ঢাকা ১০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

রংপুরকে উড়িয়ে দিলো সাকিবের বরিশাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভিনি, ভিডি, ভিসি এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রে যেন কথাটা হুবহু মিলে যাচ্ছে। ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ম্যাচ খেলে ঢাকায় ছুটেছিলেন পরিবারের কাছে। পরিবারকে সময়, যুক্তরাষ্ট্রে বিদায় ও ব্যক্তিগত কাজ সেরে আজ সকালেই আবার ফিরেছেন বন্দরনগরীতে।

রাতে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ। মাঠে নেমেই আগুণে ফর্মে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক। সবশেষ ম্যাচে ৮১ রান করেছিলেন ৪৫ বলে। ৪৩ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৯। আগ্রাসন বাড়িয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। ৯ চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি বলে দেয় বড় কিছুর আশায় এখনো ক্ষুধার্থ বাংলাদেশের সুপারস্টার।

সাকিবের সঙ্গে একই মঞ্চে ঝড় তোলেন ইফতেখার আহমেদ। ৪৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬ চার ও ৯ ছক্কায় পেয়ে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার।

ফরচুন বরিশালের অর্ধেক কাজ সেরে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদ। দুজন মিলে গড়লেন। এর মধ্যে একজন পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। জবাব দিতে নেমে রংপুর রাইডার্স শুরুতেই হারিয়ে ফেললো বেশ কয়েকটি উইকেট। শেষদিকে শামীম হাসানের ব্যাটে রান এলেও পায়নি জয়ের দেখা।

২৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য, টি-টোয়েন্টিতে তাড়া করা তো প্রায় অসম্ভবই। রংপুর রাইডার্স তাড়া করতে পারলোও না। হারলো বড় ব্যবধানে। রংপুরকে ৬৭ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানটা আরও শক্ত করেছে সাকিব আল হাসানের দল। সাকিবদের বড় রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৭১ রানে থামে শোয়েব মালিকের দল। লজ্জাটা আরও বড় হতে পারতো। ৭৮ রানেই যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা।

বিশ্ব রেকর্ড গড়া ম‌্যাচে ইফতেখার-সাকিবের তাণ্ডব, জয় বরিশালের

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বরিশাল কাছে ৬৭ রানে হেরেছে রংপুর। আগে ব্যাট করে চার উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রানের সংগ্রহ গড়ে ফরচুন বরিশাল। বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের সংগ্রহ এটি। জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানের বেশি করতে পারেনি রংপুর।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম চার ওভারে ৩০ রান তুলে বরিশাল। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই এনামুল হক বিজয়ের উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ। সমান ১ চার ও ছক্কায় ৮ বলে ১৪ রান করে সায়েম আয়ুবীর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। ওই ওভারেই আরও একটি উইকেট তুলে নেন রউফ। এবার ৩ বলে ০ রান করা ইবরাহিম জাদরানের দারুণ এক ক্যাচ নেন নাঈম শেখ।

পরের ওভারে এসে আবারও জোড়া উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ষষ্ঠ ওভারে প্রথমে ২০ বলে ২৪ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট নেন তিনি। এরপর মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বরিশাল।

কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদ ঝড় তুলেন রীতিমতো। এর মধ্যে ইফতেখারের ক্যাচ ফেলেন রনি তালুকদার। সাকিব-ইফতেখার মিলে এরপর বন্যা বইয়ে দেন বাউন্ডারির।

৯ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮৯ রান করেন সাকিব, শেষ ৩৯ রান তিনি করেছেন কেবল ১০ বলে। ৬ চার ও ৯ ছক্কায় ৪৫ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইফতেখার। প্রথম হাফ সেঞ্চুরির জন্য ২৯ বল খেলেনে তিনি, পরের পঞ্চাশ রান আসে ১৬ বলে।

তাদের ১৯২ রানের জুটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটের সেরা জুটি। বরিশালও পায় বড় সংগ্রহ। রংপুরের পক্ষে ৪ ওভারে কেবল ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হারিস রউফ।

বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুর রাইডার্সের। ৩ চারে ১৮ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান রনি তালুকদার। তিনি হন রান আউট। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার সায়েম আয়ুবী বোল্ড হন মিরাজের বলে, ১৮ বলে করেন ১৮ রান।

ওই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি রংপুর। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন শামীম, ২৩ বল খেলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় এই রান করেন তিনি। এছাড়া ৬ চারে ১৮ বলে ৩১ রান করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাটে ২৪ বলে আসে ৩৩ রান।

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুরকে উড়িয়ে দিলো সাকিবের বরিশাল

