) না থাকায় এবং মূল্য বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকে ২ হাজার টাকা, শাহাজামালকে ২ হাজার এবং শ্যামলকে এক হাজার টাকা জরিমান করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামহ্ তমাল বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং করা হচ্ছে।

 

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

রপ্তানি বন্ধের খবরে এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ

আপডেট সময় : ০৭:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৩

রপ্তানি বন্ধের খবরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তিন ব্যবসায়ীকে ৫হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী।

গত শুক্রবার (৮ডিসেম্বর) যে পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে তা,শনিবার (৯ডিসেম্বর) সকাল থেকেই দ্বিগুণ দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এতে ভোক্তা পর্যায়ে মশলা জাতীয় এই পণ্যটি ক্রয় করতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

জানা যায়,২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত মসলা জাতীয় পণ্য পেঁয়াজ ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুলবাড়ী পৌর বাজারে পাইকারী এবং খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। একরাতের ব্যবধানেই এক লাফে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে পেঁয়াজের।

শনিবার সকালে পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়, শুক্রবার সকালেই ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকা কেজি পর্যন্ত, যা একদিন আগেও ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। এছাড়াও পাবনা ও তাহেরপুরের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত একদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা করে। তবে শনিবার সকালেই পাল্টে যায় পেঁয়াজের বাজারের দৃশ্যপট। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা বাজারে ১৮০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশী পেয়াঁজ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকায় তা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা কেজি দরে।

পৌর বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আসাদুজ্জামান, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা জানান,ভারতীয় পেঁয়াজ একদিন আগেও ১০০ টাকা কেজি কিনেছি, আজ কিনতে হয়েছে ১৮০ টাকা করে। হঠাৎ একরাতের ব্যবধানে কীভাবে এত দাম বৃদ্ধি পেল তা বুঝে আসছে না। বিষয়টি প্রশানের নজরদারী প্রয়োজন।

এদিকে পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী শাহজামাল, হারুনুর রশীদ ও মমতাজ জানান, আমরা পাইকারী বাজারেই বেশী দামে কিনছি সেই অনুয়ায়ী ৫/১০ টাকা লাভে বিক্রি করছি। দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমাদের হাতে নেই।
অপরদিকে পৌর বাজারের পাইকারী বাজারে গিয়ে কথা হয় আতাউর, মিহির, বক্কর, জলিলের সাথে তারা বলেন, এলসি বন্ধ এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম বেশী হয়ে গেছে। তাছাড়া হিলি স্থলবন্দর থেকেই বেশী দামে কিনতে হচ্ছে এবং সেই অনুপাতেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে শনিবার বেলা ১২টায় পৌর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তিন ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, পেঁয়াজ ক্রয়ের চালান (রশিদ) না থাকায় এবং মূল্য বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ী কামরুজ্জামানকে ২ হাজার টাকা, শাহাজামালকে ২ হাজার এবং শ্যামলকে এক হাজার টাকা জরিমান করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামহ্ তমাল বলেন, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং করা হচ্ছে।

 

বাখ//আর