আপডেট সময় : ১০:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভিনি, ভিডি, ভিসি এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রে যেন কথাটা হুবহু মিলে যাচ্ছে। ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে ম্যাচ খেলে ঢাকায় ছুটেছিলেন পরিবারের কাছে। পরিবারকে সময়, যুক্তরাষ্ট্রে বিদায় ও ব্যক্তিগত কাজ সেরে আজ সকালেই আবার ফিরেছেন বন্দরনগরীতে।

রাতে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ম্যাচ। মাঠে নেমেই আগুণে ফর্মে ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক। সবশেষ ম্যাচে ৮১ রান করেছিলেন ৪৫ বলে। ৪৩ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৯। আগ্রাসন বাড়িয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। ৯ চার ও ৬ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি বলে দেয় বড় কিছুর আশায় এখনো ক্ষুধার্থ বাংলাদেশের সুপারস্টার।

সাকিবের সঙ্গে একই মঞ্চে ঝড় তোলেন ইফতেখার আহমেদ। ৪৫ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬ চার ও ৯ ছক্কায় পেয়ে যান তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার।

ফরচুন বরিশালের অর্ধেক কাজ সেরে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদ। দুজন মিলে গড়লেন। এর মধ্যে একজন পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। জবাব দিতে নেমে রংপুর রাইডার্স শুরুতেই হারিয়ে ফেললো বেশ কয়েকটি উইকেট। শেষদিকে শামীম হাসানের ব্যাটে রান এলেও পায়নি জয়ের দেখা।

২৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য, টি-টোয়েন্টিতে তাড়া করা তো প্রায় অসম্ভবই। রংপুর রাইডার্স তাড়া করতে পারলোও না। হারলো বড় ব্যবধানে। রংপুরকে ৬৭ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানটা আরও শক্ত করেছে সাকিব আল হাসানের দল। সাকিবদের বড় রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৭১ রানে থামে শোয়েব মালিকের দল। লজ্জাটা আরও বড় হতে পারতো। ৭৮ রানেই যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছিল তারা।

বিশ্ব রেকর্ড গড়া ম‌্যাচে ইফতেখার-সাকিবের তাণ্ডব, জয় বরিশালের

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বরিশাল কাছে ৬৭ রানে হেরেছে রংপুর। আগে ব্যাট করে চার উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রানের সংগ্রহ গড়ে ফরচুন বরিশাল। বিপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের সংগ্রহ এটি। জবাব দিতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭১ রানের বেশি করতে পারেনি রংপুর।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম চার ওভারে ৩০ রান তুলে বরিশাল। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলেই এনামুল হক বিজয়ের উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ। সমান ১ চার ও ছক্কায় ৮ বলে ১৪ রান করে সায়েম আয়ুবীর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান তিনি। ওই ওভারেই আরও একটি উইকেট তুলে নেন রউফ। এবার ৩ বলে ০ রান করা ইবরাহিম জাদরানের দারুণ এক ক্যাচ নেন নাঈম শেখ।

পরের ওভারে এসে আবারও জোড়া উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ষষ্ঠ ওভারে প্রথমে ২০ বলে ২৪ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজের উইকেট নেন তিনি। এরপর মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরত যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৪৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বরিশাল।

কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সাকিব আল হাসান ও ইফতেখার আহমেদ ঝড় তুলেন রীতিমতো। এর মধ্যে ইফতেখারের ক্যাচ ফেলেন রনি তালুকদার। সাকিব-ইফতেখার মিলে এরপর বন্যা বইয়ে দেন বাউন্ডারির।

৯ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৩ বলে ৮৯ রান করেন সাকিব, শেষ ৩৯ রান তিনি করেছেন কেবল ১০ বলে। ৬ চার ও ৯ ছক্কায় ৪৫ বলে ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন ইফতেখার। প্রথম হাফ সেঞ্চুরির জন্য ২৯ বল খেলেনে তিনি, পরের পঞ্চাশ রান আসে ১৬ বলে।

তাদের ১৯২ রানের জুটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম উইকেটের সেরা জুটি। বরিশালও পায় বড় সংগ্রহ। রংপুরের পক্ষে ৪ ওভারে কেবল ৩১ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হারিস রউফ।

বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি রংপুর রাইডার্সের। ৩ চারে ১৮ বলে ১৮ রান করে সাজঘরে ফেরত যান রনি তালুকদার। তিনি হন রান আউট। আরেক উদ্বোধনী ব্যাটার সায়েম আয়ুবী বোল্ড হন মিরাজের বলে, ১৮ বলে করেন ১৮ রান।

ওই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি রংপুর। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন শামীম, ২৩ বল খেলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় এই রান করেন তিনি। এছাড়া ৬ চারে ১৮ বলে ৩১ রান করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। মোহাম্মদ নাওয়াজের ব্যাটে ২৪ বলে আসে ৩৩ রান।